গত কয়েক বছরে ঢাকার কালিনারি বা খাবারের জগতে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও ফুড ব্র্যান্ড যুক্ত হচ্ছে শহরের প্রতিটি এলাকায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই রেস্টুরেন্ট কালচার আসলেই কতটা দরকারি, আর আমরা কি এর জন্য খুব বেশি খরচ করে ফেলছি?
চলুন একটু হিসাব করি। ধরা যাক, একজন মধ্যবিত্ত দম্পতি , খুব ধনী না হলেও স্থিতিশীলভাবে উপার্জন করছেন। তারা সাধারণত মাসে একবার ভালো মানের ফাইন-ডাইনিং রেস্টুরেন্টে যান, যেখানে খরচ হয় প্রায় ৫,০০০ টাকা। এর পাশাপাশি মাসে একবার মাঝারি মানের রেস্টুরেন্টে যান (৩,০০০ টাকা), একবার সাধারণ বা বাজেট রেস্টুরেন্টে খান (১,০০০ টাকা) এবং দু’বার ঘরে খাবার অর্ডার করেন (২,০০০ টাকা)। সাথে বন্ধু বা অফিস সহকর্মীদের সঙ্গে বাইরে খেতে গেলে বাড়তি ২,০০০ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে মাসিক খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১৩,০০০ টাকা! বড় পরিবারের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে।
আমরা প্রায়ই মনে করি, বিনোদন মানেই বাইরে খেতে যাওয়া। কিন্তু সত্যিই কি তাই হওয়া উচিত?ভাবুন তো? এই টাকার কিছু অংশ যদি আপনি ভ্রমণ, বই পড়া, বা নিজের কোনো হবি (যেমন ফটোগ্রাফি, আর্ট, বা মিউজিক শেখা)-তে খরচ করতেন, কেমন হতো?
যদি মাসে মাত্র ৫,০০০ টাকা রেস্টুরেন্ট বিল থেকে বাঁচাতে পারেন, তাহলে এক বছরে জমবে ৬০,০০০ টাকা, যা দিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে দম্পতি হিসেবে দুই রাতের মানসম্মত ভ্রমণ সম্ভব। আর দুই বছর সঞ্চয় করলে ১,২০,০০০ টাকা, যা বিদেশ ভ্রমণের টিকিট খরচ মেটাতে যথেষ্ট!
প্রতিবার বাইরে খাওয়ার সময় ভেবে দেখেছেন কি, আপনি আসলেই সেই অর্থের বিনিময়ে সঠিক মান পাচ্ছেন? রেস্টুরেন্টের পরিবেশন, খাবারের মান, সেবার গুণগত মান, সব কিছুই কি আপনার প্রত্যাশার সমান? নাকি শুধুই ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে অর্থ নষ্ট করছেন?
আজকাল অনেকেই নতুন রেস্টুরেন্টে যাচ্ছেন শুধু “ইনস্টাগ্রামযোগ্য” ছবি তোলার জন্য। কিন্তু সেই হাইপের পেছনে আসল স্বাদ ও অভিজ্ঞতা অনেক সময়ই হারিয়ে যায়। জনপ্রিয়তার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে আমরা অনেক সময় নিজের আর্থিক স্বস্তি হারাই।
পরেরবার বাইরে খেতে যাওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, “এই খরচটা কি আমার জীবনে আনন্দ আনবে, নাকি শুধু ট্রেন্ড ফলো করছি?” সচেতন হোন, স্মার্টভাবে খরচ করুন।

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৫
গত কয়েক বছরে ঢাকার কালিনারি বা খাবারের জগতে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও ফুড ব্র্যান্ড যুক্ত হচ্ছে শহরের প্রতিটি এলাকায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই রেস্টুরেন্ট কালচার আসলেই কতটা দরকারি, আর আমরা কি এর জন্য খুব বেশি খরচ করে ফেলছি?
চলুন একটু হিসাব করি। ধরা যাক, একজন মধ্যবিত্ত দম্পতি , খুব ধনী না হলেও স্থিতিশীলভাবে উপার্জন করছেন। তারা সাধারণত মাসে একবার ভালো মানের ফাইন-ডাইনিং রেস্টুরেন্টে যান, যেখানে খরচ হয় প্রায় ৫,০০০ টাকা। এর পাশাপাশি মাসে একবার মাঝারি মানের রেস্টুরেন্টে যান (৩,০০০ টাকা), একবার সাধারণ বা বাজেট রেস্টুরেন্টে খান (১,০০০ টাকা) এবং দু’বার ঘরে খাবার অর্ডার করেন (২,০০০ টাকা)। সাথে বন্ধু বা অফিস সহকর্মীদের সঙ্গে বাইরে খেতে গেলে বাড়তি ২,০০০ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে মাসিক খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১৩,০০০ টাকা! বড় পরিবারের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে।
আমরা প্রায়ই মনে করি, বিনোদন মানেই বাইরে খেতে যাওয়া। কিন্তু সত্যিই কি তাই হওয়া উচিত?ভাবুন তো? এই টাকার কিছু অংশ যদি আপনি ভ্রমণ, বই পড়া, বা নিজের কোনো হবি (যেমন ফটোগ্রাফি, আর্ট, বা মিউজিক শেখা)-তে খরচ করতেন, কেমন হতো?
যদি মাসে মাত্র ৫,০০০ টাকা রেস্টুরেন্ট বিল থেকে বাঁচাতে পারেন, তাহলে এক বছরে জমবে ৬০,০০০ টাকা, যা দিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে দম্পতি হিসেবে দুই রাতের মানসম্মত ভ্রমণ সম্ভব। আর দুই বছর সঞ্চয় করলে ১,২০,০০০ টাকা, যা বিদেশ ভ্রমণের টিকিট খরচ মেটাতে যথেষ্ট!
প্রতিবার বাইরে খাওয়ার সময় ভেবে দেখেছেন কি, আপনি আসলেই সেই অর্থের বিনিময়ে সঠিক মান পাচ্ছেন? রেস্টুরেন্টের পরিবেশন, খাবারের মান, সেবার গুণগত মান, সব কিছুই কি আপনার প্রত্যাশার সমান? নাকি শুধুই ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে অর্থ নষ্ট করছেন?
আজকাল অনেকেই নতুন রেস্টুরেন্টে যাচ্ছেন শুধু “ইনস্টাগ্রামযোগ্য” ছবি তোলার জন্য। কিন্তু সেই হাইপের পেছনে আসল স্বাদ ও অভিজ্ঞতা অনেক সময়ই হারিয়ে যায়। জনপ্রিয়তার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে আমরা অনেক সময় নিজের আর্থিক স্বস্তি হারাই।
[842]
পরেরবার বাইরে খেতে যাওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, “এই খরচটা কি আমার জীবনে আনন্দ আনবে, নাকি শুধু ট্রেন্ড ফলো করছি?” সচেতন হোন, স্মার্টভাবে খরচ করুন।

আপনার মতামত লিখুন