Mountain View
হাতেম আলী কলেজ অধ্যক্ষের ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ দূর্নীতি ঢাকতে লবিং করছে অধ্যক্ষ সচীন রায়


প্রকাশ : জুন ১৮, ২০১৬ , ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
প্রথম সংবাদ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে অধ্যক্ষের দূর্নীতি নিয়ে ব্যপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। রক্ষক যখন ভক্ষকের ভুমিকায় এমন মন্তব্যই করছেন অনেকে। ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে গোটা বরিশাল শহরে সাড়া তুলেছেন হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সচীন রায়। শুক্রবার শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পরে পালিয়ে যাওয়া শিক্ষক গতকাল শনিবার কলেজে ক্যম্পাসে পা রাখেনি। তবে ঘুরেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে। তবে দূর্নীতির প্রশ্রয় দিতে রাজি নন দলের র্শীষ নেতারাও। এদিকে অধ্যক্ষের দূর্নীতিতে ফুশে উঠেছে হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবী একজন শিক্ষক হয়ে কিভাবে কলেজের শিক্ষার্থীদের কষ্টের টাকা আত্মসাৎ করে অধ্যক্ষ ! অপরদিকে বরিশাল সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষের দূর্নীতি নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে সমআলোচনার ঝড় উঠেছে। অচিরে এমন দূর্নীতি নিয়ে ঢাকা থেকে তদন্ত দল আসবে বলে জানিয়েছে একটি সুত্রে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত দল তদন্ত করবে বলে জানাগেছে। কলেজ সুত্রে পাওয়া তথ্যে যানাযায়, এবছর ২০১৬ দ্বাদশ শ্রেণীর ভর্তি ইতমধ্যে শুরু হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষের দূর্নীতির বিষয়টি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করা হচ্ছে। আরো জানাযায় মাত্র ৭মাস পূর্বে বরিশাল সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে যোগদান করেন অধ্যক্ষ প্রফেসর সচীন রায়। যোগদানের পর পরই শুরু হয় নানা কৌশলে অর্থ আত্মসাৎ। যা হঠাৎ করেই বেরিয়ে আসতে শুরু করে। নিয়ের পকেট ভারী করতে শচীন রায় একের পর এক বিভিন্ন খাত থেকে টাকা উত্তোলন শুরু করে। প্রতিটি কাজেই তার অর্থ আত্মসাৎ করার খবর পাওয়া যায়। জানাযায়, কলেজের কয়েকজন শিক্ষকের সাথে যোগসাজশ করে তিনি ওই টাকা আত্মসাৎ করেন। একটি সুত্র জানায়, সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ হোস্টেলে ৬ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিলো। সম্প্রতি অধ্যক্ষ কলেজ ফান্ড থেকে ৬ লাখ টাকা নিয়েছেন বিদ্যুৎ বিল বাবদ। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কোন বকেয়া পরিশোধ হয়নি। কলেজের কাগজপত্রে ৬ লাখ টাকা পরিশোধ কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে পরিশোধ হয়নি। শুধু তাই নয় বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ হানিফের জন্ম দিন পালন বাবদ ১ লাখ টাকার ভাউচার করা হয়েছে। ডিপার্টমেন্টে কম্পিউটার সরবরাহ করা হয়েছে ৪ লাখ টাকা কিন্তু বিল নেয়া হয়েছে ৮ লাখ টাকা। বিজ্ঞানাগারের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার পুরনো যন্ত্রপাতি কোন প্রকার দরপত্র ছাড়াই বিক্রী করা হয়েছে। ২০১৫ সালের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার নামে ৭ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে ফান্ড থেকে। শুধু তাই নয় ব্যবহারিক পরীক্ষায় অন্য সব কলেজে ৫০ টাকা করে আদায় করা হলেও হাতে আলী কলেজে ২শ টাকা নেয়া হয়। কলেজ ও হোস্টলে রং করা ও বেঞ্চ তৈরী বাবদ এক লাখ ৫৩ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোথাও রংয়ের ছোঁয়া লাগেনি। সবচেযে আশ্চর্যের বিষয় হলো হোস্টেলের রান্না ঘরের জন্য ক্রয়কৃত একটি চুলার মূল্য দেখানো হয়েছে ১২ হাজার টাকা।এভাবে ভূয়া ভাইচারের মাধ্যমে কলেজ অধ্যক্ষ ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কলেজ শিক্ষক মাহামুদ হোসাইন, নাজমুল হক, এইচ এম বাহাউদ্দীন এবং সোহরাব হোসেন হাওলাদারের যোগসাজশে ওই টাকা আত্মসাৎ করা হয়। মাহামুদ হোসাইন মহানগর জামায়াতের আমীর মুয়াযযম হোসাইন হেলালের আপন ভাই। তার নির্দেশেই চলছে কলেজ। হোসাইনের কথায় ওঠবস করেন অধ্যক্ষ সচীন কুমার রায়। এর পুর্বে পিরোজপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালীন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে সচীনের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাকে বদলি করা হয় বরিশাল হাতেম আলী কলেজে। এ  নিয়ে কলেজে বিক্ষোভ করেছে সাধারন শিক্ষার্থীরা।তাদের অভিযোগ সাধারন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের পকেট ভরছেন। এদিকে আজ বরিশাল সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করবে বলে জানায় কলেজ সুত্র।



পুরোন সংবাদ দেখুন

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশকঃ মোহাম্মাদ রাজীব ।
সম্পাদকঃ মোস্তফা জামান (মিলন)
প্রধান নির্বাহী সম্পাদকঃ এ এম জুয়েল ।
মোবাইলঃ ০১৭১১৯৭৯৮৪৩
prothomsangbadbd@gmail.com

অফিসঃ প্রথম সংবাদ ডট কম
এক্সট্রিম আনলক, ফাতেমা সেন্টার
দোকান নং ৩১৪, ৪র্থ তলা (বিবির পুকুর পশ্চিম পাড়)
৫২৩ সদর রোড, বরিশাল - ৮২০০
বাংলাদেশ ।

© প্রথম সংবাদ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি Design & Developed By: Eng. Zihad Rana
Copy Protected by ENGINEER BD NETWORK