দৈনিক প্রথম সংবাদ
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

মাইলস্টোনের আরিয়ান ৪০% দগ্ধ হয়ে ১২২ দিন হাসপাতালে কাটিয়ে টঙ্গীতে ঘরে ফিরল

মাইলস্টোনের আরিয়ান ১২২ দিন পর ঘরে ফিরল

মাইলস্টোনের আরিয়ান ১২২ দিন পর ঘরে ফিরল
মাইলস্টোনের আরিয়ান ৪০% দগ্ধ হয়ে ১২২ দিনের চিকিৎসা শেষে টঙ্গীতে বাড়িতে ফিরল

মাইলস্টোনের আরিয়ান মৃ'ত্যুকে হার মানিয়ে বাড়ি ফিরল 

১২ বছরের শিশু আরিয়ান আফিফ-মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। একটি দুর্ঘটনা তার জীবন পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছিল, কিন্তু চার মাসের লড়াই শেষে সে আবার ফিরে এসেছে ঘরের পরিচিত নিরাপদ পরিবেশে। ১২২ দিন ধরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের বিছানায় কাটানো দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হওয়া, ৮ দিন আইসিইউতে থাকা এবং মোট ৩৪টি অস্ত্রোপচার-এ সবকিছুকে জয় করেই ফিরে এসেছে সে।

২৩ জুলাই বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের পর আরিয়ান মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। দুর্ঘটনার খবর দেশে আলোড়ন তোলে, বিশেষ করে যখন জানা যায়-আরিয়ানকে বাঁচাতে হাসপাতালে ছুটে যাওয়া খালু শামসুল হকের কান্না ও আর্তনাদ উপস্থিত সবাইকে কাঁদিয়েছিল। পরদিন “আব্বুজির জন্য অপেক্ষা” শিরোনামের খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। এ খবর জানার পর অসংখ্য মানুষ আরিয়ানের সুস্থতার জন্য দোয়া করতে থাকেন।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত বৃহস্পতিবার আরিয়ান যখন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেল, পরিবার ও চিকিৎসকদের মুখেও স্বস্তির ছাপ। টঙ্গীর বাসায় ফেরার পর যেন নতুন আলো এসে পড়েছে তার জীবনে। আরিয়ান এখনো পুরোপুরি সুস্থ না হলেও আগের তুলনায় অনেক প্রাণবন্ত, কথা বেশি বলে, পুরোনো বন্ধুদের দেখতে চায়, আর প্রিয় মানুষ ‘আব্বুজি’কে আঁকড়ে ধরে থাকে।
বাড়ি ফিরে প্রথমেই সে আবদার করে-ওকে তিন বেলা যেন আব্বুজিই খাওয়ান। শামসুল হক যতটুকু পারেন, সেটাই করেন। সময় না পেলে কখনো তার স্ত্রী এসে ওকে খাইয়ে দেন। তাদের সবার চোখেই এখন একটাই স্বপ্ন-আরিয়ান দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার স্কুলে ফিরবে।

চিকিৎসার ব্যাপ্তি ও ব্যয়ও অনেকেই জানতে চেয়েছেন। দিনে তিনবার যেই বিশেষ বার্ন ক্রিম লাগাতে হত, প্রতিটির দাম সাড়ে চার হাজার টাকা। ফলোআপ, ড্রেসিং, ওষুধ, অস্ত্রোপচার-সব মিলিয়ে চিকিৎসা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। পুরো চিকিৎসার খরচ বহন করেছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, যা পরিবারকে বিশাল দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করেছে। চিকিৎসকদের মতে, আরিয়ানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মনোবল ধরে রাখা-আর সেই শক্তিটা এসেছে তার খালু শামসুল হকের কাছ থেকেই।

আরিয়ান জন্মের পর থেকেই নানা জটিলতার ভেতর ছিল। তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন ছিলেন কিডনি রোগী। আরিয়ানের বয়স যখন মাত্র ৫, তখন বাবাকে হারায় সে। সেই থেকে খালু শামসুল হক-ই হয়ে ওঠেন তার অভিভাবক, বন্ধুর মতো একজন বাবা। আরিয়ান তাকে ‘আব্বুজি’ বলে ডাকে-এ নামেই ডাকতে ভালোবাসে। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও ভালবাসা যে সম্পর্ক তৈরির সবচেয়ে বড় শক্তি-এ গল্প তারই প্রমাণ।

এখনো কিছু ইনফেকশন আছে, বিশেষ করে কানে। নিয়মিত ড্রেসিং ও ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন-আরিয়ানকে পুরোপুরি স্কুলে পাঠানোর মতো অবস্থায় যেতে আরও ৩–৪ মাস লাগতে পারে। তবে মানসিক শক্তি অত্যন্ত ভালো। বন্ধু, শিক্ষক, প্রতিবেশী-সবাই এসে দেখা করছেন, হাসছেন, গল্প করছেন। তাদের উপস্থিতিতে সে নিজেকে আবার আগের মতো স্বাভাবিক অনুভব করছে।

বাড়িতে ফেরার পর আরিয়ানের ছোট ছোট আবদারও বাড়ছে। একাধিক বুফে রেস্টুরেন্টে যেতে চায়, প্রিয় ফ্রাইড চিকেন ও কোল্ড ড্রিংকস খেতে চায়। শামসুল হক তাকে আশ্বস্ত করেছেন-পুরোপুরি সুস্থ হলেই সব নিয়ে যাবেন। এই ছোট ছোট ইচ্ছাগুলোই এখন আরিয়ানের জীবনের নতুন অনুপ্রেরণা।

মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যাওয়া একটি শিশুর ফিরে আসার গল্প শুধু পরিবারকে নয়, সমাজকে মনে করিয়ে দেয়-মানুষ মানুষের জন্য, আর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ রক্তের সম্পর্কের চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে। আরিয়ান এখনো সুস্থতার পথে, কিন্তু তার বেঁচে ফেরা-এটা এক ছোট্ট অলৌকিক ঘটনা, যা অনেককে নতুন করে আশা জাগায়।

সর্বশেষ আপডেট ও আরও নির্ভরযোগ্য খবর পেতে ‘দৈনিক প্রথম সংবাদ’-এর সাথে থাকুন। 

বিষয় : মাইলস্টোনের আরিয়ান বিমানবাহিনী দুর্ঘটনা মাইলস্টোন স্কুল মাইলস্টোন ট্রাজেডি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক প্রথম সংবাদ

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬


মাইলস্টোনের আরিয়ান ১২২ দিন পর ঘরে ফিরল

প্রকাশের তারিখ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

মাইলস্টোনের আরিয়ান মৃ'ত্যুকে হার মানিয়ে বাড়ি ফিরল 

১২ বছরের শিশু আরিয়ান আফিফ-মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। একটি দুর্ঘটনা তার জীবন পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছিল, কিন্তু চার মাসের লড়াই শেষে সে আবার ফিরে এসেছে ঘরের পরিচিত নিরাপদ পরিবেশে। ১২২ দিন ধরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের বিছানায় কাটানো দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হওয়া, ৮ দিন আইসিইউতে থাকা এবং মোট ৩৪টি অস্ত্রোপচার-এ সবকিছুকে জয় করেই ফিরে এসেছে সে।

২৩ জুলাই বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের পর আরিয়ান মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। দুর্ঘটনার খবর দেশে আলোড়ন তোলে, বিশেষ করে যখন জানা যায়-আরিয়ানকে বাঁচাতে হাসপাতালে ছুটে যাওয়া খালু শামসুল হকের কান্না ও আর্তনাদ উপস্থিত সবাইকে কাঁদিয়েছিল। পরদিন “আব্বুজির জন্য অপেক্ষা” শিরোনামের খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। এ খবর জানার পর অসংখ্য মানুষ আরিয়ানের সুস্থতার জন্য দোয়া করতে থাকেন।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত বৃহস্পতিবার আরিয়ান যখন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেল, পরিবার ও চিকিৎসকদের মুখেও স্বস্তির ছাপ। টঙ্গীর বাসায় ফেরার পর যেন নতুন আলো এসে পড়েছে তার জীবনে। আরিয়ান এখনো পুরোপুরি সুস্থ না হলেও আগের তুলনায় অনেক প্রাণবন্ত, কথা বেশি বলে, পুরোনো বন্ধুদের দেখতে চায়, আর প্রিয় মানুষ ‘আব্বুজি’কে আঁকড়ে ধরে থাকে।
বাড়ি ফিরে প্রথমেই সে আবদার করে-ওকে তিন বেলা যেন আব্বুজিই খাওয়ান। শামসুল হক যতটুকু পারেন, সেটাই করেন। সময় না পেলে কখনো তার স্ত্রী এসে ওকে খাইয়ে দেন। তাদের সবার চোখেই এখন একটাই স্বপ্ন-আরিয়ান দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার স্কুলে ফিরবে।

চিকিৎসার ব্যাপ্তি ও ব্যয়ও অনেকেই জানতে চেয়েছেন। দিনে তিনবার যেই বিশেষ বার্ন ক্রিম লাগাতে হত, প্রতিটির দাম সাড়ে চার হাজার টাকা। ফলোআপ, ড্রেসিং, ওষুধ, অস্ত্রোপচার-সব মিলিয়ে চিকিৎসা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। পুরো চিকিৎসার খরচ বহন করেছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, যা পরিবারকে বিশাল দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করেছে। চিকিৎসকদের মতে, আরিয়ানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মনোবল ধরে রাখা-আর সেই শক্তিটা এসেছে তার খালু শামসুল হকের কাছ থেকেই।

আরিয়ান জন্মের পর থেকেই নানা জটিলতার ভেতর ছিল। তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন ছিলেন কিডনি রোগী। আরিয়ানের বয়স যখন মাত্র ৫, তখন বাবাকে হারায় সে। সেই থেকে খালু শামসুল হক-ই হয়ে ওঠেন তার অভিভাবক, বন্ধুর মতো একজন বাবা। আরিয়ান তাকে ‘আব্বুজি’ বলে ডাকে-এ নামেই ডাকতে ভালোবাসে। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও ভালবাসা যে সম্পর্ক তৈরির সবচেয়ে বড় শক্তি-এ গল্প তারই প্রমাণ।

এখনো কিছু ইনফেকশন আছে, বিশেষ করে কানে। নিয়মিত ড্রেসিং ও ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন-আরিয়ানকে পুরোপুরি স্কুলে পাঠানোর মতো অবস্থায় যেতে আরও ৩–৪ মাস লাগতে পারে। তবে মানসিক শক্তি অত্যন্ত ভালো। বন্ধু, শিক্ষক, প্রতিবেশী-সবাই এসে দেখা করছেন, হাসছেন, গল্প করছেন। তাদের উপস্থিতিতে সে নিজেকে আবার আগের মতো স্বাভাবিক অনুভব করছে।

বাড়িতে ফেরার পর আরিয়ানের ছোট ছোট আবদারও বাড়ছে। একাধিক বুফে রেস্টুরেন্টে যেতে চায়, প্রিয় ফ্রাইড চিকেন ও কোল্ড ড্রিংকস খেতে চায়। শামসুল হক তাকে আশ্বস্ত করেছেন-পুরোপুরি সুস্থ হলেই সব নিয়ে যাবেন। এই ছোট ছোট ইচ্ছাগুলোই এখন আরিয়ানের জীবনের নতুন অনুপ্রেরণা।

মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যাওয়া একটি শিশুর ফিরে আসার গল্প শুধু পরিবারকে নয়, সমাজকে মনে করিয়ে দেয়-মানুষ মানুষের জন্য, আর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ রক্তের সম্পর্কের চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে। আরিয়ান এখনো সুস্থতার পথে, কিন্তু তার বেঁচে ফেরা-এটা এক ছোট্ট অলৌকিক ঘটনা, যা অনেককে নতুন করে আশা জাগায়।

সর্বশেষ আপডেট ও আরও নির্ভরযোগ্য খবর পেতে ‘দৈনিক প্রথম সংবাদ’-এর সাথে থাকুন। 


দৈনিক প্রথম সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈম মাহমুদ
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সংবাদ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

শিরোনাম

দৈনিক প্রথম সংবাদ স্বাধীনবাংলা সাহিত্য পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় কমিটি ২০২৬ গঠিত দৈনিক প্রথম সংবাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ দৈনিক প্রথম সংবাদ স্বপ্নের স্কলারশিপে অস্ট্রেলিয়া, সব খরচ দেবে মোনাশ দৈনিক প্রথম সংবাদ বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ Bangladesh Bank Job Circular 2026 দৈনিক প্রথম সংবাদ রাণীশংকৈলে ষড়জ শিল্পী গোষ্ঠীর উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ দৈনিক প্রথম সংবাদ গাইবান্ধায় পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল দৈনিক প্রথম সংবাদ নীলফামারী সিভিল সার্জনের কার্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ CS Nilphamari Job Circular 2026 দৈনিক প্রথম সংবাদ নতুন বছর ২০২৬: সুখী ও সুস্থ থাকতে ৮টি কার্যকর জীবনশৈলী পরিবর্তন দৈনিক প্রথম সংবাদ ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ FRC Job Circular 2026 দৈনিক প্রথম সংবাদ ভারতে চীনা সন্দেহে ছাত্র হত্যা: উত্তরাখণ্ডে তীব্র ক্ষোভ