সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক খুললেই চোখে পড়ে কিছু অদ্ভুত নাম— কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান, ওসমান গণি, আবুল কালাম প্লাম্বার।
এরা এখন অনেকের কাছেই বেশ পরিচিত মুখ। কিন্তু এরা কি সত্যিই বাস্তব মানুষ? না কি শুধুই ইন্টারনেটের সৃষ্টি?
আসলে এরা সবাই ফেসবুক পেজ ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’-র চরিত্র— একধরনের ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টে ভরা একটি পাতা, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক মনোভাব ও আচরণের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
পাতাটির নাম শুনে অনেকে ভাবেন এটি সুইজারল্যান্ড থেকে পরিচালিত হয়। কিন্তু বাস্তবে নয়। পেজটির মূল অ্যাডমিন একজন বাংলাদেশি প্রবাসী, যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। তাঁর সঙ্গে আছেন আরও কয়েকজন— কেউ যুক্তরাষ্ট্রে, কেউ সুইডেনে।
তাঁদের ভাষায়, পাতার সব চরিত্রই কাল্পনিক, তবে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে বাস্তব জীবনের মানুষদের কাছ থেকে। প্রবাস জীবনের হীনমন্যতা, হিংসা, পরশ্রীকাতরতা— সবই ফুটে ওঠে এই চরিত্রগুলোর আচরণে।
‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’-র নির্মাতা বিবিসি বাংলাকে বলেন,
“আমি যেসব প্রবাসীকে দেখেছি, তাদের অনেকেই সবসময় অন্যকে ছোট করে কথা বলেন, নিরুৎসাহিত করেন। এই মানসিকতাকেই আমরা ব্যঙ্গের মাধ্যমে দেখাই।”
তিনি জানান, একসময় তিনি প্রবাসে এক বাংলাদেশি মালিকের রেস্তোরায় কাজ করতেন। সেখানে নানা রকম বৈষম্য ও অনৈতিক আচরণ তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ব্যঙ্গাত্মক চরিত্র ওসমান গণি।
সুইজারল্যান্ড প্রবাসী পাতার তিন চরিত্র ওসমান গনি,আবুল কালাম প্লাম্বার ও কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান
পাতার অ্যাডমিন আরও বলেন,
“যখন স্ত্রী স্কলারশিপে বিদেশে আসে, আমি তার স্পাউস হিসেবে যাই। তখন অনেকে ব্যঙ্গ করত— ‘স্ত্রীর পেছনে এসেছে!’ অথচ বাস্তবে আমি পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য নিজের ব্যবসা ছেড়ে গিয়েছিলাম।”
এই ধরনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় পেজের হাস্যরস ও চরিত্রগুলো।
অ্যাডমিন বলেন, কয়েক বছর আগে একবার বন্ধুদের সঙ্গে সুইজারল্যান্ড বেড়াতে গিয়ে কিছু বাজে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেই নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে, কিছু প্রবাসী তাঁকে তীব্রভাবে সমালোচনা করে।
সেখান থেকেই মজা করে পেজটির নাম রাখেন ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’।
“আমরা ভাবলাম, যারা সবসময় অহংকারী হয়ে দেশের মানুষকে হেয় করে, তাদের নিয়েই মজা করি। মানুষ হাসবে, ভাববে— এ তো আমাদেরই গল্প।”
মাত্র দুই বছরের মধ্যেই ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ ৮০ হাজার।
এমনকি এক বিদেশি দূতাবাস তাদের ঘোষণায় এই পাতার চরিত্র কামরুজ্জামান কামরুজ্জামানের ছবি ব্যবহার করেছিল— যা তখন ভাইরাল হয়।
পাতার প্রতিটি চরিত্রের ছবি মূলত পরিচিত ব্যক্তিদের থেকে নেওয়া হলেও, তা এআই (Artificial Intelligence) ব্যবহার করে পরিবর্তন করা হয়। ফলে বাস্তবের সঙ্গে পুরোপুরি মিল থাকে না।
‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’-র দল জানায়,
“আমরা কাউকে অপমান করি না। বরং যারা নিজের দেশ ও মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করে, তাদের মানসিকতা ব্যঙ্গ করে তুলে ধরি।”
আজ এই ব্যঙ্গাত্মক পাতা কেবল হাস্যরস নয়, বরং প্রবাসী জীবনের সমাজ-মনস্তত্ত্বের আয়না হয়ে উঠেছে।
হয়তো এই কারণেই কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান বা ওসমান গণিদের সংলাপ আমাদের এত পরিচিত লাগে— কারণ তারা আসলে আমাদেরই প্রতিবিম্ব।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক খুললেই চোখে পড়ে কিছু অদ্ভুত নাম— কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান, ওসমান গণি, আবুল কালাম প্লাম্বার।
এরা এখন অনেকের কাছেই বেশ পরিচিত মুখ। কিন্তু এরা কি সত্যিই বাস্তব মানুষ? না কি শুধুই ইন্টারনেটের সৃষ্টি?
আসলে এরা সবাই ফেসবুক পেজ ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’-র চরিত্র— একধরনের ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টে ভরা একটি পাতা, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক মনোভাব ও আচরণের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
পাতাটির নাম শুনে অনেকে ভাবেন এটি সুইজারল্যান্ড থেকে পরিচালিত হয়। কিন্তু বাস্তবে নয়। পেজটির মূল অ্যাডমিন একজন বাংলাদেশি প্রবাসী, যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। তাঁর সঙ্গে আছেন আরও কয়েকজন— কেউ যুক্তরাষ্ট্রে, কেউ সুইডেনে।
তাঁদের ভাষায়, পাতার সব চরিত্রই কাল্পনিক, তবে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে বাস্তব জীবনের মানুষদের কাছ থেকে। প্রবাস জীবনের হীনমন্যতা, হিংসা, পরশ্রীকাতরতা— সবই ফুটে ওঠে এই চরিত্রগুলোর আচরণে।
‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’-র নির্মাতা বিবিসি বাংলাকে বলেন,
“আমি যেসব প্রবাসীকে দেখেছি, তাদের অনেকেই সবসময় অন্যকে ছোট করে কথা বলেন, নিরুৎসাহিত করেন। এই মানসিকতাকেই আমরা ব্যঙ্গের মাধ্যমে দেখাই।”
তিনি জানান, একসময় তিনি প্রবাসে এক বাংলাদেশি মালিকের রেস্তোরায় কাজ করতেন। সেখানে নানা রকম বৈষম্য ও অনৈতিক আচরণ তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ব্যঙ্গাত্মক চরিত্র ওসমান গণি।
সুইজারল্যান্ড প্রবাসী পাতার তিন চরিত্র ওসমান গনি,আবুল কালাম প্লাম্বার ও কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান
পাতার অ্যাডমিন আরও বলেন,
“যখন স্ত্রী স্কলারশিপে বিদেশে আসে, আমি তার স্পাউস হিসেবে যাই। তখন অনেকে ব্যঙ্গ করত— ‘স্ত্রীর পেছনে এসেছে!’ অথচ বাস্তবে আমি পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য নিজের ব্যবসা ছেড়ে গিয়েছিলাম।”
এই ধরনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় পেজের হাস্যরস ও চরিত্রগুলো।
অ্যাডমিন বলেন, কয়েক বছর আগে একবার বন্ধুদের সঙ্গে সুইজারল্যান্ড বেড়াতে গিয়ে কিছু বাজে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেই নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে, কিছু প্রবাসী তাঁকে তীব্রভাবে সমালোচনা করে।
সেখান থেকেই মজা করে পেজটির নাম রাখেন ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’।
“আমরা ভাবলাম, যারা সবসময় অহংকারী হয়ে দেশের মানুষকে হেয় করে, তাদের নিয়েই মজা করি। মানুষ হাসবে, ভাববে— এ তো আমাদেরই গল্প।”
মাত্র দুই বছরের মধ্যেই ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ ৮০ হাজার।
এমনকি এক বিদেশি দূতাবাস তাদের ঘোষণায় এই পাতার চরিত্র কামরুজ্জামান কামরুজ্জামানের ছবি ব্যবহার করেছিল— যা তখন ভাইরাল হয়।
পাতার প্রতিটি চরিত্রের ছবি মূলত পরিচিত ব্যক্তিদের থেকে নেওয়া হলেও, তা এআই (Artificial Intelligence) ব্যবহার করে পরিবর্তন করা হয়। ফলে বাস্তবের সঙ্গে পুরোপুরি মিল থাকে না।
‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’-র দল জানায়,
“আমরা কাউকে অপমান করি না। বরং যারা নিজের দেশ ও মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করে, তাদের মানসিকতা ব্যঙ্গ করে তুলে ধরি।”
আজ এই ব্যঙ্গাত্মক পাতা কেবল হাস্যরস নয়, বরং প্রবাসী জীবনের সমাজ-মনস্তত্ত্বের আয়না হয়ে উঠেছে।
হয়তো এই কারণেই কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান বা ওসমান গণিদের সংলাপ আমাদের এত পরিচিত লাগে— কারণ তারা আসলে আমাদেরই প্রতিবিম্ব।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

আপনার মতামত লিখুন