বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলা এলাকার একটি ক্যান্টিনে তিন শিক্ষার্থীর ওপর হঠাৎ হামলা চালায় মুখোশধারীরা। তাদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে দূরে ফেলে রেখে যায় এবং আরেকজন ধারালো অস্ত্রে কুপিয়ে আহত হয়। এ ঘটনার পরপরই ছাত্ররা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামে।
ক্যান্টিনে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ফারাবী ও বকশী নামে দুই শিক্ষার্থী রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। ঠিক সে সময় মোটরবাইকে করে ১০–১৫ জন হেলমেট ও মুখোশ পরা লোক এসে ক্যান্টিন ঘিরে ফেলে। তাদের হাতে ছিল রামদা, হাতুড়ি, লোহার রডসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তারা লক্ষ্য ব্যক্তিদের খুঁজে হামলা শুরু করে।
সেই সময় খাবার নিতে গিয়ে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজও হামলার শিকার হন এবং তাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অপহরণের পর মারধর করে দূরে ফেলে যায় দুই ছাত্রকে
হামলার শিকার বকশী জানান, দুর্বৃত্তরা প্রথমে তাদের মোটরবাইকে তুলে নিয়ে যেতে চায়। তিনি লাফিয়ে নামার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করে রিকশায় তুলে অন্ধকার জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ আটকে রাখার পর হামলাকারীদের মধ্যে একজনের ফোন কল আসলে তারা তাকে ছেড়ে দেয় এবং হবিবুর হলের সামনে ফেলে যায়।
ফারাবীকে একইভাবে মারধর করতে করতে বেতার মাঠ এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। উদ্ধারকর্মীরা জানান, দুজনের শরীরে গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
রামেক হাসপাতালে ভর্তি দুই শিক্ষার্থী, একজনের ছয় সেলাই
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, রাতেই আহত দুই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। একজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের কারণে ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীর শরীরেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ক্ষোভ, পুলিশের প্রতিক্রিয়ায় হতাশা
রাবির প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর এই আকস্মিক হামলা উদ্বেগজনক। পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হলেও সন্তোষজনক সাড়া পাওয়া যায়নি। হেলমেট পরা থাকার কারণে কাউকে শনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে মতিহার থানার ওসি আব্দুল মালেক জানিয়ে বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযানে নেমেছে পুলিশ। শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।
হামলার পর উত্তেজনা, রাতেই মহাসড়ক অবরোধ ছাত্রদের
হামলার পর রাজশাহী–ঢাকা মহাসড়কের কাজলা অংশে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ধারাবাহিক সহিংসতার কারণে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বুধবার রাতের এই হামলা ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন