আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে বিএনপি তাদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনকে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্বিতীয় দফায় যে ৩৬টি নতুন আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন, তার মধ্যেই ছিল বরিশাল-৩ আসনটির নাম।
এ ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল অঞ্চলে যে আলোচনা–সমালোচনা চলছিল, তার অবসান ঘটেছে। কারণ প্রথম দফায় ঘোষিত ২৩৭টি আসনের তালিকায় বরিশাল জেলার ছয়টির মধ্যে পাঁচটি আসন ঘোষণা করা হলেও বরিশাল-৩ আসনটি ফাঁকা রাখা হয়েছিল। ফলে এখানকার সম্ভাব্য প্রার্থীকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা-কল্পনা চলছিল।
মনোনয়ন পেয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন জয়নুল আবেদীন
মনোনয়ন পাওয়ার পর অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন জানান, বাবুগঞ্জ–মুলাদীকে বরিশালের একটি আধুনিক উন্নয়ন অঞ্চলে রূপান্তরই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন-
“বাবুগঞ্জ-মুলাদী সংযোগ সেতু নির্মিত হলে জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সুবিধা বাড়বে। এ অঞ্চলকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরি হয়।”স্থানীয় বিএনপি নেতা–কর্মীরাও মনোনয়নকে স্বাগত জানিয়েছেন। উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিক আল আমিন বলেন, নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান জানান, জয়নুল আবেদীন দীর্ঘদিন এলাকার মানুষ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করে এসেছেন। তার নাম ঘোষণায় দলের মধ্যে আবারো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
এই আসনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বী?
বরিশাল-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন-
- জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর,
- আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
এ কারণে বরিশাল-৩ আসনটি নির্বাচনী লড়াইয়ে অন্যতম আলোচিত আসনে পরিণত হয়েছে।
২৭২টি আসনে প্রার্থী দিল বিএনপি; কী হবে বাকি আসনগুলো?
বিএনপি এর আগে প্রথম দফায় ২৩৭টি আসনে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছিল। পরবর্তীতে আরও ৩৬টি আসন ঘোষণা করা হলে মোট ২৭২টি আসনে প্রার্থী পেল দলটি।
বাকি থাকা ২৮টি আসন নিয়ে জোট–শরিকদের ভাগাভাগির আলোচনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়েছে। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে নির্বাচনেও জোট হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নেতারা। দলীয় মহাসচিব জানিয়েছেন-
“যে আসনগুলোতে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে, সেখানে পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।”এতে বোঝা যাচ্ছে, শরিক দলগুলো বাকি ফাঁকা আসনগুলোর কিছু পেতে পারে।
ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন আসন নিয়ে বাড়তি আগ্রহ
দ্বিতীয় দফার ঘোষিত তালিকায় কয়েকটি আসনকে ঘিরে আলোচনার তীব্রতা বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-১০, ঢাকা-১৮, হবিগঞ্জ-১ এবং খুলনা-১ আসন অন্যতম।
- ঢাকা-১০: আলোচনায় থাকা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব নয়, মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ রবিউল আলম।
- ঢাকা-১৮: বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধের বদলে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রার্থী করা হয়েছে।
- হবিগঞ্জ-১: সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।
- খুলনা-১: জামায়াত এখানে সংখ্যালঘু নেতাকে প্রার্থী করায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি এখানে আমির এজাজ খানকে মনোনয়ন দিয়েছে।
নতুন ৩৬টি আসনের পূর্ণ প্রার্থী তালিকার উল্লেখযোগ্য নাম
ঘোষিত ৩৬টি আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন-
- আব্দুস সালাম (ঠাকুরগাঁও-২)
- এ কে এম কামরুজ্জামান (দিনাজপুর-৫)
- জাহিদুল ইসলাম ধলু (নওগাঁ-৫)
- মো. আনোয়ারুল ইসলাম (নাটোর-৩)
- সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (টাঙ্গাইল-৫)
- এম ইকবাল হোসেন (যশোর-৫)
- মো. মনিরুল ইসলাম (নড়াইল-২)
- আমির এজাজ খান (খুলনা-১)
- শহিদুল আলম তালুকদার (পটুয়াখালী-২)
- রফিকুল ইসলাম জামাল (ঝালকাঠি-১)
- আরিফুল হক চৌধুরী (সিলেট-৪)
- আলমগীর মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ (কক্সবাজার-২)
এ তালিকায় নতুন মুখের সংখ্যা যেমন আছে, তেমনি আছেন অভিজ্ঞ অনেক নেতাও।
বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের মনোনয়ন স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় দফার ঘোষণায় বিএনপির প্রার্থী তালিকা আরও পরিপূর্ণ হয়েছে। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই জোট, আসন সমঝোতা ও স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
আপনার মতামত লিখুন