ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও তরুণ রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান বিন হাদি,
যিনি ওসমান হাদি নামে সর্বাধিক পরিচিত, আর নেই। সিঙ্গাপুর জেনারেল
হাসপাতালে টানা কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত
সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩২ বছর। ওসমান
হাদির মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে
গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার শনিবার রাষ্ট্রীয়
শোক ঘোষণা করেছে এবং দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া
হয়েছে।
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, শনিবার দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি,
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা
হবে। শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায়
বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয় এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও বিশেষ
প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান
এবং হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে বলে ঘোষণা
দেন।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সিঙ্গাপুরের দ্য
অ্যাঙ্গুলিয়া মসজিদে ওসমান হাদির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে শনিবার
বাদ জোহর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে দ্বিতীয়
জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার
করা হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে অংশ নেওয়ার
প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণকারী ওসমান হাদি একটি
ধর্মপরায়ণ মুসলিম পরিবারে বড় হন। তার বাবা ছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয়
ইমাম। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু
করেন নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় এবং পরে ঝালকাঠি এন এস কামিল
মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন, যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি
সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত
ছিলেন এবং এক সন্তানের জনক।
রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও ছিল তার আগ্রহের জায়গা। ২০২৪
সালে সীমান্ত শরিফ ছদ্মনামে প্রকাশিত তার কাব্যগ্রন্থ ‘লাভায় লালশাক পুবের
আকাশ’ পাঠকমহলে আলোচনার জন্ম দেয়। সমালোচকদের মতে, তার লেখায় প্রতিবাদ,
বঞ্চনা ও স্বপ্নের ভাষা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত
রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ওসমান
হাদি দ্রুত পরিচিতি পান। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য ছিল আধিপত্যবাদ ও বৈষম্যের
বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা
প্রতিষ্ঠার দাবি তোলা। আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা আন্দোলন, জুলাই শহিদদের
অধিকার রক্ষা এবং বিদেশি আধিপত্যবাদের বিরোধিতায় তার সরব ভূমিকা তাকে
তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলে। ২০২৫ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি সাধারণ
মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেন।
১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর কালভার্ট রোডে
গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে তিনি সশস্ত্র হামলার শিকার হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে
ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে
সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি দীর্ঘ সময় কোমায়
ছিলেন; চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ
শুরু হয়। পাশাপাশি ঢাকার সাভারে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও ছাত্র-জনতা। ১৮ ডিসেম্বর রাতে সাভারের পাকিজা চত্বরে
শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে মহাসড়কের উভয় লেনে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তীব্র
যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় একাধিক দফায় অবরোধ প্রত্যাহার ও পুনরায়
অবরোধ করা হয়। একই রাতে আশুলিয়ার নবীনগর–চন্দ্রা বাইপাইলে ঢাকামুখী লেনেও
সাময়িক অবরোধের ঘটনা ঘটে। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল
অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত
গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ইনকিলাব মঞ্চের শোকবার্তায় বলা হয়, “ভারতীয়
আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।”
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন এবং ওসমান হাদির আদর্শ ও সংগ্রাম স্মরণ
করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার ঘটনায় একাধিক সন্দেহভাজনকে শনাক্ত
করা হয়েছে এবং তাদের সহযোগীদের আটক করা হয়েছে। এর আগে হুমকি পাওয়ার
বিষয়টি ওসমান হাদি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের চলমান
রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ওসমান হাদির জীবন, সংগ্রাম ও আকস্মিক মৃত্যু সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন প্রতিবাদের কণ্ঠ, আবার অনেকের কাছে পরিবর্তনের প্রতীক। তার অনুপস্থিতিতে তরুণ রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিন অনুভূত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও তরুণ রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান বিন হাদি,
যিনি ওসমান হাদি নামে সর্বাধিক পরিচিত, আর নেই। সিঙ্গাপুর জেনারেল
হাসপাতালে টানা কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত
সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩২ বছর। ওসমান
হাদির মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে
গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার শনিবার রাষ্ট্রীয়
শোক ঘোষণা করেছে এবং দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া
হয়েছে।
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, শনিবার দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি,
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা
হবে। শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায়
বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয় এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও বিশেষ
প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান
এবং হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে বলে ঘোষণা
দেন।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সিঙ্গাপুরের দ্য
অ্যাঙ্গুলিয়া মসজিদে ওসমান হাদির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে শনিবার
বাদ জোহর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে দ্বিতীয়
জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার
করা হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে অংশ নেওয়ার
প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণকারী ওসমান হাদি একটি
ধর্মপরায়ণ মুসলিম পরিবারে বড় হন। তার বাবা ছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষক ও স্থানীয়
ইমাম। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু
করেন নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় এবং পরে ঝালকাঠি এন এস কামিল
মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন, যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি
সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত
ছিলেন এবং এক সন্তানের জনক।
রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও ছিল তার আগ্রহের জায়গা। ২০২৪
সালে সীমান্ত শরিফ ছদ্মনামে প্রকাশিত তার কাব্যগ্রন্থ ‘লাভায় লালশাক পুবের
আকাশ’ পাঠকমহলে আলোচনার জন্ম দেয়। সমালোচকদের মতে, তার লেখায় প্রতিবাদ,
বঞ্চনা ও স্বপ্নের ভাষা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত
রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ওসমান
হাদি দ্রুত পরিচিতি পান। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য ছিল আধিপত্যবাদ ও বৈষম্যের
বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা
প্রতিষ্ঠার দাবি তোলা। আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা আন্দোলন, জুলাই শহিদদের
অধিকার রক্ষা এবং বিদেশি আধিপত্যবাদের বিরোধিতায় তার সরব ভূমিকা তাকে
তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলে। ২০২৫ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি সাধারণ
মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেন।
১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর কালভার্ট রোডে
গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে তিনি সশস্ত্র হামলার শিকার হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে
ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে
সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি দীর্ঘ সময় কোমায়
ছিলেন; চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ
শুরু হয়। পাশাপাশি ঢাকার সাভারে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও ছাত্র-জনতা। ১৮ ডিসেম্বর রাতে সাভারের পাকিজা চত্বরে
শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে মহাসড়কের উভয় লেনে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তীব্র
যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় একাধিক দফায় অবরোধ প্রত্যাহার ও পুনরায়
অবরোধ করা হয়। একই রাতে আশুলিয়ার নবীনগর–চন্দ্রা বাইপাইলে ঢাকামুখী লেনেও
সাময়িক অবরোধের ঘটনা ঘটে। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল
অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত
গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ইনকিলাব মঞ্চের শোকবার্তায় বলা হয়, “ভারতীয়
আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।”
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন এবং ওসমান হাদির আদর্শ ও সংগ্রাম স্মরণ
করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার ঘটনায় একাধিক সন্দেহভাজনকে শনাক্ত
করা হয়েছে এবং তাদের সহযোগীদের আটক করা হয়েছে। এর আগে হুমকি পাওয়ার
বিষয়টি ওসমান হাদি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের চলমান
রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ওসমান হাদির জীবন, সংগ্রাম ও আকস্মিক মৃত্যু সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন প্রতিবাদের কণ্ঠ, আবার অনেকের কাছে পরিবর্তনের প্রতীক। তার অনুপস্থিতিতে তরুণ রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিন অনুভূত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন