বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন অবশেষে পর্যটকদের জন্য আবারও খুলে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে দ্বীপটিতে পর্যটক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন।
তিনি বলেন, “গত এক বছরে আমরা পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন ও আধুনিকায়নে কাজ করেছি। এসব উদ্যোগের ফলেই দ্বীপে দায়িত্বশীল পর্যটন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে।”
নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শুধুমাত্র দিনভিত্তিক ভ্রমণ (day trip) করা যাবে।
জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে রাতযাপনের (night stay) অনুমতি দেওয়া হবে।
প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটক প্রবেশ করতে পারবে।
পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিবন্ধনভিত্তিক (registration-based) ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত হবে।
এই নিয়মগুলো পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।
আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হতে যাচ্ছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ।
সরকার দ্বীপের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও প্রবাল প্রাচীর রক্ষায় ইতোমধ্যে সেন্ট মার্টিনকে “Marine Protected Area (MPA)” হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এছাড়া, পর্যটকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব হোটেল এবং দায়িত্বশীল ভ্রমণ আচরণ নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।
দ্বীপে যেতে কীভাবে?
বাংলাদেশের মূলভূমি থেকে সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যেতে হলে প্রথমে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পৌঁছাতে হয়।
টেকনাফ জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন সকালে নির্ধারিত যাত্রীবাহী জাহাজ ছেড়ে যায় দ্বীপের উদ্দেশ্যে।
প্রায় তিন ঘণ্টার মনোমুগ্ধকর সমুদ্রযাত্রার পরই চোখে পড়ে নীল জলরাশি, সাদা বালির সৈকত আর নারকেল গাছের সারি— যেন এক টুকরো স্বপ্নের দেশ।
সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণে অবস্থিত ছোট্ট ছেঁড়া দ্বীপ পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য।
জোয়ারে দ্বীপের একাংশ ডুবে গেলেও, ভাটায় ট্রলার, সাইকেল বা পায়ে হেঁটে পৌঁছানো যায় সেখানে।
স্বচ্ছ নীল জল, সূর্যাস্তের লাল আভা এবং প্রবালের নিচে নাচতে থাকা মাছের ঝাঁক— সব মিলে ছেঁড়া দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি।
উপদেষ্টা জানান, ২০১০ সালের পর্যটন নীতি হালনাগাদ করে ২০২৫ সালের নতুন নীতির খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যা এখন অনলাইনে মতামতের জন্য উন্মুক্ত।
এছাড়া অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে ট্রাভেল এজেন্সি কন্ট্রোল অ্যাক্ট ২০১৩ ও রুলস ২০২২ সংশোধন করা হয়েছে।
গত অর্থবছরে পর্যটন খাত থেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১১০ শতাংশ।
একই সময়ে সিন্ডিকেট ও ভাড়া কারসাজির সঙ্গে জড়িত ১৩টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, তরুণদের সম্পৃক্ত করতে উদ্যোক্তা সেমিনার, বেসক্যাম্প ট্রেনিং ও পর্যটন স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন: নতুন মোটেল ও আঞ্চলিক অফিস
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এছাড়া, বাগেরহাটে ষাট গম্বুজ মসজিদ পরিদর্শনে আসা পর্যটকদের জন্য নতুন ট্যুরিজম মোটেল ও যুব ইন চালু হয়েছে।
সরকারের “মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি ২০২৫” অনুযায়ী পর্যটন করপোরেশনে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের নীল জলরাশি আর সূর্যাস্তের সৌন্দর্যে ভরপুর সেন্ট মার্টিন শুধু পর্যটনের কেন্দ্র নয়,এটি আমাদের প্রকৃতি সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠছে।
পর্যটন উপদেষ্টা বলেন, “আমরা চাই, সেন্ট মার্টিন হোক দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব ভ্রমণের মডেল।”

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন অবশেষে পর্যটকদের জন্য আবারও খুলে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে দ্বীপটিতে পর্যটক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন।
তিনি বলেন, “গত এক বছরে আমরা পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন ও আধুনিকায়নে কাজ করেছি। এসব উদ্যোগের ফলেই দ্বীপে দায়িত্বশীল পর্যটন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে।”
নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শুধুমাত্র দিনভিত্তিক ভ্রমণ (day trip) করা যাবে।
জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে রাতযাপনের (night stay) অনুমতি দেওয়া হবে।
প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটক প্রবেশ করতে পারবে।
পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিবন্ধনভিত্তিক (registration-based) ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত হবে।
এই নিয়মগুলো পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।
আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হতে যাচ্ছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ।
সরকার দ্বীপের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও প্রবাল প্রাচীর রক্ষায় ইতোমধ্যে সেন্ট মার্টিনকে “Marine Protected Area (MPA)” হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এছাড়া, পর্যটকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব হোটেল এবং দায়িত্বশীল ভ্রমণ আচরণ নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।
দ্বীপে যেতে কীভাবে?
বাংলাদেশের মূলভূমি থেকে সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যেতে হলে প্রথমে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পৌঁছাতে হয়।
টেকনাফ জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন সকালে নির্ধারিত যাত্রীবাহী জাহাজ ছেড়ে যায় দ্বীপের উদ্দেশ্যে।
প্রায় তিন ঘণ্টার মনোমুগ্ধকর সমুদ্রযাত্রার পরই চোখে পড়ে নীল জলরাশি, সাদা বালির সৈকত আর নারকেল গাছের সারি— যেন এক টুকরো স্বপ্নের দেশ।
সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণে অবস্থিত ছোট্ট ছেঁড়া দ্বীপ পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য।
জোয়ারে দ্বীপের একাংশ ডুবে গেলেও, ভাটায় ট্রলার, সাইকেল বা পায়ে হেঁটে পৌঁছানো যায় সেখানে।
স্বচ্ছ নীল জল, সূর্যাস্তের লাল আভা এবং প্রবালের নিচে নাচতে থাকা মাছের ঝাঁক— সব মিলে ছেঁড়া দ্বীপ যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি।
উপদেষ্টা জানান, ২০১০ সালের পর্যটন নীতি হালনাগাদ করে ২০২৫ সালের নতুন নীতির খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যা এখন অনলাইনে মতামতের জন্য উন্মুক্ত।
এছাড়া অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে ট্রাভেল এজেন্সি কন্ট্রোল অ্যাক্ট ২০১৩ ও রুলস ২০২২ সংশোধন করা হয়েছে।
গত অর্থবছরে পর্যটন খাত থেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১১০ শতাংশ।
একই সময়ে সিন্ডিকেট ও ভাড়া কারসাজির সঙ্গে জড়িত ১৩টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, তরুণদের সম্পৃক্ত করতে উদ্যোক্তা সেমিনার, বেসক্যাম্প ট্রেনিং ও পর্যটন স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন: নতুন মোটেল ও আঞ্চলিক অফিস
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এছাড়া, বাগেরহাটে ষাট গম্বুজ মসজিদ পরিদর্শনে আসা পর্যটকদের জন্য নতুন ট্যুরিজম মোটেল ও যুব ইন চালু হয়েছে।
সরকারের “মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি ২০২৫” অনুযায়ী পর্যটন করপোরেশনে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের নীল জলরাশি আর সূর্যাস্তের সৌন্দর্যে ভরপুর সেন্ট মার্টিন শুধু পর্যটনের কেন্দ্র নয়,এটি আমাদের প্রকৃতি সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠছে।
পর্যটন উপদেষ্টা বলেন, “আমরা চাই, সেন্ট মার্টিন হোক দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব ভ্রমণের মডেল।”

আপনার মতামত লিখুন