সুপারস্টার চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন (সালমান শাহ) মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশের বিনোদন জগতের অন্যতম রহস্যময় এবং বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর মধ্যে একটি। সেপ্টেম্বর ৬ — আমরা এ দিনটির পুরো ঘটনার ক্রম, পরিবারের দাবী এবং তদন্ত প্রক্রিয়া সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করছি।
সালমান শাহের অকালপ্রয়াণ (১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর) নিয়ে দুইমত আছে—কেউ বলছেন আত্মহত্যা, কেউ বলছেন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিবারের সদস্য, ভক্ত ও তদন্তকারীরা বছরের পর বছর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। আজ ২৯ বছর পরও এই ঘটনাকে ঘিরে জনমনে একই কৌতূহল ও আশা জাগে—সত্য কখন সামনে আসবে?
সালমান শাহের মৃত্যুর দিনটি ছিল একটি অন্ধকারময় অধ্যায়, যা বাংলাদেশের বিনোদন জগতে গভীর প্রভাব ফেলে। এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা নিম্নরূপ:
সকাল ৭টার দিকে, সালমানের বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ছেলের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় আসেন। কিন্তু দারোয়ান তাকে উপরে যেতে নিষেধ করেন, জানিয়ে দেন, “কিছু প্রবলেম আছে।” এই পরিস্থিতি উদ্বেগের সৃষ্টি করে এবং কমর উদ্দিন জোর করে উপরে গিয়ে সালমানের স্ত্রী, সামিরাকে কলিং বেল দেন। সামিরা দরজা খুলে দেন, তবে পরিস্কার ছিল যে, কিছু গুরুতর সমস্যা চলছে।
সকাল ১১টার দিকে সালমানের মা, নীলা চৌধুরী, ফোন পান। ফোনে বলা হয়, তাকে এখনই ছেলেকে দেখতে যেতে হবে। মা হিসাবে তার উদ্বেগ এবং তাড়াহুড়ো বোঝা যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তিনি দেখতে পান সালমান বিছানায় পড়ে আছেন।
নীলা চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে সালমানের অবস্থার ভয়াবহতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তিনি লক্ষ্য করেন, সালমানের পা ও মাথার অদ্ভুত বিন্যাস রয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক মনে হয়। পাশের পার্লারের কিছু নারীর সরষের তেল দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যা পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতা বাড়ায়।
সালমানের নখ নীলচে রঙ ধারণ করেছে, যা অক্সিজেনের অভাবের ইঙ্গিত দেয়। নীলা পর্যবেক্ষণে দেখতে পান যে, সালমানের জীবন বাঁচানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।
সালমানকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্তের প্রথম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এটি আত্মহত্যার সম্ভাবনা।
এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টটি সালমানের মৃত্যুর প্রকৃতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং আত্মহত্যার দাবির পক্ষে কিছু সন্দেহজনক প্রমাণ উপস্থাপন করে।
নীলা চৌধুরী এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা শুরু থেকেই আত্মহত্যা-র কথা মেনে নেননি। তারা দাবি করেছিলেন:
প্রাথমিকভাবে থানায় হত্যার অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ সেটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
তদন্ত প্রতিবেদন ও আলামতগুলো “সঠিকভাবে” তদন্ত করা হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তি ও পারিবারিক সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল—যার ফলে নানা জটিলতা ও সন্দেহ তৈরি হয়।
৫০’র দশকে ছড়িয়ে পড়া সংবাদ ও ভক্তদের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়—সালমানের অকালপ্রয়াণ তখনকার তরুণদের উপর মানসিক প্রভাব ফেলে; খবর অনুসারে কিছু ভক্ত আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছেন। (সেইসব রিপোর্ট তখনকার কাগজে উঠে এসেছিল।
সালমান শাহ মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয় করে গেছেন ২৭টি চলচ্চিত্রে। তার উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে — কেয়ামত থেকে কেয়ামত, সুজন সখি, বিক্ষোভ, স্বপ্নের ঠিকানা, মহামিলন, তোমাকে চাই, প্রেম পিয়াসী ইত্যাদি। ইমনের ক্যারিয়ারের উত্থান ও দ্রুত পারফর্ম্যান্স ঘিরে ছিল বিশাল জনপ্রিয়তা—যা তার মৃত্যুতে ভক্তদের শোককে আরও তীব্র করেছিল।
সালমান শাহের মৃত্যু আজও একটি রহস্য এবং এর পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে, যা এই ঘটনাকে অমীমাংসিত রেখেছে।
প্রাথমিক তদন্তের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়নি, যা পরিবার এবং বিশেষজ্ঞদের মনে করে যে তদন্তটি গভীরভাবে হয়নি। পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করেন যে, ঘটনার আসল কারণ এবং পেছনের রহস্য বের করার জন্য আরো বিস্তারিত ও কার্যকরী তদন্ত প্রয়োজন ছিল।
ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। বিভিন্ন সাক্ষীর বক্তব্য বদলে যাওয়ার কারণে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়েছে। এই পরিস্থিতি তদন্তের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং অভিযোগ করে যে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উন্মোচনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
সেই সময়কার সংবাদ ও গসিপ সালমান শাহের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জনমতের একটি চাপ সৃষ্টি করেছে। ভক্তদের আবেগ এবং মিডিয়ার ক্রিয়াকলাপ এই ঘটনার প্রতি ধারাবাহিক আগ্রহ তৈরি করেছে, কিন্তু তা কখনও কখনও সত্যের ওপর ছায়া ফেলেছে।
অপমৃত্যু মামলা এবং পুনঃমূল্যায়ন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলমান ছিল। এই জটিলতা তদন্তের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং মামলার নিষ্পত্তিতে বিলম্ব ঘটায়।
এইদিন সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে তাকে আত্মহত্যা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়, যা জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
পরবর্তী বছরগুলোতে সালমানের পরিবার, বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা এবং মিডিয়া রিপোর্টে বিভিন্ন বিবরণ উঠে আসে। তদন্তের ঘনিষ্ঠ মানুষের বিভিন্ন বক্তব্য এবং নতুন তথ্য প্রকাশ পেতে শুরু করে।
১৯৯৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মামলার বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করা হয়েছে। সম্প্রতি নতুন তদন্ত এবং আদালতের নির্দেশে মামলাটি আবারও আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে জনমনে নতুন আশা সৃষ্টি করেছে।
সালমান শাহের মৃত্যুর তদন্তে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হচ্ছে, যেখানে ১৯৯৭ সালে আসামি রেজভীর দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিটি পুনরায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এই জবানবন্দিতে রেজভী সালমান শাহকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন, যা ঘটনার প্রকৃত সত্যের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রেজভীর জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সালমান শাহকে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে হত্যা করা হয়। এই তথ্যটি সেই সময়ের একটি অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে পরিচিত, যা হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে যে, আদালতের নির্দেশে এই পুরোনো জবানবন্দিগুলো এখন পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মানে হলো, সালমান শাহের হত্যার পেছনের জটিলতা এবং রহস্য উন্মোচনের জন্য নতুন করে তদন্ত করা হচ্ছে। এই পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশা করছে যে, হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ এবং জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
নতুন তদন্ত এবং পুরোনো জবানবন্দির পুনর্বিবেচনার ফলে ভক্ত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সত্য উদঘাটনের একটি নতুন আশা তৈরি হয়েছে। তারা প্রত্যাশা করছেন যে, এই তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহের মৃত্যুর রহস্য একবারের জন্য উন্মোচিত হবে, যা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত ছিল।
সালমান শাহের মৃত্যু ছিল এককালের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শক। পরিবারের অনীহার, ভক্তদের ব্যথা ও তদন্তের অস্পষ্টতাই এই কাহিনীকে দীর্ঘদিন রহস্যে জড়িয়ে রেখেছে। নতুন কোনও তথ্য বা পুনঃতদন্ত যদি প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত এনে দিতে পারে, তাহলে ঢাকা-বিনোদন অঙ্গন ও ভক্তসমাজ সেই সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় থাকবে। কবে শেষমেষ এই রহস্যের পর্দা উঠবে—হয়তো সময়ই বলে দেবে।
বিনোদন জগতের সব খবর জানতে ভিজিট করুন দৈনিক প্রথম সংবাদ - নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ আপডেটের অনলাইন ঠিকানা।

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫
সুপারস্টার চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন (সালমান শাহ) মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশের বিনোদন জগতের অন্যতম রহস্যময় এবং বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর মধ্যে একটি। সেপ্টেম্বর ৬ — আমরা এ দিনটির পুরো ঘটনার ক্রম, পরিবারের দাবী এবং তদন্ত প্রক্রিয়া সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করছি।
সালমান শাহের অকালপ্রয়াণ (১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর) নিয়ে দুইমত আছে—কেউ বলছেন আত্মহত্যা, কেউ বলছেন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিবারের সদস্য, ভক্ত ও তদন্তকারীরা বছরের পর বছর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। আজ ২৯ বছর পরও এই ঘটনাকে ঘিরে জনমনে একই কৌতূহল ও আশা জাগে—সত্য কখন সামনে আসবে?
সালমান শাহের মৃত্যুর দিনটি ছিল একটি অন্ধকারময় অধ্যায়, যা বাংলাদেশের বিনোদন জগতে গভীর প্রভাব ফেলে। এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা নিম্নরূপ:
সকাল ৭টার দিকে, সালমানের বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ছেলের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় আসেন। কিন্তু দারোয়ান তাকে উপরে যেতে নিষেধ করেন, জানিয়ে দেন, “কিছু প্রবলেম আছে।” এই পরিস্থিতি উদ্বেগের সৃষ্টি করে এবং কমর উদ্দিন জোর করে উপরে গিয়ে সালমানের স্ত্রী, সামিরাকে কলিং বেল দেন। সামিরা দরজা খুলে দেন, তবে পরিস্কার ছিল যে, কিছু গুরুতর সমস্যা চলছে।
সকাল ১১টার দিকে সালমানের মা, নীলা চৌধুরী, ফোন পান। ফোনে বলা হয়, তাকে এখনই ছেলেকে দেখতে যেতে হবে। মা হিসাবে তার উদ্বেগ এবং তাড়াহুড়ো বোঝা যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তিনি দেখতে পান সালমান বিছানায় পড়ে আছেন।
নীলা চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে সালমানের অবস্থার ভয়াবহতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তিনি লক্ষ্য করেন, সালমানের পা ও মাথার অদ্ভুত বিন্যাস রয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক মনে হয়। পাশের পার্লারের কিছু নারীর সরষের তেল দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যা পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতা বাড়ায়।
সালমানের নখ নীলচে রঙ ধারণ করেছে, যা অক্সিজেনের অভাবের ইঙ্গিত দেয়। নীলা পর্যবেক্ষণে দেখতে পান যে, সালমানের জীবন বাঁচানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।
সালমানকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্তের প্রথম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এটি আত্মহত্যার সম্ভাবনা।
এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টটি সালমানের মৃত্যুর প্রকৃতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং আত্মহত্যার দাবির পক্ষে কিছু সন্দেহজনক প্রমাণ উপস্থাপন করে।
নীলা চৌধুরী এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা শুরু থেকেই আত্মহত্যা-র কথা মেনে নেননি। তারা দাবি করেছিলেন:
প্রাথমিকভাবে থানায় হত্যার অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ সেটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
তদন্ত প্রতিবেদন ও আলামতগুলো “সঠিকভাবে” তদন্ত করা হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তি ও পারিবারিক সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল—যার ফলে নানা জটিলতা ও সন্দেহ তৈরি হয়।
[753]
৫০’র দশকে ছড়িয়ে পড়া সংবাদ ও ভক্তদের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়—সালমানের অকালপ্রয়াণ তখনকার তরুণদের উপর মানসিক প্রভাব ফেলে; খবর অনুসারে কিছু ভক্ত আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছেন। (সেইসব রিপোর্ট তখনকার কাগজে উঠে এসেছিল।
সালমান শাহ মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয় করে গেছেন ২৭টি চলচ্চিত্রে। তার উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে — কেয়ামত থেকে কেয়ামত, সুজন সখি, বিক্ষোভ, স্বপ্নের ঠিকানা, মহামিলন, তোমাকে চাই, প্রেম পিয়াসী ইত্যাদি। ইমনের ক্যারিয়ারের উত্থান ও দ্রুত পারফর্ম্যান্স ঘিরে ছিল বিশাল জনপ্রিয়তা—যা তার মৃত্যুতে ভক্তদের শোককে আরও তীব্র করেছিল।
সালমান শাহের মৃত্যু আজও একটি রহস্য এবং এর পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে, যা এই ঘটনাকে অমীমাংসিত রেখেছে।
প্রাথমিক তদন্তের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়নি, যা পরিবার এবং বিশেষজ্ঞদের মনে করে যে তদন্তটি গভীরভাবে হয়নি। পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করেন যে, ঘটনার আসল কারণ এবং পেছনের রহস্য বের করার জন্য আরো বিস্তারিত ও কার্যকরী তদন্ত প্রয়োজন ছিল।
ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। বিভিন্ন সাক্ষীর বক্তব্য বদলে যাওয়ার কারণে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়েছে। এই পরিস্থিতি তদন্তের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং অভিযোগ করে যে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উন্মোচনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
সেই সময়কার সংবাদ ও গসিপ সালমান শাহের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জনমতের একটি চাপ সৃষ্টি করেছে। ভক্তদের আবেগ এবং মিডিয়ার ক্রিয়াকলাপ এই ঘটনার প্রতি ধারাবাহিক আগ্রহ তৈরি করেছে, কিন্তু তা কখনও কখনও সত্যের ওপর ছায়া ফেলেছে।
অপমৃত্যু মামলা এবং পুনঃমূল্যায়ন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলমান ছিল। এই জটিলতা তদন্তের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং মামলার নিষ্পত্তিতে বিলম্ব ঘটায়।
এইদিন সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে তাকে আত্মহত্যা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়, যা জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
পরবর্তী বছরগুলোতে সালমানের পরিবার, বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা এবং মিডিয়া রিপোর্টে বিভিন্ন বিবরণ উঠে আসে। তদন্তের ঘনিষ্ঠ মানুষের বিভিন্ন বক্তব্য এবং নতুন তথ্য প্রকাশ পেতে শুরু করে।
১৯৯৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মামলার বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করা হয়েছে। সম্প্রতি নতুন তদন্ত এবং আদালতের নির্দেশে মামলাটি আবারও আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে জনমনে নতুন আশা সৃষ্টি করেছে।
সালমান শাহের মৃত্যুর তদন্তে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হচ্ছে, যেখানে ১৯৯৭ সালে আসামি রেজভীর দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিটি পুনরায় গুরুত্ব পাচ্ছে। এই জবানবন্দিতে রেজভী সালমান শাহকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন, যা ঘটনার প্রকৃত সত্যের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রেজভীর জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সালমান শাহকে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে হত্যা করা হয়। এই তথ্যটি সেই সময়ের একটি অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে পরিচিত, যা হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে যে, আদালতের নির্দেশে এই পুরোনো জবানবন্দিগুলো এখন পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মানে হলো, সালমান শাহের হত্যার পেছনের জটিলতা এবং রহস্য উন্মোচনের জন্য নতুন করে তদন্ত করা হচ্ছে। এই পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশা করছে যে, হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ এবং জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
নতুন তদন্ত এবং পুরোনো জবানবন্দির পুনর্বিবেচনার ফলে ভক্ত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সত্য উদঘাটনের একটি নতুন আশা তৈরি হয়েছে। তারা প্রত্যাশা করছেন যে, এই তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহের মৃত্যুর রহস্য একবারের জন্য উন্মোচিত হবে, যা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত ছিল।
[752]
[751]
[695]
সালমান শাহের মৃত্যু ছিল এককালের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শক। পরিবারের অনীহার, ভক্তদের ব্যথা ও তদন্তের অস্পষ্টতাই এই কাহিনীকে দীর্ঘদিন রহস্যে জড়িয়ে রেখেছে। নতুন কোনও তথ্য বা পুনঃতদন্ত যদি প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত এনে দিতে পারে, তাহলে ঢাকা-বিনোদন অঙ্গন ও ভক্তসমাজ সেই সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় থাকবে। কবে শেষমেষ এই রহস্যের পর্দা উঠবে—হয়তো সময়ই বলে দেবে।
বিনোদন জগতের সব খবর জানতে ভিজিট করুন দৈনিক প্রথম সংবাদ - নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ আপডেটের অনলাইন ঠিকানা।

আপনার মতামত লিখুন