রাজধানীর চকবাজার-বকশীবাজার এলাকার ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে
শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২২
নভেম্বর) রাত প্রায় ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই ঘটনায় দ্রুত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর
সদস্যরা মাদ্রাসা এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। চিকিৎসাধীন
শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগের মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, সংঘর্ষে আহত অবস্থায় যাদের হাসপাতালে আনা
হয়েছে তারা হলেন-সাদিক (২১), মইন (২২), ইলিয়াস (২১), ওমর ফারুক (২১), আবু বক্কর
(২২), ওয়ালিদ (২২) এবং এনামুল (২২)। তারা বর্তমানে ঢামেকের জরুরি বিভাগের ৪ নম্বর
কক্ষে চিকিৎসাধীন। এছাড়া পৃথক একটি প্রতিবেদনে আরও চারজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার
তথ্য পাওয়া গেছে-ইলিয়াস (২১), মহিউদ্দিন (১৮), মো. ওমর (২২) ও মাবিক (২১)।
চকবাজার থানা পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘সম্মিলিত ছাত্র পরিষদ’
নামে একটি সংগঠন মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করলে দাওয়াত না পাওয়া অপর একটি শিক্ষার্থী
গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি ক্যান্টিন বন্ধ করে দিলে
উত্তেজনা আরও বাড়ে। পরে অস্থায়ী আদালতের দিক থেকে কয়েকটি রড এনে রাখার ঘটনাকে
কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে
পড়ে। পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হক জানান, কয়েকদিন আগে রায় ঘোষণার পর
কিছু শিক্ষার্থী মিলাদ মাহফিল করতে চাইলে তিনি মৌখিক অনুমতি দেন। তবে মাইকে
উচ্চস্বরে মিলাদ করা নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী বিরক্ত হয়-বিরোধের সূচনা এখান থেকেই বলে
তিনি মনে করেন। চাঁদাবাজি বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি বলেন, তার কাছে
কোনো শিক্ষার্থী এখনো প্রমাণসহ অভিযোগ দেয়নি। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংঘর্ষের পর প্রথমে চকবাজার থানা পুলিশ এবং পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা
মাদ্রাসা এলাকায় অবস্থান নেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুরো ক্যাম্পাস এলাকায়
নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন
উপকমিশনার জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে কড়া নজরদারি থাকবে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন
করা হবে। কোন পক্ষ কীভাবে সংঘর্ষে জড়িত হলো এবং কারা উসকানি দিল-সবই খতিয়ে দেখা
হবে। ক্যাম্পাসের কিছু অংশে আসবাবপত্র এলোমেলো হলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য
পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি আলিয়া মাদ্রাসায় আগেও শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতের ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতাকেই আবার সামনে এনেছে। অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা এখন অত্যন্ত জরুরি।
সর্বশেষ আপডেট এবং আরও খবর পেতে ‘দৈনিক প্রথম সংবাদ’-এর সাথে থাকুন।

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানীর চকবাজার-বকশীবাজার এলাকার ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে
শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২২
নভেম্বর) রাত প্রায় ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই ঘটনায় দ্রুত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর
সদস্যরা মাদ্রাসা এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। চিকিৎসাধীন
শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগের মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, সংঘর্ষে আহত অবস্থায় যাদের হাসপাতালে আনা
হয়েছে তারা হলেন-সাদিক (২১), মইন (২২), ইলিয়াস (২১), ওমর ফারুক (২১), আবু বক্কর
(২২), ওয়ালিদ (২২) এবং এনামুল (২২)। তারা বর্তমানে ঢামেকের জরুরি বিভাগের ৪ নম্বর
কক্ষে চিকিৎসাধীন। এছাড়া পৃথক একটি প্রতিবেদনে আরও চারজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার
তথ্য পাওয়া গেছে-ইলিয়াস (২১), মহিউদ্দিন (১৮), মো. ওমর (২২) ও মাবিক (২১)।
চকবাজার থানা পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘সম্মিলিত ছাত্র পরিষদ’
নামে একটি সংগঠন মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করলে দাওয়াত না পাওয়া অপর একটি শিক্ষার্থী
গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি ক্যান্টিন বন্ধ করে দিলে
উত্তেজনা আরও বাড়ে। পরে অস্থায়ী আদালতের দিক থেকে কয়েকটি রড এনে রাখার ঘটনাকে
কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে
পড়ে। পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হক জানান, কয়েকদিন আগে রায় ঘোষণার পর
কিছু শিক্ষার্থী মিলাদ মাহফিল করতে চাইলে তিনি মৌখিক অনুমতি দেন। তবে মাইকে
উচ্চস্বরে মিলাদ করা নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী বিরক্ত হয়-বিরোধের সূচনা এখান থেকেই বলে
তিনি মনে করেন। চাঁদাবাজি বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি বলেন, তার কাছে
কোনো শিক্ষার্থী এখনো প্রমাণসহ অভিযোগ দেয়নি। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংঘর্ষের পর প্রথমে চকবাজার থানা পুলিশ এবং পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা
মাদ্রাসা এলাকায় অবস্থান নেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুরো ক্যাম্পাস এলাকায়
নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন
উপকমিশনার জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে কড়া নজরদারি থাকবে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন
করা হবে। কোন পক্ষ কীভাবে সংঘর্ষে জড়িত হলো এবং কারা উসকানি দিল-সবই খতিয়ে দেখা
হবে। ক্যাম্পাসের কিছু অংশে আসবাবপত্র এলোমেলো হলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য
পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি আলিয়া মাদ্রাসায় আগেও শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতের ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতাকেই আবার সামনে এনেছে। অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা এখন অত্যন্ত জরুরি।
সর্বশেষ আপডেট এবং আরও খবর পেতে ‘দৈনিক প্রথম সংবাদ’-এর সাথে থাকুন।

আপনার মতামত লিখুন