প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাপী পিসিওএস সচেতনতা মাস পালন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো নারীদের মধ্যে বহুল প্রচলিত হরমোনজনিত সমস্যা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এ বছরের প্রতিপাদ্য— “পিসিওএস, প্রজননক্ষমতা ও নারীর স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা।”
পিসিওএস হলো প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের মধ্যে দেখা দেওয়া একটি হরমোনজনিত সমস্যা। এ অবস্থায় ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট সিস্ট (পানি ভর্তি থলি) তৈরি হয় এবং শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে মাসিক অনিয়ম, গর্ভধারণে সমস্যা, ব্রণ, অতিরিক্ত লোম, ওজন বৃদ্ধি ইত্যাদি জটিলতা দেখা দেয়।
পিসিওএসের স্থায়ী চিকিৎসা নেই, তবে জীবনধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
সুষম খাদ্যাভ্যাস: প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলা; শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া।
নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: মাত্র ৫–১০% ওজন কমালেও অনেক উপসর্গের উন্নতি হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ: প্রয়োজনে হরমোনাল ওষুধ, মেটফরমিন বা ফার্টিলিটি চিকিৎসা গ্রহণ।
মানসিক স্বাস্থ্য: কাউন্সেলিং, সাপোর্ট গ্রুপে অংশগ্রহণ উদ্বেগ ও হতাশা কমাতে সহায়তা করে।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ শতাংশ নারী পিসিওএসে আক্রান্ত। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, বন্ধ্যত্ব এবং জরায়ু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই কিশোরী বয়স থেকেই মাসিক চক্র সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শেখানো এবং পরিবার ও স্কুল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
বিষয় : চিকিৎসা PCOS স্বাস্থ্য পিসিওএস কী

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাপী পিসিওএস সচেতনতা মাস পালন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো নারীদের মধ্যে বহুল প্রচলিত হরমোনজনিত সমস্যা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এ বছরের প্রতিপাদ্য— “পিসিওএস, প্রজননক্ষমতা ও নারীর স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা।”
পিসিওএস হলো প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের মধ্যে দেখা দেওয়া একটি হরমোনজনিত সমস্যা। এ অবস্থায় ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট সিস্ট (পানি ভর্তি থলি) তৈরি হয় এবং শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে মাসিক অনিয়ম, গর্ভধারণে সমস্যা, ব্রণ, অতিরিক্ত লোম, ওজন বৃদ্ধি ইত্যাদি জটিলতা দেখা দেয়।
পিসিওএসের স্থায়ী চিকিৎসা নেই, তবে জীবনধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
সুষম খাদ্যাভ্যাস: প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলা; শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া।
নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: মাত্র ৫–১০% ওজন কমালেও অনেক উপসর্গের উন্নতি হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ: প্রয়োজনে হরমোনাল ওষুধ, মেটফরমিন বা ফার্টিলিটি চিকিৎসা গ্রহণ।
মানসিক স্বাস্থ্য: কাউন্সেলিং, সাপোর্ট গ্রুপে অংশগ্রহণ উদ্বেগ ও হতাশা কমাতে সহায়তা করে।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ শতাংশ নারী পিসিওএসে আক্রান্ত। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, বন্ধ্যত্ব এবং জরায়ু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই কিশোরী বয়স থেকেই মাসিক চক্র সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শেখানো এবং পরিবার ও স্কুল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
[53]

আপনার মতামত লিখুন