Mountain View
ব্যাংকের এডি শাখা নেই ২৮ জেলায়


প্রকাশ : জানুয়ারি ২৬, ২০১৬ , ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ
প্রথম সংবাদ ডেস্ক

পঞ্চগড় জেলার মোতালেব আহমেদের ছেলে  পড়াশোনা করেন অস্ট্রেলিয়ায়। এজন্য তিন মাস পর পর সেমিস্টার ফি পাঠাতে ব্যাংকে যেতে হয় মোতালেবকে। তবে পঞ্চগড় জেলার কোনো ব্যাংক শাখা তাকে এ সেবা দিতে পারছে না। বাধ্য হয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাকে যেতে হয় দিনাজপুরে।

এভাবে চিকিত্সা ফিসহ সব ধরনের বৈদেশিক লেনদেন করতে ২৮ জেলার বাসিন্দাদের যেতে হচ্ছে অন্য জেলায়। অপরিচিত হওয়ার কারণে ভোগান্তির শিকারও হচ্ছেন কেউ কেউ। সারা দেশে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবসার জন্য ৯৮৬টি অনুমোদিত শাখা (এডি) থাকলেও তা সীমাবদ্ধ ৩৬ জেলার মধ্যে। এতে বাকি জেলার ব্যবসায়ীদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।

এডি শাখা নেই এমন ২৮ জেলা হলো— ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বান্দরবান, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর, রাঙ্গামাটি, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, টাঙ্গাইল, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, মেহেরপুর, নড়াইল, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও নেত্রকোনা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, আগে যেকোনো শাখা অন্য শাখার হয়ে এডি শাখার কাজ করতে পারত। একটা সমস্যা হওয়ায় তা বন্ধ করা হয়েছে। তবে আমরা চাই, সব জেলায় একটি হলেও এডি শাখা থাকুক। এজন্য ব্যাংকগুলোকে দক্ষ কর্মীর পাশাপাশি আবেদন করতে হবে। আমরা এখন এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে উত্সাহিত করছি।

জানা গেছে, এডি শাখার মাধ্যমে সব ধরনের বৈদেশিক লেনদেন সম্পন্ন করতে হয়। আমদানি-রফতানি ছাড়াও নিয়মের মধ্যে দেশের বাইরে অর্থ প্রেরণের কাজও এডি শাখার মাধ্যমে হয়ে থাকে। যেকোনো শাখাকে এডি শাখায় রূপান্তর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক অনুমোদন প্রয়োজন পড়ে। প্রয়োজনীয় লোকবল থাকলেই শাখাকে এডি শাখার অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন বেশির ভাগ জেলা থেকেই রোগীরা চিকিত্সার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। এছাড়া দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার্থেও যাচ্ছেন অনেকে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় আমদানি-রফতানির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী রয়েছেন। ফলে তাদের ব্যাংকিং সেবা নিতে যেতে হচ্ছে অন্য জেলায়।

ইসলামী ব্যাংক পঞ্চগড় শাখার ব্যবস্থাপক আবুল হাসান বলেন, ঋণপত্র খোলার কাজটা আমরা দিনাজপুর শাখার মাধ্যমে করে থাকি। এর বাইরে কেউ চিকিত্সা ফি পাঠানো বা অন্য কোনো বৈদেশিক মুদ্রার সেবার জন্য এলে আমরা দিতে পারি না। তাদের দিনাজপুর যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

দেখা গেছে, শুধু রাজধানী ঢাকায়ই এডি শাখা রয়েছে ৫৪৬টি। এছাড়া চট্টগ্রামে রয়েছে ১৭০টি, নারায়ণগঞ্জে ৪০, সিলেটে ৪০ ও খুলনায় ৩২টি। সবচেয়ে বেশি এডি শাখা রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের ৫৮টি। এছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের এডি শাখা রয়েছে ৪১টি, জনতার ৫৮, রূপালীর ৩০, সোনালীর ৪৬, এবির ৩১, আল-আরাফাহর ২৫, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৪৩, পূবালীর ৩০ ও উত্তরা ব্যাংকের ৪০টি। এর বাইরে ইস্টার্ন, দ্য সিটি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও ব্র্যাক ব্যাংকের ঋণপত্র খোলার কাজ কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সব শাখাই এডির কার্যক্রম চালাতে পারে।

এবি ব্যাংকের মানিকগঞ্জের পারিল শাখার ব্যবস্থাপক আরিফ আহমেদ বলেন, মাত্র দুই মাস আগে শাখার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখনো তেমন চাহিদা পাওয়া যায়নি। যদি কেউ আসে, তবে প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে ঋণপত্র খোলা হবে।

ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান এ প্রসঙ্গে বলেন, এডি শাখার অনুমোদন সহজে পাওয়া যায় না। তাই চাইলেও এডি শাখা খোলা যাচ্ছে না। এছাড়া সব এলাকায় এডি শাখার সেবার চাহিদাও বেশি নয়। ফলে এডি করে ফেললে শাখাটি লোকসানেও চলে যেতে পারে। কারণ এসব শাখা পরিচালনার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকবল প্রয়োজন। তবে কয়েকটি ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সেবা কেন্দ্রীয়ভাবে দেয়ার ফলে সব শাখা থেকেই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। সূত্র:ওয়েব সাইট



পুরোন সংবাদ দেখুন

সর্বাধিক পঠিত

প্রকাশকঃ মোহাম্মাদ রাজীব ।
সম্পাদকঃ মোস্তফা জামান (মিলন)
প্রধান নির্বাহী সম্পাদকঃ এ এম জুয়েল ।
মোবাইলঃ ০১৭১১৯৭৯৮৪৩
prothomsangbadbd@gmail.com

অফিসঃ প্রথম সংবাদ ডট কম
এক্সট্রিম আনলক, ফাতেমা সেন্টার
দোকান নং ৩১৪, ৪র্থ তলা (বিবির পুকুর পশ্চিম পাড়)
৫২৩ সদর রোড, বরিশাল - ৮২০০
বাংলাদেশ ।

© প্রথম সংবাদ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি Design & Developed By: Eng. Zihad Rana
Copy Protected by ENGINEER BD NETWORK