Mountain View
কলাপাড়ার আলেয়া ক্লিনিকে অন্তঃসত্বা এক গৃহবধুর মৃত্যু ॥ আটক দুই


প্রকাশ : জুন ১০, ২০১৭ , ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রথম সংবাদ ডেস্ক

কলাপাড়া প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের আলেয়া ক্লিনিকে তিন সন্তানের জননী সাড়ে চার মাসের অন্তঃসত্বা গৃহবধু জুলেখা বেগম’র (৩২) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ নিহত গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ক্লিনিকের মালিকের ভাই শফিকুল ইসলাম ও নার্স মমতাজ বেগমকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ, এলাকাবাসী ও কলাপাড়া হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে আলেয়া ক্লিনিকের নার্স মমতাজ বেগম মূমুর্ষ অবস্থায় জুলেখা বেগমকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মো. আশরাফুল ইসলাম রোগীকে পরীক্ষা করে দেখেন হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। এখবর শুনে হাসপাতাল থেকে কোন ডেথ সার্টিফিকেট না নিয়েই মৃতদেহ নিয়ে সটকে পড়ে নার্স মমতাজ। খবর পেয়ে পুলিশ আলেয়া ক্লিনিক থেকে নিহত গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে। কলাপাড়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুল ইসলাম জানান, তারা রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার আগেই পরীক্ষা করে দেখেন রোগী মারা গেছেন। কি কারনে মারা গেছে তার হিষ্ট্রি পর্যন্ত তাদের জানান নি ওই মৃতদেহের সাথে থাকা নার্স মমতাজ। এমনকি হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট না নিয়ে তাদের না জানিয়েই মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিহত গৃহবধূর বাড়ি কলাপাড়ার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের আরামগঞ্জ গ্রামে। নিহত জুলেখার স্বামী আলাউদ্দিন পুলিশকে জানায়, তার বাড়ি আরামগঞ্জ গ্রামে। তিন সন্তানের পরে ফের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে অসচেতন এ দম্পতি গর্ভপাত করাতে আসেন। কেউ রাজী না হলেও ওই ক্লিনিকে গেলে নার্স মমতাজ দশ হাজার টাকায় অবৈধ গর্ভপাত ঘটানোর জন্য দাবি করেন। এক পর্যায়ে আড়াই হাজারে রফা হয়। ক্লিনিকের শয্যায় নেয়ার কিছুক্ষণ পরেই ক্লিনিকের কর্মীরা হন্তদন্ত হয়ে জুলেখার নিথড় দেহ মাইক্রোতে তুলতে দেখেন। পরে জানতে পারেন জুলেখা নেই। মারা গেছে। উল্লেখ্য ইতিপুর্বেও ওই ক্লিনিকে এক রোগীর মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। মমতাজ নিজেকে প্যরামেডিক কোর্সধারী বলে দাবি করেছেন। এভাবে রোগীদের বেঘোড়ে প্রাণ গেলেও যেন দেখার কেউ নেই। আর যে কারণে প্রাণ দিতে হয়েছে জুলেখার মতো এক কৃষকবধুকে। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাঃ আব্দুল মান্নান জানান, সাধারণত আড়াই মাসের পরে গর্ভপাত (এমআর) করানোর সুযোগ নেই।  আলেয়া ক্লিনিকের মালিক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, রোগী যখন মারা গেছেন তখন তিনি পটুয়াখালীতে ছিলেন। কিভাবে, কি কারনে রোগী মারা গেছে তা তিনি জানেন না। এমনকি রোগীর কোন হিস্ট্রিও লেখা নেই। সে গর্ভবতী ছিলো কিনা তা তিনি বলতে পারবেন না। কলাপাড়া থানার ওসি জিএম শাহনেওয়াজ জানান, আলেয়া ক্লিনিক থেকে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছেন। এ ঘটনায় ক্লিনিক মালিকের ভাই শফিকুল ইসলাম ও নার্স মমতাজ বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিহত গৃহবধুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালীর মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এ ঘটনায়  মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।



পুরোন সংবাদ দেখুন

প্রকাশকঃ মোহাম্মাদ রাজীব ।
সম্পাদকঃ মোস্তফা জামান (মিলন)
প্রধান নির্বাহী সম্পাদকঃ এ এম জুয়েল ।
মোবাইলঃ ০১৭১১৯৭৯৮৪৩
prothomsangbadbd@gmail.com

অফিসঃ প্রথম সংবাদ ডট কম
এক্সট্রিম আনলক, ফাতেমা সেন্টার
দোকান নং ৩১৪, ৪র্থ তলা (বিবির পুকুর পশ্চিম পাড়)
৫২৩ সদর রোড, বরিশাল - ৮২০০
বাংলাদেশ ।

© প্রথম সংবাদ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি Design & Developed By: Eng. Zihad Rana
Copy Protected by ENGINEER BD NETWORK