কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে আলোচনাটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, তা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের এমডি/সিইও নিয়োগের নতুন নীতিমালা। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে, এখন থেকে শুধু বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভেতরকার কর্মকর্তাই নয়, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারাও সরাসরি এমডি পদে আসার সুযোগ পাবেন।
এই সিদ্ধান্তে যেমন ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের শীর্ষ পদে পৌঁছানোর পথ আরও প্রতিযোগিতামূলক হলো, তেমনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যাবলী, নীতিনির্ধারণ ও তদারকি এই তিন স্তরের অভিজ্ঞতাকে এক সুতোয় গেঁথে আনার সুযোগ তৈরি হলো। নতুন নীতিমালার ফলে এমডি পদের জন্য অভিজ্ঞতার মানদণ্ড আরও কঠোর হলেও, এতে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি বাড়বে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত দেশের একমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে মুদ্রানীতি প্রণয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, রপ্তানি আয় তদারকি, ব্যাংকিং খাতের সুদের হার ও তারল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। এসব কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশেষ করে গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে দায়িত্ব পালনকারী কিছু কর্মকর্তার মধ্যে ছিল একটি অভিন্ন দাবি তাদের অভিজ্ঞতাকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বাস্তব ব্যবস্থাপনাতেও কাজে লাগানোর সুযোগ থাকা উচিত। শেষ পর্যন্ত সে সুযোগই এনে দিল সর্বশেষ সার্কুলার।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হতে হলে প্রার্থীকে ব্যাংকিং পেশায় কমপক্ষে ২০ বছরের সক্রিয় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে শর্ত বেঁধে দিয়েছে প্রার্থীর ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) পদে একক বা উভয়ভাবে মোট তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আগে যেখানে যে– কোনো নিকটবর্তী ঊর্ধ্বতন পদে মাত্র দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই চলত, সেখানে নতুন শর্ত শীর্ষ নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা যাচাইকে অনেক বেশি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।
এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য যোগ্যতার আরেকটি আলাদা পথ রাখা হয়েছে। যদি কোনো কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থায় প্রথম শ্রেণি বা সমমানের এবং তদূর্ধ্ব পদে অন্তত ২৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তবে তিনি এমডি বা সিইও পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য বিবেচিত হতে পারবেন। শর্ত হলো- তার অবশ্যই জাতীয় বেতন স্কেলের দ্বিতীয় গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এভাবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পদবী সমূহের সর্বোচ্চ স্তরে কাজ করার দক্ষতাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক পরিচালনায় ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যাবলী দীর্ঘদিন ধরেই শুধু নোট মুদ্রণ বা রিজার্ভ দেখভালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এখন এ প্রতিষ্ঠান সরাসরি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, পেমেন্ট সিস্টেম, ডিজিটাল লেনদেন এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা নিয়েও কাজ করছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাবৃন্দের নীতিনির্ধারণী অভিজ্ঞতা অনেক গভীর ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে।নতুন নীতিমালা এ অভিজ্ঞতাকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সর্বোচ্চ নির্বাহী পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারলে, ব্যাংক পরিচালনায় নীতি ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ভালো সমন্বয় ঘটতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ব্যাংকিং সুনাম নিয়ে যে ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, সেখানে কার্যকর ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর তালিকা এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ পদে যাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের অনেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক নীতি, মুদ্রা বিনিময় হার, ইন্টার-ব্যাংক সেটেলমেন্ট, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন। ফলে নীতিগতভাবে তাঁদের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি পদে আসার সুযোগ তৈরি হলে, সেটি কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের উন্নতি নয়, বরং পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্যও ইতিবাচক সিগন্যাল হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে আছে একটা বাস্তব প্রশ্ন নীতিনির্ধারক হিসেবে কাজ করতে করতে যারা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রক ভূমিকায় ছিলেন, তারা সরাসরি অপারেশনাল ব্যাংকিংয়ে এসে কতটা দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন? সঠিক বাছাই, ট্র্যাক রেকর্ড যাচাই ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়া এই সুযোগ যদি কেবল প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পক্ষে কাজে লাগে, তাহলে উদ্দেশ্য সফল হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পদবী সমূহের ভেতরে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ডেপুটি গভর্নর পর্যন্ত যে ধাপে ধাপে ক্যারিয়ার কাঠামো আছে, সেখানে প্রমোশন পেতে হয় যোগ্যতা, দক্ষতা ও সিনিয়রিটির মিশেলে। নতুন নীতিমালায় সেই পুরো ক্যারিয়ার জার্নিটাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যারা ২৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে সৎ ও দক্ষতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কাজ করেছেন, তাদের সামনে এখন আরেকটি নতুন দিগন্ত খুলে গেল। এর ফলে মেধাবী তরুণদের মাঝেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চাকরিকে আরও আকর্ষণীয় হিসেবে দেখা শুরু হতে পারে, কারণ ভবিষ্যতে তারা চাইলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ পদেও পৌঁছাতে পারবেন এমন একটা বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি সত্যিকার অর্থে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে ব্যাংকিং খাতে শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে আর্থিক খাতের অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫
কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে আলোচনাটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, তা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের এমডি/সিইও নিয়োগের নতুন নীতিমালা। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে, এখন থেকে শুধু বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভেতরকার কর্মকর্তাই নয়, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারাও সরাসরি এমডি পদে আসার সুযোগ পাবেন।
এই সিদ্ধান্তে যেমন ব্যাংকিং ক্যারিয়ারের শীর্ষ পদে পৌঁছানোর পথ আরও প্রতিযোগিতামূলক হলো, তেমনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যাবলী, নীতিনির্ধারণ ও তদারকি এই তিন স্তরের অভিজ্ঞতাকে এক সুতোয় গেঁথে আনার সুযোগ তৈরি হলো। নতুন নীতিমালার ফলে এমডি পদের জন্য অভিজ্ঞতার মানদণ্ড আরও কঠোর হলেও, এতে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি বাড়বে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত দেশের একমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে মুদ্রানীতি প্রণয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, রপ্তানি আয় তদারকি, ব্যাংকিং খাতের সুদের হার ও তারল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। এসব কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশেষ করে গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে দায়িত্ব পালনকারী কিছু কর্মকর্তার মধ্যে ছিল একটি অভিন্ন দাবি তাদের অভিজ্ঞতাকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বাস্তব ব্যবস্থাপনাতেও কাজে লাগানোর সুযোগ থাকা উচিত। শেষ পর্যন্ত সে সুযোগই এনে দিল সর্বশেষ সার্কুলার।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হতে হলে প্রার্থীকে ব্যাংকিং পেশায় কমপক্ষে ২০ বছরের সক্রিয় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে শর্ত বেঁধে দিয়েছে প্রার্থীর ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) পদে একক বা উভয়ভাবে মোট তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আগে যেখানে যে– কোনো নিকটবর্তী ঊর্ধ্বতন পদে মাত্র দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই চলত, সেখানে নতুন শর্ত শীর্ষ নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা যাচাইকে অনেক বেশি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।
এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য যোগ্যতার আরেকটি আলাদা পথ রাখা হয়েছে। যদি কোনো কর্মকর্তা বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থায় প্রথম শ্রেণি বা সমমানের এবং তদূর্ধ্ব পদে অন্তত ২৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তবে তিনি এমডি বা সিইও পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য বিবেচিত হতে পারবেন। শর্ত হলো- তার অবশ্যই জাতীয় বেতন স্কেলের দ্বিতীয় গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এভাবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পদবী সমূহের সর্বোচ্চ স্তরে কাজ করার দক্ষতাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক পরিচালনায় ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যাবলী দীর্ঘদিন ধরেই শুধু নোট মুদ্রণ বা রিজার্ভ দেখভালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এখন এ প্রতিষ্ঠান সরাসরি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, পেমেন্ট সিস্টেম, ডিজিটাল লেনদেন এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা নিয়েও কাজ করছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাবৃন্দের নীতিনির্ধারণী অভিজ্ঞতা অনেক গভীর ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে।নতুন নীতিমালা এ অভিজ্ঞতাকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সর্বোচ্চ নির্বাহী পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারলে, ব্যাংক পরিচালনায় নীতি ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ভালো সমন্বয় ঘটতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ব্যাংকিং সুনাম নিয়ে যে ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, সেখানে কার্যকর ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর তালিকা এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ পদে যাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের অনেকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক নীতি, মুদ্রা বিনিময় হার, ইন্টার-ব্যাংক সেটেলমেন্ট, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন। ফলে নীতিগতভাবে তাঁদের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি পদে আসার সুযোগ তৈরি হলে, সেটি কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের উন্নতি নয়, বরং পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্যও ইতিবাচক সিগন্যাল হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে আছে একটা বাস্তব প্রশ্ন নীতিনির্ধারক হিসেবে কাজ করতে করতে যারা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রক ভূমিকায় ছিলেন, তারা সরাসরি অপারেশনাল ব্যাংকিংয়ে এসে কতটা দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন? সঠিক বাছাই, ট্র্যাক রেকর্ড যাচাই ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়া এই সুযোগ যদি কেবল প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পক্ষে কাজে লাগে, তাহলে উদ্দেশ্য সফল হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পদবী সমূহের ভেতরে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ডেপুটি গভর্নর পর্যন্ত যে ধাপে ধাপে ক্যারিয়ার কাঠামো আছে, সেখানে প্রমোশন পেতে হয় যোগ্যতা, দক্ষতা ও সিনিয়রিটির মিশেলে। নতুন নীতিমালায় সেই পুরো ক্যারিয়ার জার্নিটাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যারা ২৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে সৎ ও দক্ষতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কাজ করেছেন, তাদের সামনে এখন আরেকটি নতুন দিগন্ত খুলে গেল। এর ফলে মেধাবী তরুণদের মাঝেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চাকরিকে আরও আকর্ষণীয় হিসেবে দেখা শুরু হতে পারে, কারণ ভবিষ্যতে তারা চাইলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ পদেও পৌঁছাতে পারবেন এমন একটা বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি সত্যিকার অর্থে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে এই নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে ব্যাংকিং খাতে শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে আর্থিক খাতের অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
[1122]

আপনার মতামত লিখুন