দেশের কোটি করদাতার জন্য বড় স্বস্তির খবর-অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। চলতি কর বছর ২০২৫–২৬ থেকে নতুন কিছু বিধান কার্যকর হওয়ায় করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাধ্যতামূলক অনলাইন রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী হালনাগাদ ও ডিজিটাল ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার কারণে অনেক করদাতাকে বেশি সময় নিতে হচ্ছে। এনবিআরের একজন কর্মকর্তা বলেন, “করদাতাদের সুবিধা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করতেই সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে।”
সম্ভাব্য নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হতে পারে। দেশজুড়ে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তবে নতুন নিয়মে প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় প্রয়োজন হওয়ায় এ সময় বৃদ্ধি করদাতাদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিয়ম
অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। তবে ব্যবসায়ী,
চাকরিজীবী, প্রবাসী এবং নানা শ্রেণির করদাতাদের সময় বৃদ্ধির আবেদন বিবেচনায় নিয়ে এনবিআর
সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছে।
এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান-
“২০২৫–২৬ করবর্ষে কোম্পানি ছাড়া সব করদাতার জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনেকে কাগজপত্র সংগ্রহে সময় পাচ্ছেন না। তাই আরও এক মাস সময় বাড়ানো হচ্ছে।”
এ বছর অনলাইন রিটার্ন দাখিলের প্রবণতা
উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এনবিআর বলছে-
এটি ই-রিটার্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড়
অগ্রগতি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আয়কর আইন–২০২৩ অনুযায়ী এ বছর থেকে সরাসরি কর কার্যালয়ে গিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ নেই।
কেবল নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির করদাতাই ব্যতিক্রম। তারা
হলো-
এই ছাড়া সবার জন্য অনলাইনে আয়কর
রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
এনবিআরের
মতে-
গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন ই-রিটার্ন ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।
বিদেশে থাকা করদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করেছে এনবিআর।
তারা পাসপোর্ট নম্বর, এনআইডি, ই-মেইল দিয়ে ereturn@etaxnbr.gov.bd-এ আবেদন করলেই-
এতে প্রবাসী করদাতারা খুব সহজে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
আয়–ব্যয়–সম্পদ–দায়ের তথ্য দিন।
ব্যবহার করতে পারবেন-
সঙ্গে সঙ্গে-
সময়সীমা
বাড়ানোর আলোচনা চললেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
ফলে আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বরই কার্যকর
আছে। বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১৫ লাখ টিআইএনধারী রয়েছেন এবং যাদের করযোগ্য আয় রয়েছে,
তাদের জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
কর বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে আগে থেকেই রিটার্ন দাখিল করা নিরাপদ। প্রয়োজন হলে ভুল সংশোধনের সুযোগও থাকে। অন্যদিকে সময়সীমার কাছাকাছি গেলে অনলাইন সাইটে চাপ বাড়ে এবং অনেক সময় সার্ভার সমস্যায় পড়তে হয়।
করদাতাদের ঝামেলাহীনভাবে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল
নিশ্চিত করতে এনবিআর বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা চালু করেছে। এর অংশ হিসেবে খোলা হয়েছে
২৪ ঘণ্টা সক্রিয় কল সেন্টার-
০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১
যে কোনো সময় ফোন করে রিটার্ন ফর্ম পূরণ, নথি যুক্ত
করা, বা সাইট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া আরও আছে:
এসব উদ্যোগের ফলে করদাতারা ঘরে বসেই দ্রুত ও
নির্ভুলভাবে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে কর বিশেষজ্ঞরা “করবান্ধব ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ” হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, চলতি কর বছরে নতুন নিয়ম সংযোজন এবং অনলাইনে করদাতার চাপ বেড়ে যাওয়ায় সময় বৃদ্ধি ছিল জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন-
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও এনবিআরের সাম্প্রতিক উদ্যোগ বিবেচনা করলে স্পষ্ট হয়-সময়
বাড়ানো হলে করদাতাদের ওপর চাপ কমবে এবং অনলাইনে রিটার্ন দাখিল আরও স্বচ্ছন্দ হবে।
বর্তমানে বেশির ভাগ করদাতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিলে আগ্রহী হওয়ায় এই
সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে স্বস্তি এনে দেবে।
এক মাস সময় বৃদ্ধি পেলে কোটি করদাতা রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার বাড়তি সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ই-রিটার্ন পদ্ধতি আরও জনপ্রিয় হবে, কর দাখিলের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং পুরো কর ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও জনবান্ধব হবে-এটাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রত্যাশা।

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ নভেম্বর ২০২৫
দেশের কোটি করদাতার জন্য বড় স্বস্তির খবর-অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। চলতি কর বছর ২০২৫–২৬ থেকে নতুন কিছু বিধান কার্যকর হওয়ায় করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাধ্যতামূলক অনলাইন রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী হালনাগাদ ও ডিজিটাল ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার কারণে অনেক করদাতাকে বেশি সময় নিতে হচ্ছে। এনবিআরের একজন কর্মকর্তা বলেন, “করদাতাদের সুবিধা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করতেই সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে।”
সম্ভাব্য নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হতে পারে। দেশজুড়ে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তবে নতুন নিয়মে প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় প্রয়োজন হওয়ায় এ সময় বৃদ্ধি করদাতাদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিয়ম
অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। তবে ব্যবসায়ী,
চাকরিজীবী, প্রবাসী এবং নানা শ্রেণির করদাতাদের সময় বৃদ্ধির আবেদন বিবেচনায় নিয়ে এনবিআর
সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছে।
এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান-
“২০২৫–২৬ করবর্ষে কোম্পানি ছাড়া সব করদাতার জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনেকে কাগজপত্র সংগ্রহে সময় পাচ্ছেন না। তাই আরও এক মাস সময় বাড়ানো হচ্ছে।”
এ বছর অনলাইন রিটার্ন দাখিলের প্রবণতা
উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এনবিআর বলছে-
এটি ই-রিটার্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড়
অগ্রগতি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আয়কর আইন–২০২৩ অনুযায়ী এ বছর থেকে সরাসরি কর কার্যালয়ে গিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ নেই।
কেবল নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির করদাতাই ব্যতিক্রম। তারা
হলো-
এই ছাড়া সবার জন্য অনলাইনে আয়কর
রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
এনবিআরের
মতে-
গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন ই-রিটার্ন ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।
বিদেশে থাকা করদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করেছে এনবিআর।
তারা পাসপোর্ট নম্বর, এনআইডি, ই-মেইল দিয়ে ereturn@etaxnbr.gov.bd-এ আবেদন করলেই-
এতে প্রবাসী করদাতারা খুব সহজে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
আয়–ব্যয়–সম্পদ–দায়ের তথ্য দিন।
ব্যবহার করতে পারবেন-
সঙ্গে সঙ্গে-
সময়সীমা
বাড়ানোর আলোচনা চললেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
ফলে আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বরই কার্যকর
আছে। বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১৫ লাখ টিআইএনধারী রয়েছেন এবং যাদের করযোগ্য আয় রয়েছে,
তাদের জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
কর বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে আগে থেকেই রিটার্ন দাখিল করা নিরাপদ। প্রয়োজন হলে ভুল সংশোধনের সুযোগও থাকে। অন্যদিকে সময়সীমার কাছাকাছি গেলে অনলাইন সাইটে চাপ বাড়ে এবং অনেক সময় সার্ভার সমস্যায় পড়তে হয়।
করদাতাদের ঝামেলাহীনভাবে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল
নিশ্চিত করতে এনবিআর বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থা চালু করেছে। এর অংশ হিসেবে খোলা হয়েছে
২৪ ঘণ্টা সক্রিয় কল সেন্টার-
০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১
যে কোনো সময় ফোন করে রিটার্ন ফর্ম পূরণ, নথি যুক্ত
করা, বা সাইট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া আরও আছে:
এসব উদ্যোগের ফলে করদাতারা ঘরে বসেই দ্রুত ও
নির্ভুলভাবে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে কর বিশেষজ্ঞরা “করবান্ধব ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ” হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, চলতি কর বছরে নতুন নিয়ম সংযোজন এবং অনলাইনে করদাতার চাপ বেড়ে যাওয়ায় সময় বৃদ্ধি ছিল জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন-
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও এনবিআরের সাম্প্রতিক উদ্যোগ বিবেচনা করলে স্পষ্ট হয়-সময়
বাড়ানো হলে করদাতাদের ওপর চাপ কমবে এবং অনলাইনে রিটার্ন দাখিল আরও স্বচ্ছন্দ হবে।
বর্তমানে বেশির ভাগ করদাতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিলে আগ্রহী হওয়ায় এই
সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে স্বস্তি এনে দেবে।
এক মাস সময় বৃদ্ধি পেলে কোটি করদাতা রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার বাড়তি সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ই-রিটার্ন পদ্ধতি আরও জনপ্রিয় হবে, কর দাখিলের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং পুরো কর ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও জনবান্ধব হবে-এটাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন