ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক মেট্রোরেল দুর্ঘটনার পর হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। আদালত মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ তদারকিতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, দুর্ঘটনায় নিহত আবুল কালাম আজাদের পরিবারকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও আসিফ হাসান সমন্বিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়েছে, মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাডসহ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে হবে। এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মেট্রোরেল প্রকল্প ও ফ্লাইওভারগুলোর বিয়ারিং প্যাডের গুণগত মান ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।
আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন সোমবার (২৭ অক্টোবর) হাইকোর্টে এই রিট আবেদন দাখিল করেন। রিটে বলা হয়, দেশের সব মেট্রোরেল ও ফ্লাইওভারের বিয়ারিং প্যাডের মান যাচাই ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
গত রবিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশন-সংলগ্ন বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। মেট্রোরেলের ওপর থেকে একটি বিয়ারিং প্যাড ছিটকে পড়ে পথচারী আবুল কালাম আজাদের মাথায় লাগে, ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পরদিনই নিহত আবুল কালাম আজাদের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আইনগত নোটিশ পাঠান আইনজীবী এনামুল হক নবীন। নোটিশটি পাঠানো হয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর। তবে হাইকোর্ট প্রাথমিকভাবে ওই পরিবারের জন্য দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের রুল জারি করেছেন।
এই ঘটনার পর মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পে নিয়মিত পরিদর্শন ও সেফটি অডিট করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, "রেল বা ফ্লাইওভারের বিয়ারিং প্যাডের গুণগত মান বা ফিটিংসের ত্রুটি থাকলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে।"
তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৫
ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক মেট্রোরেল দুর্ঘটনার পর হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। আদালত মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ তদারকিতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, দুর্ঘটনায় নিহত আবুল কালাম আজাদের পরিবারকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও আসিফ হাসান সমন্বিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়েছে, মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাডসহ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে হবে। এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মেট্রোরেল প্রকল্প ও ফ্লাইওভারগুলোর বিয়ারিং প্যাডের গুণগত মান ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।
আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন সোমবার (২৭ অক্টোবর) হাইকোর্টে এই রিট আবেদন দাখিল করেন। রিটে বলা হয়, দেশের সব মেট্রোরেল ও ফ্লাইওভারের বিয়ারিং প্যাডের মান যাচাই ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
গত রবিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ফার্মগেট মেট্রোস্টেশন-সংলগ্ন বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। মেট্রোরেলের ওপর থেকে একটি বিয়ারিং প্যাড ছিটকে পড়ে পথচারী আবুল কালাম আজাদের মাথায় লাগে, ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পরদিনই নিহত আবুল কালাম আজাদের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আইনগত নোটিশ পাঠান আইনজীবী এনামুল হক নবীন। নোটিশটি পাঠানো হয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর। তবে হাইকোর্ট প্রাথমিকভাবে ওই পরিবারের জন্য দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের রুল জারি করেছেন।
এই ঘটনার পর মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পে নিয়মিত পরিদর্শন ও সেফটি অডিট করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, "রেল বা ফ্লাইওভারের বিয়ারিং প্যাডের গুণগত মান বা ফিটিংসের ত্রুটি থাকলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে।"
[777]
তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন