৩১ ঘণ্টায় টানা চারটি ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর অনেকেই অদ্ভুত ধরনের শারীরিক ও মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন। অনেকে বলছেন, বাস্তবে ভূমিকম্প না হলেও হঠাৎ দুলে ওঠার অনুভূতি হচ্ছে, মনে হচ্ছে মাটির নিচ থেকে আবার কম্পন শুরু হলো। ঘুম হচ্ছে না, আতঙ্ক যেন মাথা ছাড়ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক বাস্তব চিকিৎসাগত সমস্যা।
এই সমস্যার নাম কী? চিকিৎসকরা যা বলছেন
এ অবস্থার চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম পোস্ট-আর্থকোয়েক ডিজিনেস সিনড্রোম (PEDS)। জাপানে এটিকে বলা হয় ‘জিশিন-ইয়োই’, অর্থাৎ ‘ভূমিকম্প মাতলামি’। কারণ ভূমিকম্পের পর অনেকের শরীর ঠিক যেন সাগরের ঢেউয়ে ভাসছে, এমন আচরণ করে।
কেন এমন হয়?পূর্ণ ব্যাখ্যা মিলছে না, তবু জানা গেছে যা
১. কানের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া
ডাক্তাররা জানান, কানের ভেতরের যে অংশ দেহের ভারসাম্য ধরে রাখে, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনির পর তা সাময়িকভাবে অস্থির হয়ে পড়ে। ফলে দুলুনি অনুভূত হয়।
২. ভয় ও মানসিক চাপ
হঠাৎ কম্পন মানুষের মনে তীব্র ভয় তৈরি করে। সে ভয় মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করে এবং আরও কয়েকদিন ধরে সেই ঝাঁকুনির স্মৃতি সক্রিয় থাকে।
৩. PTSD-এর সঙ্গে মিল
এই অবস্থার কিছু লক্ষণ PTSD-এর সঙ্গেও মিলে যায়, যেমন অতিরিক্ত সতর্কতা, হঠাৎ ভয় পাওয়া, ঘুম ভেঙে যাওয়া।
PEDS-এর সাধারণ লক্ষণ;চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা
- মাথা ঘোরা
- চারপাশ দুলে ওঠা মনে হওয়া
- হাঁটতে সমস্যা
- বমি ভাব
- ঘুম না হওয়া
- দুশ্চিন্তা ও বিরক্তি
- একা থাকতে ভয় পাওয়া
লক্ষণগুলো সামান্য মনে হলেও দীর্ঘদিন অবহেলা করলে তা জটিল মানসিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
কখন চিকিৎসা জরুরি?যে লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন
শারীরিক লক্ষণ
- মাথা এমনভাবে ঘোরে যে দাঁড়ানো কঠিন
- বারবার বমি
- চোখে ডাবল দেখা
- কথা জড়িয়ে যাওয়া
যাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা উচিত
- হৃদরোগী
- উচ্চ রক্তচাপের রোগী
- ডায়াবেটিস রোগী
মানসিক লক্ষণ
- দুঃস্বপ্ন
- হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া
- ভূমিকম্পের জায়গা এড়িয়ে চলা
- বুক ধড়ফড়, ঘাম, শ্বাসকষ্ট
করণীয়-নিজে যা করতে পারবেন
চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা নিলে দ্রুত ভালো হওয়া যায়। তার পাশাপাশি-
১. খবর ও ভিডিও কম দেখা
ভয় বাড়ানোর মতো ভিডিও, লাইভ ফুটেজ দেখা কমিয়ে ফেলতে হবে।
২. গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস
রিল্যাক্সেশন ও ব্রিদিং এক্সারসাইজ নার্ভ শান্ত করে।
৩. নিরাপদ জায়গায় থাকা
অতি দুশ্চিন্তা হলে একা না থেকে পরিবারে সঙ্গ নিন।
ভূমিকম্পের পর শরীর দুলুনি, মাথা ঘোরা বা আতঙ্ক, এসবকে অবহেলা করা ঠিক নয়। এটি বাস্তব চিকিৎসা-সম্পর্কিত সমস্যা, যার নাম পোস্ট-আর্থকোয়েক ডিজিনেস সিনড্রোম। সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক যত্ন নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন