অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্নাতক শিক্ষা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার এক বড় মানবিক উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাসহায়তা ট্রাস্ট জানিয়েছে যে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় স্নাতক (পাস ও অনার্স) বা সমমান শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া কিংবা অধ্যয়নরত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা পাবেন বিশেষ ভর্তিসহায়তা বৃত্তি। শিক্ষায় বৈষম্য কমানো ও আর্থিক দুরবস্থা কাটিয়ে স্নাতক শিক্ষা চালিয়ে যেতে অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোই এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্কলারশিপ আবেদন ৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ৩০ ডিসেম্বর রাত ১১:৫৯ পর্যন্ত। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইন-ভিত্তিক, ফলে দেশের যেকোনো এলাকা থেকেই শিক্ষার্থীরা সহজে অনলাইন অ্যাপ্লাই করতে পারবেন। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই আপডেটটি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই শিক্ষা-সম্পর্কিত প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিষয়টি ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছে।
স্নাতক শিক্ষা পর্যায়ে অধ্যয়নের শুরুতেই অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক
সংকটে পড়েন। বই-কেনা, ভর্তি ফি, বিভাগীয় চার্জ, আবাসিক ব্যয়-সব মিলিয়ে প্রথম বর্ষে
চাপটি বেশি থাকে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করেই ভর্তিসহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। যারা স্নাতক শিক্ষা শুরু করতে চাইলেও টিউশন
ফি ও ভর্তিখরচ বহনে সমস্যায় পড়ছেন, তাদের জন্য এটি বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি আপলোড করতে হবে। এর মধ্যে
রয়েছে-সর্বশেষ উত্তীর্ণ পরীক্ষার সত্যায়িত নম্বরপত্র, পরিবারের বার্ষিক আয়ের
প্রমাণ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌর কাউন্সিলর বা প্রতিষ্ঠানপ্রধানের
অসচ্ছলতার প্রত্যয়নপত্র। সরকারী, আধা-সরকারী বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত
১৩-২০তম গ্রেডের কর্মচারীর সন্তান হলে অভিভাবকের পে-গ্রেড-সংক্রান্ত প্রত্যয়ন
বাধ্যতামূলক।
এ ছাড়া অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট
প্রমাণপত্র প্রদান করতে হবে। যেমন-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, এতিম, নদীভাঙন-পীড়িত
পরিবার, ভূমিহীন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের
সন্তান। এ ধরনের শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপ হিসেবে ভর্তিসহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি
সুবিধা পাবেন, যা চলতি সময়ে “priority scholarship update” নামে সামাজিক মাধ্যমে
আলোচনায় রয়েছে।
আবেদনের সময় শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল
ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (bKash/Nagad/Rocket) নম্বর দিতে হবে। অ্যাকাউন্ট অবশ্যই
সচল থাকা চাই। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে চেকের পাতার ছবি বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট
এবং মোবাইল অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে KYC আপডেট প্রমাণ আপলোড করতে হবে। অন্য কারও
ব্যাংক/মোবাইল অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য নয়-যদিও মাতা-পিতা না থাকলে আইনগত অভিভাবকের
অ্যাকাউন্ট বিবেচনা করা হবে।
অনলাইনে আবেদন করার সময় অনেক শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের নাম খুঁজে না পেলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে ট্রাস্টের কাছে আবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে যেন প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত ‘ই-ভর্তিসহায়তা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে’ যুক্ত হয়। এটি বর্তমানে “online scholarship form update” টপিকে আলোচিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, দেশের প্রতিটি মেধাবী শিক্ষার্থীর স্নাতক শিক্ষা যেন আর্থিক সংকটে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো হলো এই স্কলারশিপ কার্যক্রমের মূল দর্শন।
সরকার আশা করছে, ভর্তিসহায়তার এই সুযোগ মেধাবী ও স্বপ্নবান শিক্ষার্থীদের স্নাতক শিক্ষা সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫
অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্নাতক শিক্ষা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার এক বড় মানবিক উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাসহায়তা ট্রাস্ট জানিয়েছে যে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় স্নাতক (পাস ও অনার্স) বা সমমান শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া কিংবা অধ্যয়নরত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা পাবেন বিশেষ ভর্তিসহায়তা বৃত্তি। শিক্ষায় বৈষম্য কমানো ও আর্থিক দুরবস্থা কাটিয়ে স্নাতক শিক্ষা চালিয়ে যেতে অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোই এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্কলারশিপ আবেদন ৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ৩০ ডিসেম্বর রাত ১১:৫৯ পর্যন্ত। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইন-ভিত্তিক, ফলে দেশের যেকোনো এলাকা থেকেই শিক্ষার্থীরা সহজে অনলাইন অ্যাপ্লাই করতে পারবেন। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই আপডেটটি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই শিক্ষা-সম্পর্কিত প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিষয়টি ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছে।
স্নাতক শিক্ষা পর্যায়ে অধ্যয়নের শুরুতেই অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক
সংকটে পড়েন। বই-কেনা, ভর্তি ফি, বিভাগীয় চার্জ, আবাসিক ব্যয়-সব মিলিয়ে প্রথম বর্ষে
চাপটি বেশি থাকে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করেই ভর্তিসহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। যারা স্নাতক শিক্ষা শুরু করতে চাইলেও টিউশন
ফি ও ভর্তিখরচ বহনে সমস্যায় পড়ছেন, তাদের জন্য এটি বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি আপলোড করতে হবে। এর মধ্যে
রয়েছে-সর্বশেষ উত্তীর্ণ পরীক্ষার সত্যায়িত নম্বরপত্র, পরিবারের বার্ষিক আয়ের
প্রমাণ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌর কাউন্সিলর বা প্রতিষ্ঠানপ্রধানের
অসচ্ছলতার প্রত্যয়নপত্র। সরকারী, আধা-সরকারী বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত
১৩-২০তম গ্রেডের কর্মচারীর সন্তান হলে অভিভাবকের পে-গ্রেড-সংক্রান্ত প্রত্যয়ন
বাধ্যতামূলক।
এ ছাড়া অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট
প্রমাণপত্র প্রদান করতে হবে। যেমন-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, এতিম, নদীভাঙন-পীড়িত
পরিবার, ভূমিহীন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের
সন্তান। এ ধরনের শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপ হিসেবে ভর্তিসহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি
সুবিধা পাবেন, যা চলতি সময়ে “priority scholarship update” নামে সামাজিক মাধ্যমে
আলোচনায় রয়েছে।
আবেদনের সময় শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল
ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (bKash/Nagad/Rocket) নম্বর দিতে হবে। অ্যাকাউন্ট অবশ্যই
সচল থাকা চাই। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে চেকের পাতার ছবি বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট
এবং মোবাইল অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে KYC আপডেট প্রমাণ আপলোড করতে হবে। অন্য কারও
ব্যাংক/মোবাইল অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য নয়-যদিও মাতা-পিতা না থাকলে আইনগত অভিভাবকের
অ্যাকাউন্ট বিবেচনা করা হবে।
অনলাইনে আবেদন করার সময় অনেক শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের নাম খুঁজে না পেলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে ট্রাস্টের কাছে আবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে যেন প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত ‘ই-ভর্তিসহায়তা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে’ যুক্ত হয়। এটি বর্তমানে “online scholarship form update” টপিকে আলোচিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, দেশের প্রতিটি মেধাবী শিক্ষার্থীর স্নাতক শিক্ষা যেন আর্থিক সংকটে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো হলো এই স্কলারশিপ কার্যক্রমের মূল দর্শন।
সরকার আশা করছে, ভর্তিসহায়তার এই সুযোগ মেধাবী ও স্বপ্নবান শিক্ষার্থীদের স্নাতক শিক্ষা সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন