"প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি, সুন্দরবন রক্ষা করি " এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুন্দরবন সংলগ্ন পাঁচ জেলার ১৭টি উপজেলার যুবদের অংশগ্রহণে গত ৩১শে জুলাই খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে যুব সম্মেলন ২০২৫।
সংগ্রহীত
বেসরকারি সংস্থা রূপান্তর, Helvetas ও German Cooperation এর আয়োজনে সুন্দরবন সংলগ্ন ৫ জেলার ১৭টি উপজেলার প্রায় ৪৫০ জন যুবক-যুবতী অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় উক্ত সম্মেলন।সম্মেলনে যুবদের পক্ষ থেকে সুন্দরবন সুরক্ষায় ১৭ দফা দাবি সংবলিত ‘খুলনা ঘোষণা’ উপস্থাপন করা হয়, যা পাঠ করেন কর্ণ বিকাশ কেডি এবং লাবনী আক্তার।
এতে সভাপতিত্ব করেন রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ। স্বাগত বক্তব্য দেন রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন,
"পলিথিন ও একবার ব্যবহৃত প্লাস্টিক গাছপালা, প্রাণী এবং মানবদেহের জন্য ভয়ংকর হুমকি হয়ে উঠেছে। মাছের মাধ্যমে শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা জীবনহানির কারণও হতে পারে। সুন্দরবন বাঁচাতে এই দূষণ রোধে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।"
সুন্দরবনের পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ রোধ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতা তৈরিসহ নানা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকরা দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে আসছেন। তাদের কাজের স্বীকৃতি দিতে খুলনার প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী সুন্দরবন সংলগ্ন পাঁচ জেলার ১৭ উপজেলার ‘ইয়্যুথ ফর দ্যা সুন্দরবন’-এর ৫৩০ জন যুবককে বন বিভাগের স্বেচ্ছাসেবকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
সেখানে সুন্দরবন সংলগ্ন ৫ জেলার (খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও বরগুনা) প্রতিনিধিত্বকারী যুব ফোরামগুলোর জন্য ছিলো পৃথক স্টলের ব্যবস্থা। স্টলগুলোতে তারা উপস্থাপন করেছেন নিজেদের কার্যক্রম। স্টল গুলোর মধ্য থেকে উপজেলা পর্যায়ে সেরা তিনটি স্টলের পুরস্কার লাভ করেন যথাক্রমে পিরোজপুরের নেছারাবাদ, পাথরঘাটা ও আশাশুনি।
এছাড়াও বিগত কার্যক্রম বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ জেলা নির্বাচিত হয় বাগেরহাট জেলা এবং সুন্দরবন সুরক্ষায় অনন্য অবদান ও সেরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রনয়নের জন্য তিন উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এতে সাইফুল ইসলাম, মোঃ মাসুম বিল্লাহ, ইয়ামিন এবং আব্দুল্লাহ আল অভির নেতৃত্বে "ইয়্যুথ ফর দ্যা সুন্দরবন, মঠবাড়ীয়া" শ্রেষ্ঠ পরিকল্পনা প্রনয়ন করে প্রথম পুরস্কার অর্জন করেন। পাশাপাশি পুরস্কৃত করা হয়েছে কয়রা ও কালীগঞ্জ উপজেলার ইয়্যুথ ফোরামকে।
রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক পর্যায়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যেই সুন্দরবনে কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যেমন সুন্দরবনে কার্বন ধারণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.০৬ মিলিয়ন টনে। এছাড়াও বাঘের সংখ্যা যেখানে ২০১৪ সালের ১০৬টি ছিলো তা বেড়ে ২০২৪ সালে হয়েছে ১২৫টি।
সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুন্দরবনকে পলিথিনমুক্ত করা সম্ভব। "করমজল" ও "হারবারিয়া " এই দুই জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পটে পলিথিন রোধ কার্যক্রম শুরু করা গেলে সুফল দ্রুতই দৃশ্যমান হবে। সুন্দরবনের এই অমূল্য সম্পদ রক্ষায় যুবসমাজের অগ্রণী ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে এখন প্রয়োজন সরকারি স্বীকৃতি, সম্প্রসারিত কর্মপরিকল্পনা এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
সকল ধরনের খবর সবার আগে জানতে প্রথম সংবাদের সাথে থাকুন

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৫
"প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি, সুন্দরবন রক্ষা করি " এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুন্দরবন সংলগ্ন পাঁচ জেলার ১৭টি উপজেলার যুবদের অংশগ্রহণে গত ৩১শে জুলাই খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে যুব সম্মেলন ২০২৫।
সংগ্রহীত
বেসরকারি সংস্থা রূপান্তর, Helvetas ও German Cooperation এর আয়োজনে সুন্দরবন সংলগ্ন ৫ জেলার ১৭টি উপজেলার প্রায় ৪৫০ জন যুবক-যুবতী অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় উক্ত সম্মেলন।সম্মেলনে যুবদের পক্ষ থেকে সুন্দরবন সুরক্ষায় ১৭ দফা দাবি সংবলিত ‘খুলনা ঘোষণা’ উপস্থাপন করা হয়, যা পাঠ করেন কর্ণ বিকাশ কেডি এবং লাবনী আক্তার।
এতে সভাপতিত্ব করেন রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ। স্বাগত বক্তব্য দেন রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন,
"পলিথিন ও একবার ব্যবহৃত প্লাস্টিক গাছপালা, প্রাণী এবং মানবদেহের জন্য ভয়ংকর হুমকি হয়ে উঠেছে। মাছের মাধ্যমে শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা জীবনহানির কারণও হতে পারে। সুন্দরবন বাঁচাতে এই দূষণ রোধে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।"
সুন্দরবনের পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ রোধ, বৃক্ষরোপণ, সচেতনতা তৈরিসহ নানা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকরা দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে আসছেন। তাদের কাজের স্বীকৃতি দিতে খুলনার প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী সুন্দরবন সংলগ্ন পাঁচ জেলার ১৭ উপজেলার ‘ইয়্যুথ ফর দ্যা সুন্দরবন’-এর ৫৩০ জন যুবককে বন বিভাগের স্বেচ্ছাসেবকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
সেখানে সুন্দরবন সংলগ্ন ৫ জেলার (খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও বরগুনা) প্রতিনিধিত্বকারী যুব ফোরামগুলোর জন্য ছিলো পৃথক স্টলের ব্যবস্থা। স্টলগুলোতে তারা উপস্থাপন করেছেন নিজেদের কার্যক্রম। স্টল গুলোর মধ্য থেকে উপজেলা পর্যায়ে সেরা তিনটি স্টলের পুরস্কার লাভ করেন যথাক্রমে পিরোজপুরের নেছারাবাদ, পাথরঘাটা ও আশাশুনি।
এছাড়াও বিগত কার্যক্রম বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ জেলা নির্বাচিত হয় বাগেরহাট জেলা এবং সুন্দরবন সুরক্ষায় অনন্য অবদান ও সেরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রনয়নের জন্য তিন উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এতে সাইফুল ইসলাম, মোঃ মাসুম বিল্লাহ, ইয়ামিন এবং আব্দুল্লাহ আল অভির নেতৃত্বে "ইয়্যুথ ফর দ্যা সুন্দরবন, মঠবাড়ীয়া" শ্রেষ্ঠ পরিকল্পনা প্রনয়ন করে প্রথম পুরস্কার অর্জন করেন। পাশাপাশি পুরস্কৃত করা হয়েছে কয়রা ও কালীগঞ্জ উপজেলার ইয়্যুথ ফোরামকে।
রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক পর্যায়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যেই সুন্দরবনে কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যেমন সুন্দরবনে কার্বন ধারণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.০৬ মিলিয়ন টনে। এছাড়াও বাঘের সংখ্যা যেখানে ২০১৪ সালের ১০৬টি ছিলো তা বেড়ে ২০২৪ সালে হয়েছে ১২৫টি।
সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুন্দরবনকে পলিথিনমুক্ত করা সম্ভব। "করমজল" ও "হারবারিয়া " এই দুই জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পটে পলিথিন রোধ কার্যক্রম শুরু করা গেলে সুফল দ্রুতই দৃশ্যমান হবে। সুন্দরবনের এই অমূল্য সম্পদ রক্ষায় যুবসমাজের অগ্রণী ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে এখন প্রয়োজন সরকারি স্বীকৃতি, সম্প্রসারিত কর্মপরিকল্পনা এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
সকল ধরনের খবর সবার আগে জানতে প্রথম সংবাদের সাথে থাকুন[301]
[298]
[292]
[291]
[268]

আপনার মতামত লিখুন