Mountain View
সিলেটের অসমাপ্ত অভিযান , উদ্ধার ৭৮ জন


প্রকাশ : মার্চ ২৫, ২০১৭ , ৯:০১ অপরাহ্ণ
প্রথম সংবাদ ডেস্ক

অসমাপ্ত অভিযান , উদ্ধার ৭৮ জন

অভিযান এখনও অসমাপ্ত। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা শিববাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় জিম্মি হয়ে পড়া ৭৮ জনকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।

শনিবার সকাল ৯টায় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ শুরুর নয় ঘণ্টা পর সাড়ে ৬টার দিকে উপস্থিত সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান সেনা সদর দপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান।

ভেতরে জঙ্গিদের অবস্থান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের অভিযান এখনও চলছে।

রাতেও অভিযান চলবে কি না কিংবা আর কতক্ষণ ধরে অভিযান চলতে পারে- সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা দেননি সেনা কর্মকর্তা ফখরুল।

প্রাথমিকভাবে জিম্মিদের উদ্ধারকে তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।


ফখরুল আহসানের ব্রিফিংয়ের পর ৩০ জন পুরুষ, ২৭ জন নারী ও ২১টি শিশু বেরিয়ে আসেন; যারা বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় নয় ঘণ্টার বেশি সময় ছিলেন।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঘিরে রাখা ওই এলাকায় একই মালিকের চারতলা ও পাঁচতলা দুটির বাড়ি থেকে এই জিম্মিদের দুপুরে উদ্ধারের পর কাছের একটি ভবনে জড়ো করে রাখা হয়েছিল।

তার একটি বাড়ির নিচতলায় এক জঙ্গি দম্পতি রয়েছেন, ধারণা থেকে পুলিশ অভিযান শুরু করেছিল বৃহস্পতিবার রাতে। এরপর যায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এবং সোয়াট; সবশেষে অভিযানের নেতৃত্ব নেয় সেনাবাহিনী।

ব্রিগেডিয়ার জেনোরেল ফখরুল বলেন, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ঘটনাটি দেখে সোয়াটকে ডেকেছিল, সোয়াট এসে দেখে এই অভিযান চালানো তাদের পক্ষে সম্ভবপর নয়। তখন সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়।

সোয়াট শুরুতে এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন স্প্রিং রেইন’। কিন্তু সেনাবাহিনী নেতৃত্ব নেওয়ার পর অভিযানের নাম বদলে হয় ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরুল কায়েস।

র‌্যাব-পুলিশ প্রায় ৩০ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হয় সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের অভিযান। তার আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপস্থিত সংবাদকর্মীসহ সবাইকে এক কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়।

তখন আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন টোয়াইলাইট পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন।”

দুপুর ২টার আগ পর্যন্ত দুই বার গুলির শব্দ পাওয়া গেলেও এরপর মুহুর্মুহু গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল ভেতর থেকে। বেলা ২টার পরপরই দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর পৌনে এক ঘণ্টায় অন্তত ছয়বার বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

ঘণ্টা দুয়েক বিরতি দিয়ে বিকাল ৫টায় আবার দুটি বোমার শব্দ পাওয়া যায়। এরপর শুরু হয় মুহুর্মুহু গুলি, যা ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলে। তারপর গুলি ও বোমার শব্দ থেমে যাওয়ার পর ব্রিফিংয়ে আসেন সেনা কর্মকর্তা ফখরুল আহসান।

তিনি বলেন, ভেতরে থাকা জঙ্গিরাই এই আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণ ঘটায়।

ভবনে কতজন জঙ্গি আছে-সাংবাদিকদের প্রশ্নে ব্রিগেডিয়ার আহসান বলেন, তারা ভবনের উপর নিচ-করছে।

অর্থাৎ জঙ্গিরা একটি তলায় থাকছে না, স্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন তলায় থাকছে।

অভিযান রাতেও চলবে কি না- প্রশ্ন করা হলে ব্রিগেডিয়ার ফখরুল বলেন, সেটা অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কমান্ডারই ঠিক করবেন।

বেলা আড়াইটার দিকে তিনজন সেনা সদস্যকে আহত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

বেলা ২টায় মুহুর্মুহু গুলি-বোমার আওয়াজ শোনার আগে অ্যাম্বুলেন্সটি পুলিশ বেষ্টনি অতিক্রম করে ভেতরে ঢোকানো হয়েছিল।

টান টান উত্তেজনার মধ্যে একটি দিন ও একটি রাত পার করে বৃষ্টির মধ্যে সকালে সেনাবাহিনীর এই চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়। ফায়ার ব্রিগেডের দুটি গাড়ি রাতেই ঘটনাস্থলে এনে রাখা হয়। সকালে সাঁজোয়া যান ও অ্যাম্বুলেন্সও আসে।

এলাকাটি এখনও ঘিরে রেখেছে র‌্যাব-পুলিশ; সেনাসদস্যরা বাইরেও রয়েছেন।

অভিযানের খবর সরাসরি সম্প্রচার না করতে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত বছরের মাঝামাঝিতে গুলশানে অভিযানে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিল। এরপর কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, র‌্যাব, সোয়াট বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালালেও এই প্রথম সেনাবাহিনী ডাকা হল।

ভেতরে অবস্থানরত জঙ্গি কারা, কোন সংগঠনের, তাদের শক্তিমত্তা কেমন-সে বিষয়ে কোনো ধারণা সেনাবাহিনী কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানাননি।



পুরোন সংবাদ দেখুন

প্রকাশকঃ মোহাম্মাদ রাজীব ।
সম্পাদকঃ মোস্তফা জামান (মিলন)
প্রধান নির্বাহী সম্পাদকঃ এ এম জুয়েল ।
মোবাইলঃ ০১৭১১৯৭৯৮৪৩
prothomsangbadbd@gmail.com

অফিসঃ প্রথম সংবাদ ডট কম
এক্সট্রিম আনলক, ফাতেমা সেন্টার
দোকান নং ৩১৪, ৪র্থ তলা (বিবির পুকুর পশ্চিম পাড়)
৫২৩ সদর রোড, বরিশাল - ৮২০০
বাংলাদেশ ।

© প্রথম সংবাদ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি Design & Developed By: Eng. Zihad Rana
Copy Protected by ENGINEER BD NETWORK