Mountain View
৫ বছরেও চালু হয়নি বরিশাল বিশ্ব বিদ্যালয়ের আবাসিক হল


প্রকাশ : আগস্ট ১৭, ২০১৬ , ২:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রথম সংবাদ ডেস্ক

শাওন খান ॥ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরেও আবাসিক কোনো হল চালু না হওয়ায় চরম আবাসন সংকটে আছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের অধীনে ১৮টি বিভাগে শিক্ষার্থী প্রায় পাঁচ হাজার। ছাত্রদের জন্য দুটি এবং ছাত্রীদের জন্য একটি আবাসিক হল ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু এখনও তা অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এ ছাড়া আরও ৬টি ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ- শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের গাফিলতিতে নির্মাণকাজে অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের ভাষ্য- ঠিকাদার দিয়ে কাজ করালে একটু সমস্যা থাকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি পাঁচতলা ভবনে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। পাশে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে পাঁচতলা অপর একাডেমিক ভবন। ছাত্রদের জন্য বঙ্গবন্ধু ও শেরেবাংলা হল এবং ছাত্রীদের জন্য শেখ হাসিনা হল- এই তিনটি হলের নির্মাণকাজ শেষ হলেও শিক্ষার্থীরা উঠতে পারছে না। ফাঁকা মাঠে ভবনগুলো করায় নিচের দিকে মাটি ফেলতে হবে। নয়তো কোনোভাবেই এগুলোতে ওঠার সুযোগ নেই। যদিও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য- তিনটি হল চালু হলেও আবাসন সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। এগুলোতে মাত্র দেড় হাজার শিক্ষার্থী থাকতে পারবে। এ ছাড়া গ্রন্থাগার ভবন, ভিসি ভবন, ক্যাফেটেরিয়া ও ডরমিটরির কাজও অসম্পূর্ণ রয়েছে। এগুলোর কাজ অনেকটা এগোলেও কবে শেষ হবে তা জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পরও নির্মাণ করা হয়নি নির্দিষ্ট সীমানাপ্রাচীর। এতে অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে ক্যাম্পাসসহ একাডেমিক ভবন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, একটি একাডেমিক ভবন ও তিনটি আবাসিক হল ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু এখনও সেগুলো অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অন্য অসম্পূর্ণ ভবনগুলো হল- গ্রন্থাগার ভবন, দুটি ডরমিটরি ভবন, ক্যাফেটেরিয়া ও ভিসি ভবন। এগুলোও দেড় বছর আগে হস্তান্তর করার কথা ছিল। আবাসিক হল না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে মেস বা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়। মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মিরাজ জানান, ভাড়া বাসায় নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বাড়িওয়ালাদের বিড়ম্বনার মুখেও পড়তে হয়। সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৬ ছাত্রী অভিযোগ করেন, আবাসিক হলগুলো চালু না হওয়ায় এভাবে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে গিয়ে প্রতি মাসে অনেক টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লায় থাকতে গিয়ে অনেক সময় হয়রানি ও নানা বিপত্তির মধ্যে পড়তে হয়। তার ওপর যাতায়াতের ভোগান্তি তো রয়েছেই। নগরের রুপাতলী এলাকার ফেরদৌসী ভিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী ভাড়া থাকেন। এখানে থাকা লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত জানুয়ারিতে হল খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে আবার বলা হয়েছিল জুনে। আসলে কবে উঠতে পারব জানি না।’এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এসএম ইমামুল হক বলেন, ‘আমি যোগদানের পর থেকেই সব নির্মাণকাজের তদারক করছি যাতে দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।’ শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের গাফিলতিতে কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। আছে শ্রেণীকক্ষ সমস্যা। সীমানাপ্রাচীর নেই। সব মিলিয়ে সমস্যার মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে। এখান থেকে দ্রুত উত্তরণ হওয়া দরকার। এ ছাড়া আবাসিক হলগুলোর সামনের রাস্তা নির্মাণ হলেই শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবে। হল ৩টি চালু হলে প্রতি হলে ৫শ’ জন করে মোট দেড় হাজার শিক্ষার্থী হলে উঠতে পারবে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমস্যা চলতি মাসের মধ্যে কিছুটা দূর হবে।
সুত্র যুগান্তর



পুরোন সংবাদ দেখুন

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশকঃ মোহাম্মাদ রাজীব ।
সম্পাদকঃ মোস্তফা জামান (মিলন)
প্রধান নির্বাহী সম্পাদকঃ এ এম জুয়েল ।
মোবাইলঃ ০১৭১১৯৭৯৮৪৩
prothomsangbadbd@gmail.com

অফিসঃ প্রথম সংবাদ ডট কম
এক্সট্রিম আনলক, ফাতেমা সেন্টার
দোকান নং ৩১৪, ৪র্থ তলা (বিবির পুকুর পশ্চিম পাড়)
৫২৩ সদর রোড, বরিশাল - ৮২০০
বাংলাদেশ ।

© প্রথম সংবাদ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি Design & Developed By: Eng. Zihad Rana
Copy Protected by ENGINEER BD NETWORK