৪৫ বছর বয়সেও কিম কার্দাশিয়ান আজও বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত সেলিব্রিটিদের একজন, শুধু খ্যাতির জোরে নয়, বরং নিজের শরীরকে যেভাবে অবিশ্বাস্যভাবে ফিট রাখছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। কিম কার্দাশিয়ান ৪৫ বছরেও কীভাবে ফিট? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজেই বলেছেন, “ওয়ার্কআউটই আমার থেরাপি।” Vogue-কে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দিনের দেড় ঘণ্টা সময় তিনি শুধু নিজের শরীর ও মানসিক শক্তির জন্যই আলাদা করে রাখেন।
ব্যবসা, পরিবার, শুটিং, ব্র্যান্ড, সবকিছুর চাপের মাঝেও নিজের প্রতি এই বিনিয়োগই তাকে আগের মতোই আত্মবিশ্বাসী, সক্রিয় ও গ্ল্যামারাস রাখছে।
স্ট্রেংথ ট্রেনিং; কিমের ফিটনেসের প্রধান ভিত্তি
কিম কার্দাশিয়ান দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রেংথ ট্রেনিংকে নিজের ফিটনেসের মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে রেখেছেন। অনেকে ভাবেন তিনি হয়তো কঠোর ডায়েট ও কার্ডিওর ওপর নির্ভর করেন, কিন্তু বাস্তবে তার শরীরের টোনড শেপের পেছনে রয়েছে ভারী ওজন তোলা।
তিনি নিজেই বলেন- “I’m a big weightlifter.” তার ট্রেনিংয়ে সাধারণত থাকে-
- ভারী স্কোয়াট, লঞ্জ, ডেডলিফ্ট
- নিচের অংশের শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম
- আলাদা দিনে বুক, কাঁধ, বাহুর ট্রেনিং
- প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা কার্ডিও
সম্প্রতি নীচের পিঠে ব্যথার কারণে কয়েকটি ব্যায়াম পরিবর্তন করতে হলেও তিনি জানান, স্ট্রেংথ ট্রেনিং বাদ দিলে শরীর যেন ভারসাম্য হারায়।
পিলাটেস; শরীরকে নমনীয়, শক্তিশালী ও ব্যালান্সড রাখে
ওজন তোলার পাশাপাশি কিমের ফিটনেস লিস্টে পিলাটেসের বিশেষ জায়গা রয়েছে। তার ভাষায়-
“যেদিন পিলাটেস না করি, সেদিন শরীরই বুঝিয়ে দেয়, এটা ছাড়া আমি চলতে পারি না।”
পিলাটেস তাকে সাহায্য করে-
- শরীরকে নমনীয় রাখতে
- ব্যাক পেইন নিয়ন্ত্রণে
- গভীর কোর স্ট্রেংথ বাড়াতে
- ইনজুরি প্রতিরোধে
- শরীরের ভেতরের ব্যালান্স তৈরিতে
Skims-এর নিজস্ব পিলাটেস লেগিংস পরে সেশন করতেও তিনি ভীষণ পছন্দ করেন।
মা হওয়ার পর রুটিনে বড় পরিবর্তন
গর্ভধারণের পর কিম কার্দাশিয়ান দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করেননি। বরং ধীরে ধীরে শরীরকে আবার শক্তিশালী করার লং-টার্ম পদ্ধতি বেছে নেন।
প্রথমদিকে তার ট্রেনিং ছিল-
- ডায়াফ্রাম ব্রিদিং
- হালকা ও ধীরগতির কোর অ্যাক্টিভেশন
- লো-ইমপ্যাক্ট ফাংশনাল মুভমেন্ট
- শরীরের গতিবিধি স্বাভাবিক করতে হালকা এক্সারসাইজ
এভাবে তিনি স্বাস্থ্যকরভাবে ফিরে পান আগের শেপ ও শক্তি।
ডায়েট; প্ল্যান্ট-বেইজড খাবারই তার ‘বেস্ট শেপ’-এর রহস্য
কিম কার্দাশিয়ান বহুবার জানিয়েছেন, প্ল্যান্ট-বেইজড ডায়েটই তার জীবনের সেরা শারীরিক অবস্থায় পৌঁছাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। তার প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকে-
- প্ল্যান্ট-বেইজড প্রোটিন
- প্রচুর শাকসবজি
- সালাদ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল
- অল্প কার্বোহাইড্রেট
- স্টিমড বা অয়েল-ফ্রি খাবার
- পর্যাপ্ত পানি
এই ডায়েট তাকে দিয়েছে-
- উজ্জ্বল ও পরিষ্কার স্কিন
- সারাদিন এনার্জি
- শরীরে কম প্রদাহ
- টেকসই শক্তি
তিনি বলেন-
“আমি যেমন দেখাচ্ছি, তেমন অনুভবও করছি, এটা এসেছে আমার খাবারের কারণেই।”
কোন ওয়ার্কআউট একেবারেই পছন্দ করেন না কিম
যদিও তিনি অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ, তবে এমন একটি ওয়ার্কআউট রয়েছে যা তিনি কখনোই করতে চান না ড্যান্স ওয়ার্কআউট। তার কথায়-
“Any dancing workout—I hate it!”
এছাড়া হট ইয়োগা ও তিনি পছন্দ করেন না, কারণ সেই শান্ত পরিবেশ তাকে ব্যায়ামের বদলে ঘুম পাড়িয়ে দেয়।
“Put me anywhere comfortable, I can fall asleep.”
ব্যস্ততা ও চাপের মাঝেও যেভাবে নিজেকে ফিট রাখেন
ব্যবসা, পরিবার, ব্র্যান্ড, শো, ইভেন্ট, সব মিলিয়ে কিম কার্দাশিয়ানের দৈনন্দিন জীবন অত্যন্ত ব্যস্ত। কিন্তু তিনি প্রতিদিন দেড় ঘণ্টা শুধুমাত্র নিজের জন্য রেখে দেন।
এই সময়টি তাকে-
- আত্মবিশ্বাসী রাখে
- স্ট্রেস কমায়
- মানসিকভাবে শক্ত রাখে
- শারীরিকভাবে ফোকাসড করে
তার ভাষায়-
“দিনের যে সময়টুকু শুধু নিজের জন্য রাখি, ওটাই আমার শক্তি।”
৪৫ বছরেও ‘স্ন্যাচড’ লুক; এর পেছনের মূল রহস্য
তার বয়স বাড়লেও লুক, আত্মবিশ্বাস, শারীরিক গঠন, সবকিছু এখনো নজরকাড়া। এর পেছনে রয়েছে-
- স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের ধারাবাহিকতা
- সপ্তাহে অন্তত একটি পিলাটেস সেশন
- ব্যালেন্সড প্ল্যান্ট-বেইজড ডায়েট
- পর্যাপ্ত ঘুম
- সেলফ-কেয়ার শৃঙ্খলা
- নিয়মিত ইনভেস্টমেন্ট
তিনি নিজেকে বলেন-
“My body is my responsibility.”
নতুন NikeSkims কালেকশন নিয়ে উত্তেজনা
ফিটনেস রুটিনের পাশাপাশি কিম এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার নতুন NikeSkims সংগ্রহ নিয়ে, যা ২৬ সেপ্টেম্বর বাজারে আসছে। ফ্যাশন ও স্পোর্টসওয়্যারের এই অনন্য সংমিশ্রণ ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভক্তদের প্রত্যাশা, এবারও তারা নতুন কিছু দেখবে।
আপনার মতামত লিখুন