Mountain View
পানি চাইতে চাইতে নেতিয়ে পড়ে সাগর


প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ , ১২:১৬ অপরাহ্ণ
প্রথম সংবাদ ডেস্ক

ভোরে সাগরকে চুরির অপবাদ দিয়ে আক্কাস আলী নিজেই খুঁটির সঙ্গে বাঁধেন। প্রথমে আক্কাস বাঁশ দিয়ে পায়ে ও কাঁধে পেটাতে শুরু করেন। পরে হ্যাচারির শ্রমিক কাইয়ুমকে মারতে বলে আক্কাস পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। বারবার পানি খেতে চাইছিল সাগর। কিন্তু দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে সে নেতিয়ে পড়ে।

কথাগুলো ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শীর।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটিতে বেঁধে মো. সাগর (১৬) নামের ওই কিশোরকে গত সোমবার ভোরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সাগর পরিত্যক্ত সামগ্রী কুড়িয়ে বিক্রি করত। তার বাবা প্রসাধনসামগ্রী ফেরি করে বিক্রি করেন। ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যে নারী, শিশুসহ বেশ কয়েকজন সেখানে হাজির হন। সাগরকে ছেড়ে দিতে তাঁরা অনুরোধ করলেও হত্যাকারীরা কোনো কথা কানে তোলেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী ওই নারী বলেন, ‘মারধর দেখে আমাদের চোখে পানি চলে আসে। কাইয়ুমকে আমরা বলি আর মাইরো না, মইরা যাইব। এ কথা শুনে আক্কাস ধমক দিয়ে বলেন, মরলে মরব, তোমাদের কী? আমার অনেক টাকা আছে। মরলে আমি পুলিশ কিইন্যা ফেলব।’

ওই নারী বলেন, ‘মারধরের সময় সাগর আকুতি করছিল, আমি চুরি করি নাই। আমারে ছাইড়া দেন। আমারে একটু পানি খাইতে দেন। সাগরকে পানি দেওয়া হয়নি।’

নির্যাতনের ঘটনার ১ মিনিট ৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ভিডিতে দেখা যায়, কাইয়ুম মোটা একটা লাঠি দিয়ে সাগরকে পেটাচ্ছেন। সহ্য করতে না পেরে সাগরের শরীর নেতিয়ে পড়ছে। আক্কাস আলী ওই সময় সাগরকে অশ্লীল গালিগালাজ করেন।

ওই সময় প্রতিবেশী দুজন পুরুষ ঘটনাস্থলের খুব কাছে থেকে মারধরের দৃশ্য দেখেন। তাঁদের একজন বলেন, ‘আক্কাস বদমেজাজি মানুষ। টাকার গরমে এলাকার গরিব মানুষরে মানুষ মনে করে না। ভয়ে আমি কিছু বলতে পারি নাই।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় এক ঘণ্টা সময় ধরে সাগরের ওপর নির্মমভাবে নির্যাতন চালানো হয়।

গাউছিয়া হ্যাচারির কাছে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে গাজীপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে কথা হয় আরও কয়েকজন এলাকাবাসীর সঙ্গে। তাঁরা জানান, মাস দু-এক আগে আক্কাস মাছ ধরার জাল নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে একটি শিশুকে প্রকাশ্যে ওই হ্যাচারিতে মারধর করেন।

এ ঘটনায় সাগরের বাবা বাদী হয়ে আক্কাস আলী ও তাঁর ভাই হাসু মিয়া, ছাত্তর, জুয়েল সোহেল ও হ্যাচারির শ্রমিক কাইয়ুমকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার রাতে রিয়াজ উদ্দিন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। নির্যাতনের ছবিতে রিয়াজ উদ্দিনকে সাগরের চুলের মুঠি ধরে থাকতে দেখা গেছে। আজ বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মূল আসামি আক্কাস ও কাইয়ুমসহ এজাহারভুক্ত সব আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় অনেকেই।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটি গতকাল সকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে ডিবি অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশের কোনো শিথিলতা নেই। আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।’



পুরোন সংবাদ দেখুন

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশকঃ মোহাম্মাদ রাজীব ।
সম্পাদকঃ মোস্তফা জামান (মিলন)
প্রধান নির্বাহী সম্পাদকঃ এ এম জুয়েল ।
মোবাইলঃ ০১৭১১৯৭৯৮৪৩
prothomsangbadbd@gmail.com

অফিসঃ প্রথম সংবাদ ডট কম
এক্সট্রিম আনলক, ফাতেমা সেন্টার
দোকান নং ৩১৪, ৪র্থ তলা (বিবির পুকুর পশ্চিম পাড়)
৫২৩ সদর রোড, বরিশাল - ৮২০০
বাংলাদেশ ।

© প্রথম সংবাদ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি Design & Developed By: Eng. Zihad Rana
Copy Protected by ENGINEER BD NETWORK