Mountain View
চাই প্রবল ইচ্ছা শক্তি


প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৬ , ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
প্রথম সংবাদ ডেস্ক

ডান হাতটি পোলিওর কারনে একদম অচল। তার যাবতীয় কাজ করতে হয় বাম হাত দিয়ে। তারপরও তার একাগ্রতা আর ধৈর্য তাকে টাইপিং কোর্স এবং কম্পিউটারের অন্যান্য কোর্সে পারদর্শী করে তোলে। অন্য আর দশজন স্বাভাবিক মানুষদের চেয়েও তার স্পীড ছিল চোখে পড়ার মতো। সবার কাছে তার কাজ যথেষ্ট প্রশংসনীয়ও হত। যদিও সে টাইপ করত বাম হাতে কিন্তু তার টাইপিং স্পীড ও কম্পিউটার স্কিল সবাইকে বিস্মিত করতো। শেষ পর্যন্ত খুব ভালো একটা কোম্পানিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে সে চাকরিও পায়। এরপর তার বাবা-মা তাকে বিয়ে দেয়ার কথা বলে, এমনকি একটি মেয়েও পছন্দ করা হয় তার জন্য। কিন্তু রিফাত খুব নার্ভাস হয়ে পরে এই ভেবে যে তার ডান হাতে সমস্যা থাকার কারনে পরে যদি কোন ঝামেলা হয়! রিফাত মেয়েটির সাথে নিজে দেখা করে খোলাখুলি সব বলে। রিফাতের এই ব্যাপারটিই মেয়েটির ভালো লাগে এবং মেয়েটি বিয়ে করতে চায় রিফাতকে।

পুরো ঘটনাটি এটাই প্রমান করে যে, অক্ষমতা জীবনকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার ইচ্ছাটাকে থামিয়ে দিতে পারে না । শুধু একটু একাগ্রতা, নিজের প্রতি সম্মান, ধৈর্য আর পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে আর থাকতে হবে চারপাশে যা ঘটছে তা থেকে ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করা।

আমাদের চারপাশ নিয়ে নিজেদের একটা জগৎ আছে- আমাদের কাজ, পরিবার, আমাদের লক্ষ্য, স্বপ্ন, এবং এই সবকিছুই এক মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। আমরা বছরের পর বছর সময় নেই এসব গড়তে , কিন্তু এসবই এক নিমিষে শেষ হয়ে যেতে পারে। চাকরি চলে যেতে পারে, শারীরিক ভাবে কেউ অসুস্থ হয়ে পরতে পারে হঠাৎ করে, সম্পর্ক শেষ হয়ে যেতে পারে যেকোনো সময়। এরকম কি হয়েছে আপনার সাথে? তাহলে এরপর যেই প্রশ্নটা আসে তা হল-যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে এই অবস্থায় থেকে একজন মানুষ কি করে?কেমন করে সামলে নেয় নিজেকে?

উত্তরটা পাওয়া খুব সহজ না। এত বড় ধাক্কা সামলানো সত্যিই কঠিন। কিন্তু আমরা যেটা বলতে পারি তা হল, যখনি এরকম কিছু হবে জীবনে তখন খুব লড়তে হবে এর বিরুদ্ধে। খুব তাড়াতাড়ি মেনে নিতে হবে সত্যিটা। যা হয়ে গেছে আপনার সাথে তা আপনি বদলাতে পারবেন না, কিন্তু যা হতে পারে এখনও তা কিন্তু আপনারই হাতে। অবশ্যই খুব কষ্টের একটা সময় আপনি পার করবেন যা চাইলেও এড়ানো যায় না। আপনাকে এর মধ্যে থেকেই শ্বাস নিতে হবে। ভুলেও সত্যি যা তা সে মানতে যতই কষ্ট হোক এর থেকে পালানোর চেষ্টা করবেন না, পালাতে পারবেনও না। আর আরেকটা কাজ কখনই করবেন না। কোন বড় সিদ্ধান্ত এই সময় নিবেন না। আপনার আবেগটা বশে আনার জন্য সময় নিন।সময় অনেক বড় বড় কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।

আমরা খুব সহজেই হাল ছেড়ে দেই। আর হচ্ছে না আমাকে দিয়ে, আর কোনদিন আমি মনে হয় পারব না মাথা তুলে দাঁড়াতে, আমাকে দিয়ে আর হবেনা এসব চিন্তা করলে হারার আগেই আপনি হেরে যাবেন। বরং আপনি ঘুরে দাঁড়ান। দেখুন-ই না চেষ্টা করে। অন্তত কালকে ঘুম ভেঙে আফসোস তো হবে না যে একবার যদি শেষ চেষ্টাটা করে দেখতাম, আর একবার যদি কাজটা করার কথা ভাবতাম! না, আফসোস করে সময় নষ্ট করবেন না। কারো কথায় কষ্ট পেয়ে নিজেকে ছোট ভাববেন না। বরং উল্টো টা ভাবুন। নিজেকে বলুন, আমি পারি, আমি পারবো, আমাকে পারতেই হবে।

যখন আপনি মনের জোর ফিরে পাবেন তখন আপনি চিন্তা করুন এর পরের ধাপটা কি। নতুনভাবে শুরু করুন বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে। যাই হয়ে থাক আপনার জীবনে, সম্পর্কের সমাপ্তি, চাকরি চলে যাওয়া, পছন্দের মানুষগুলোর বদলে যাওয়া-তা যেন আপনাকে নতুন একটা অর্থ খুঁজে পেতে সাহায্য করে। যখনি আপনি এই বাস্তবতাটা মেনে নিতে পারবেন এবং উত্তর খুজবেন-তখনি সব কিছু আবার আস্তে আস্তে বদলাতে শুরু করবে। নতুন করে জীবন শুরু হবে, নতুন মানুষদের সাথে মিশবেন, আপনি খুঁজে পাবেন আরও অর্থবহ কোন কাজ । এভাবেই জীবন চলতে থাকবে…

হতাশা আসবেই আপনার জীবনে তার স্বাভাবিক নিয়মমাফিক প্রায় প্রতিটা ধাপে। এটাকে শুধু মেনে নিতে শিখুন, একসময় এর সাথে মানিয়ে চলাটাও দেখবেন সহজ হয়ে গেছে। জীবন একদিন শেষ হয়েই যাবে। আপনি যদি চেষ্টা না করেন তাহলে হয়ত হারার সম্ভাবনাও কম।
কিন্তু আপনার মৃত্যুশয্যায় আপনাকে যদি অপশান দেয়া হয় দুটা অনুভূতির- ১. আমি হেরে গিয়েছিলাম আর ২. আমি কখনও চেষ্টাই করিনি, তাহলে কোনটা আপনার জন্য কম কষ্ষ্টের?
এই উত্তরটাই ঠিক করে দিবে আপনার কি করা উচিত।



পুরোন সংবাদ দেখুন

প্রকাশকঃ মোহাম্মাদ রাজীব ।
সম্পাদকঃ মোস্তফা জামান (মিলন)
প্রধান নির্বাহী সম্পাদকঃ এ এম জুয়েল ।
মোবাইলঃ ০১৭১১৯৭৯৮৪৩
prothomsangbadbd@gmail.com

অফিসঃ প্রথম সংবাদ ডট কম
এক্সট্রিম আনলক, ফাতেমা সেন্টার
দোকান নং ৩১৪, ৪র্থ তলা (বিবির পুকুর পশ্চিম পাড়)
৫২৩ সদর রোড, বরিশাল - ৮২০০
বাংলাদেশ ।

© প্রথম সংবাদ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি Design & Developed By: Eng. Zihad Rana
Copy Protected by ENGINEER BD NETWORK