ঢাকার র্যাপিড পাস ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ঘোষণা। আজ থেকে মেট্রো রেল যাত্রীরা আর স্টেশনে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে রিচার্জ করতে হবে না। ঘরে বসেই যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে রিচার্জ করা যাবে। রাজধানীর আগারগাঁও স্টেশনে আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবা চালু হয়।
“আর লাইনে নয়” ঘরে বসেই র্যাপিড পাস রিচার্জ সুবিধা
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) জানায়, নতুন সেবার মাধ্যমে র্যাপিড পাস ও এমআরটি পাস- উভয় কার্ডই অনলাইনে রিচার্জ করা যাবে।
ব্যবহারকারীকে শুধুমাত্র ডিটিসিএ–র ওয়েবসাইট বা অ্যাপে নিবন্ধন করে লগইন করতে হবে।
যেভাবে অনলাইনে রিচার্জ করবেন
- rapidpass.com.bd ওয়েবসাইট বা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন
- র্যাপিড পাস বা এমআরটি পাস কার্ড অ্যাকাউন্টে যুক্ত করা
- বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক কার্ডসহ যেকোনো অনলাইন পেমেন্ট চ্যানেলে পেমেন্ট
- রিচার্জের পর মেট্রো স্টেশনের এভিএম মেশিনে কার্ড ট্যাপ করা
- ট্যাপ সম্পন্ন হলেই রিচার্জ কার্যকর
১০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত রিচার্জ সুবিধা
ডিটিসিএ জানায়, একবারে ১০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করা যাবে। তবে অনলাইনে টাকা জমা দিলেও কার্ডে ব্যালেন্স ওঠাতে এভিএম মেশিনে ট্যাপ করা বাধ্যতামূলক।
সার্ভিস চার্জ ও রিফান্ড নীতিমালা
- প্রতিটি রিচার্জে ০.৮৩% ফি
- সাত দিনের মধ্যে রিচার্জ বাতিল করলে ৫% কেটে রিফান্ড
- তিন মাসের মধ্যে এভিএম–এ ট্যাপ না করলে স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড, ৫% কর্তনসহ
- কার্ড ব্ল্যাকলিস্ট হলে অনলাইন আবেদন করে টাকা ফেরত নেওয়া যাবে
১৬ স্টেশনে ৩২টি এভিএম মেশিন বসানো হয়েছে
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, মোট ৩২টি অ্যাড ভ্যালু মেশিন (এভিএম) বসানো হয়েছে, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিটি স্টেশনে ২টি করে।
ডিএমটিসিএল–এর কর্মকর্তারা জানান, যাত্রী বৃদ্ধি বিবেচনায় ভবিষ্যতে এভিএম সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
‘এক কার্ডে সব যাতায়াত’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ সহকারী শেখ মঈনুদ্দিন বলেন-
“একটি কার্ড দিয়ে মেট্রো রেল, বাস এবং ভবিষ্যতে টোলও পরিশোধ করা যাবে,এই ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে।” তিনি আরও জানান, দেশের পরিবহন খাতে প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমাতে সরকার ডিজিটাল সার্ভিস বাড়াচ্ছে।
যাত্রীরা বলছেন, ভীড় কমবে, হয়রানি কমবে
ডিটিসিএ নির্বাহী পরিচালক নিলিমা আখতার বলেন-
“মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রানি হচ্ছিল। এখন ঘরে বসেই রিচার্জ করতে পারবে। এটি আমাদের জন্য একটি মাইলফলক।” তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ অব্যবহৃত র্যাপিড পাস সিস্টেমে রয়েছে, যা এখন অনলাইনে পুনরায় সক্রিয় করা সম্ভব।
ব্ল্যাকলিস্টেড কার্ডের নিয়ম
র্যাপিড পাস কার্ড ব্ল্যাকলিস্ট হলে সেলস পয়েন্টে যোগাযোগ করতে হবে, রিচার্জ থাকলে ৩০ দিনের মধ্যে অনলাইনে রিফান্ড আবেদন করা যাবে (৫% কেটে)
এমআরটি পাসব্ল্যাকলিস্ট হলে কার্ড অকার্যকর হয়ে যায়, বর্তমানে নতুন এমআরটি পাস দেওয়া বন্ধ থাকায় ব্যবহারকারীকে পুরনো কার্ডই রাখতে হবে, নতুন কার্ড এলে পুরনো কার্ড মেরামতের সুযোগ দেওয়া হবে।
অনলাইনে রিচার্জ,দ্রুত গাইড
- ওয়েবসাইট: rapidpass.com.bd
- অ্যাপ: র্যাপিড পাস অ্যাপ
- রিচার্জ সীমা: ১০০ টাকা – ৫,০০০ টাকা
- পেমেন্ট: ব্যাংক কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেট
- আপডেট: স্টেশনের এভিএম–এ ট্যাপ করতে হবে
- রিফান্ড: ৫% কর্তনসহ
মেট্রো রেল যাত্রায় ডিজিটাল রিচার্জের সুবিধা
- লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই
- দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেন
- মোবাইল থেকে রিচার্জ
- পাবলিক ট্রান্সপোর্টে একই কার্ড ব্যবহারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় র্যাপিড পাস –এর অনলাইন রিচার্জ নিঃসন্দেহে বড় পরিবর্তন এনেছে। মেট্রো রেল–এর মতো ব্যস্ত নেটওয়ার্কে যাত্রীদের সময় বাঁচানো, লাইনের ভিড় কমানো এবং ডিজিটাল সুবিধা বাড়াতে এটি অত্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ। ভবিষ্যতে এক কার্ডে সব যাতায়াত ব্যবস্থা চালু হলে শহরের ভ্রমণ হবে আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর।
আপনার মতামত লিখুন