ঢাকা, ১৭
সেপ্টেম্বর ২০২৫: দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সামান্য হলেও
স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের ৩০.৫৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে
রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
(IMF) কর্তৃক অনুসৃত বিপিএম-৬ (Balance of Payments Manual 6th edition) পদ্ধতিতে
হিসাব করলে এই পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫.৯৮ বিলিয়ন ডলার। যদিও এই সংখ্যা কিছুটা কম,
তবুও এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে।
রিজার্ভের
ওঠানামার কারণ:
সম্প্রতি,
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (ACU) ১.৫ বিলিয়ন ডলার পাওনা পরিশোধের পর রিজার্ভ
সাময়িকভাবে ৩০.৩০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। কিন্তু এরপর প্রবাসী আয় ও
রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় এবং বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণের কারণে রিজার্ভ
আবার কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে।
রিজার্ভ
বৃদ্ধির মূল সূত্র:
রিজার্ভ কমার
সম্ভাব্য কারণ:
যদিও বর্তমানে
রিজার্ভের উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তবুও কিছু কারণ রিজার্ভ হ্রাসের পেছনে কাজ
করতে পারে:
সরকারের পদক্ষেপ:
বাংলাদেশ
ব্যাংক বাজার থেকে ডলার ক্রয় করার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা
বজায় রাখার চেষ্টা করছে। উদাহরণস্বরূপ, গত সপ্তাহে কয়েকটি ব্যাংক থেকে
উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার কেনা হয়েছে।
বর্তমান
অবস্থান ও বিশ্ব মানদণ্ড:
বিশ্ব মানদণ্ড
অনুযায়ী, একটি দেশের রিজার্ভ অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ থাকা উচিত।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী।
রেমিট্যান্স
প্রবাহের চিত্র:
চলতি
অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই মাসে
২৪৭.৭৯ মিলিয়ন ডলার এবং আগস্ট মাসে ২৪২.২০ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে
এসেছে।
দীর্ঘমেয়াদী
রিজার্ভের চিত্র:
দেশের বৈদেশিক
মুদ্রার রিজার্ভের দীর্ঘমেয়াদী চিত্র তুলে ধরলে দেখা যায়, এটি বিভিন্ন সময়ে
উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে:
বাংলাদেশ
ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এই
তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ।
প্রবাসী আয়, রপ্তানি এবং বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি আমদানি
ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত
জরুরি। বর্তমান রিজার্ভের উন্নতি অবশ্যই আশাব্যঞ্জক, তবে ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতামূলক
পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে নিরলস প্রচেষ্টা
চালিয়ে যেতে হবে।
বিষয় : রেমিট্যান্স বিশ্ব অর্থনীতি

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ঢাকা, ১৭
সেপ্টেম্বর ২০২৫: দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সামান্য হলেও
স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের ৩০.৫৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে
রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
(IMF) কর্তৃক অনুসৃত বিপিএম-৬ (Balance of Payments Manual 6th edition) পদ্ধতিতে
হিসাব করলে এই পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫.৯৮ বিলিয়ন ডলার। যদিও এই সংখ্যা কিছুটা কম,
তবুও এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে।
রিজার্ভের
ওঠানামার কারণ:
সম্প্রতি,
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (ACU) ১.৫ বিলিয়ন ডলার পাওনা পরিশোধের পর রিজার্ভ
সাময়িকভাবে ৩০.৩০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। কিন্তু এরপর প্রবাসী আয় ও
রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় এবং বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণের কারণে রিজার্ভ
আবার কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে।
রিজার্ভ
বৃদ্ধির মূল সূত্র:
রিজার্ভ কমার
সম্ভাব্য কারণ:
যদিও বর্তমানে
রিজার্ভের উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তবুও কিছু কারণ রিজার্ভ হ্রাসের পেছনে কাজ
করতে পারে:
সরকারের পদক্ষেপ:
বাংলাদেশ
ব্যাংক বাজার থেকে ডলার ক্রয় করার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা
বজায় রাখার চেষ্টা করছে। উদাহরণস্বরূপ, গত সপ্তাহে কয়েকটি ব্যাংক থেকে
উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার কেনা হয়েছে।
বর্তমান
অবস্থান ও বিশ্ব মানদণ্ড:
বিশ্ব মানদণ্ড
অনুযায়ী, একটি দেশের রিজার্ভ অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ থাকা উচিত।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী।
রেমিট্যান্স
প্রবাহের চিত্র:
চলতি
অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই মাসে
২৪৭.৭৯ মিলিয়ন ডলার এবং আগস্ট মাসে ২৪২.২০ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে
এসেছে।
দীর্ঘমেয়াদী
রিজার্ভের চিত্র:
দেশের বৈদেশিক
মুদ্রার রিজার্ভের দীর্ঘমেয়াদী চিত্র তুলে ধরলে দেখা যায়, এটি বিভিন্ন সময়ে
উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে:
বাংলাদেশ
ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এই
তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ।
প্রবাসী আয়, রপ্তানি এবং বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি আমদানি
ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত
জরুরি। বর্তমান রিজার্ভের উন্নতি অবশ্যই আশাব্যঞ্জক, তবে ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতামূলক
পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে নিরলস প্রচেষ্টা
চালিয়ে যেতে হবে।
[107]

আপনার মতামত লিখুন