Mountain View
ব্যাংক ঋণে প্রবেশাধিকার নেই নারী কৃষকের


প্রকাশ : জানুয়ারি ২৫, ২০১৬ , ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
প্রথম সংবাদ ডেস্ক

 

সোহানুর রহমান: কর্মজীবী নারীর হিসাব মতে, কৃষি খাতের ২০টি কাজের মধ্যে ১৭টি কাজে নারীর অংশগ্রহণ থাকলেও; কৃষিতে নারীর স্বীকৃতি নেই। বীজ সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ফসল উৎপাদন, সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে গ্রামীণ নারীর সিংহভাগ অংশগ্রহণ থাকলেও কৃষক হিসেবে তাদের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন হয় না। কৃষিঋণ ও কৃষকের জন্য দেয়া সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলো থেকেও নারী কৃষকরা বঞ্চিত।

‘গ্রামীণ জীবনযাত্রায় স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচার অভিযান’র ২০১২ সালের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের মোট নারী শ্রমশক্তির পরিমাণ ১ কোটি ৬২ লাখ। এর মধ্যে ৭৭ শতাংশ গ্রামীণ নারী। যার ৬৮ শতাংশ কৃষি কাজে, পোলট্রি, বনায়ন ও মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্বব্যাংকের ২০০৮ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃষি খাতে নিয়োজিত পুরুষের চেয়ে নারীর অবদান ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া কর্মক্ষম নারীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োজিত আছে ‘কৃষি কাজে’। কর্মজীবী নারীর সভাপতি ও সংসদ সদস্য শিরীন আক্তার বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোই করেন নারী শ্রমিকরা। অথচ তাদের স্বীকৃতি নেই, সরকারি সুযোগ-সুবিধাও তারা পাচ্ছেন না। এটি দুর্ভাগ্যজনক।

 

‘চারা করা থাইক্যা কোন কামটা না করি? বেডা মাইনষে খালি তোলা ফসল বাজারে নিয়া বেইচ্যা ট্যাহা পকেডে ঢুকায়। হেরপর হেরাই কৃষক, আমরা না। কার্ড পাইবে হেরা, ঋণ পাইবে হেরা, ব্যাংক একাউন্টের সুযোগ পাইবে হেরা। আমরা তো মাইয়া মানুষ। কৃষি কাজ কইরাও কৃষক না। অনেক সময় পুরুষের চাইয়াও বেশি কাজ করি; কিন্তু সরকার আমাদের কোনো সুযোগ দেয় না। ব্যাংকগুলোও ঋণ দেয় না। উল্টা এনজিও থাইক্যা ঋণ নেবার কয়।’ না পাওয়ার তিক্ততায় এমন ক্ষোভই ঝরে পড়ল ফরিদপুরের নারী কৃষক হাজেরা বেগমের কণ্ঠে।

নারী কৃষকদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন কর্মজীবী নারী’র তথ্য অনুযায়ী, দেশের মাত্র ৪ শতাংশ নারী কৃষকের নিজস্ব জমি আছে। নিজস্ব জমি না থাকায় নারী কৃষকরা সরকারি ভর্তুকি ও সহায়তা পান না। শুধু তাই নয়, পেশাগত স্বীকৃতি না থাকায় ব্যাংকঋণ সুবিধাও পান না তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, সদ্য বিদায়ী ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ টাকা ৫০ টাকা ও ১০০ টাকার ব্যাংক একাউন্ট খোলেছেন ১৩ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৮ কৃষক। যাদের সবাই সরকারি ভর্তুকি পেয়েছেন। অন্যদিকে ১০ টাকার একাউন্ট খোলা হয়েছে ৪০ হাজার ৫৩৭টি। কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে ২১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। ওই ব্যাংক একাউন্টের আওতায় অতি দরিদ্র নারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ঋণ বা ভুর্তকি পাননি কোনো নারী কৃষক।

প্রান্তিক কৃষক জাহেরা বেগম ঋণের জন্য ঘুরেছেন ব্যাংকের দ্বারে দ্বারে। কুড়িগ্রাম জেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের গারুহারা গ্রামের জাহেরা বেগমের নিজের কোনো জমি নেই। অন্যের ৯৬ শতক জমিতে বর্গাচাষ করে কোনোরকমে জীবন চালান। পাঁচ সদস্যের পরিবার চালাতে প্রতিনিয়তই হিমশিম খেতে হয় তাকে। ব্যাংকঋণ নিয়ে কাজ করে সংসারের উন্নয়ন করতে চেয়েছিলেন তিনি। স্থানীয় ব্যাংকগুলোতে যোগাযোগ করলে তাকে পরামর্শ দেয়া হয়, স্থানীয় একটি এনজিও থেকে কৃষিঋণ গ্রহণের জন্য। জাহেরা বেগম বলেন, সরকার কেন শুধু পুরুষ কৃষকদের কার্ড দেবে, তাদেরই ঋণ দেবে? কেন নারী কৃষকদের কথা চিন্তা করা হয় না? এদেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রী, এমনকি খোদ কৃষিমন্ত্রীও নারী। তাহলে নারী কৃষকরা কেন ঋণ, কার্ড সুবিধা থেকে বাদ যাবে?

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের দেশে এখনো নারী কৃষকদের পেশার স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। এ ছাড়া জমির মালিকানা না থাকায় তারা ঋণ পান না। তবে বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দেশে নারী কৃষকদের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এখন সময় এসেছে স্বীকৃতি দেয়ার। কারণ মায়ের অবদান স্বীকৃতি না দেয়া হলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।



পুরোন সংবাদ দেখুন

প্রকাশকঃ মোহাম্মাদ রাজীব ।
সম্পাদকঃ মোস্তফা জামান (মিলন)
প্রধান নির্বাহী সম্পাদকঃ এ এম জুয়েল ।
মোবাইলঃ ০১৭১১৯৭৯৮৪৩
prothomsangbadbd@gmail.com

অফিসঃ প্রথম সংবাদ ডট কম
এক্সট্রিম আনলক, ফাতেমা সেন্টার
দোকান নং ৩১৪, ৪র্থ তলা (বিবির পুকুর পশ্চিম পাড়)
৫২৩ সদর রোড, বরিশাল - ৮২০০
বাংলাদেশ ।

© প্রথম সংবাদ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি Design & Developed By: Eng. Zihad Rana
Copy Protected by ENGINEER BD NETWORK