ময়মনসিংহ: দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে
জামায়াতে ইসলামী, ময়মনসিংহ-এর সাবেক আমির অধ্যাপক জসীম উদ্দীনের সাংগঠনিক
কার্যক্রম ও সদস্যপদ (রুকনিয়াত) স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এই ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং মনোনয়ন
প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পদ স্থগিতের কারণ:
সম্প্রতি, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের প্রতিবাদে
স্থানীয়ভাবে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ‘ফুলবাড়িয়া ঐক্যবদ্ধ জনতা’ ব্যানারে
আয়োজিত এই মিছিলে অধ্যাপক জসীম উদ্দীনকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে স্লোগান তোলা
হয়। এই ঘটনার পরপরই, দলীয় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগে তার পদ স্থগিত করা হয়।
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সিদ্ধান্ত:
জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে,
অধ্যাপক জসীম উদ্দীনের সাম্প্রতিক কার্যক্রম সংগঠনের সুনাম ও শৃঙ্খলার ক্ষতি করছে।
এই যুক্তিতেই তার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ এই প্রসঙ্গে বলেন,
"বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল দল। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দলীয়
সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে নয়। শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে দল সবসময় আপোষহীন।"
অধ্যাপক জসীম উদ্দীনের প্রতিক্রিয়া:
এই অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক জসীম উদ্দীন জানান, তিনি সংগঠনের সুনামহানিকর
কোনো কাজে জড়িত নন। যে মিছিলের কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও দাবি
করেন। এছাড়াও, সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করার কোনো ইচ্ছা তার নেই বলে তিনি
উল্লেখ করেন।
প্রেক্ষাপট:
অধ্যাপক জসীম উদ্দীন ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে একাধিকবার জামায়াতে
ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও জয়ী হতে পারেননি। অসুস্থতার কারণে তিনি
দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনে কিছুটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি, জেলা জামায়াতের নায়েবে
আমির কামরুল হাসান মিলনকে এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হলে স্থানীয়
পর্যায়ে একটি দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। অধ্যাপক জসীম উদ্দীনের অনুগামীরা এই মনোনয়ন
পরিবর্তনের প্রতিবাদে সোচ্চার হন, যা শেষ পর্যন্ত তার পদ স্থগিতের কারণ হয়ে
দাঁড়ায়।
বিশ্লেষণ:
এই ঘটনা জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য দিক
উন্মোচন করেছে। একদিকে, দল তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামোর ওপর জোর দিচ্ছে এবং যেকোনো
ধরনের বিচ্যুতি বরদাস্ত করা হবে না বলে বার্তা দিচ্ছে। অন্যদিকে, অধ্যাপক জসীম
উদ্দীনের মতো দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতার সদস্যপদ স্থগিত হওয়া দলের ভেতরে বিভেদ এবং
অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া সব রাজনৈতিক দলের জন্যই সংবেদনশীল একটি বিষয়। এই
ক্ষেত্রে, অধ্যাপক জসীম উদ্দীনের অনুগামীদের বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে তার পদ স্থগিত
হওয়া এটি প্রমাণ করে যে, মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দলে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে। এই
ধরনের ঘটনা দলের ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে এবং আগামী নির্বাচনে দলের উপর নেতিবাচক
প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, জামায়াতে ইসলামী এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ
কিভাবে নিষ্পত্তি করে এবং দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সকল স্তরের কর্মীদের
আস্থা কিভাবে অর্জন করতে সক্ষম হয়। অধ্যাপক জসীম উদ্দীনের এই স্থগিত হওয়া পদ দলের
ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের উপর কি প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ময়মনসিংহ: দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে
জামায়াতে ইসলামী, ময়মনসিংহ-এর সাবেক আমির অধ্যাপক জসীম উদ্দীনের সাংগঠনিক
কার্যক্রম ও সদস্যপদ (রুকনিয়াত) স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এই ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং মনোনয়ন
প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পদ স্থগিতের কারণ:
সম্প্রতি, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের প্রতিবাদে
স্থানীয়ভাবে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ‘ফুলবাড়িয়া ঐক্যবদ্ধ জনতা’ ব্যানারে
আয়োজিত এই মিছিলে অধ্যাপক জসীম উদ্দীনকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে স্লোগান তোলা
হয়। এই ঘটনার পরপরই, দলীয় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগে তার পদ স্থগিত করা হয়।
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সিদ্ধান্ত:
জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে,
অধ্যাপক জসীম উদ্দীনের সাম্প্রতিক কার্যক্রম সংগঠনের সুনাম ও শৃঙ্খলার ক্ষতি করছে।
এই যুক্তিতেই তার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ এই প্রসঙ্গে বলেন,
"বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল দল। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দলীয়
সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে নয়। শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে দল সবসময় আপোষহীন।"
অধ্যাপক জসীম উদ্দীনের প্রতিক্রিয়া:
এই অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক জসীম উদ্দীন জানান, তিনি সংগঠনের সুনামহানিকর
কোনো কাজে জড়িত নন। যে মিছিলের কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও দাবি
করেন। এছাড়াও, সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করার কোনো ইচ্ছা তার নেই বলে তিনি
উল্লেখ করেন।
প্রেক্ষাপট:
অধ্যাপক জসীম উদ্দীন ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে একাধিকবার জামায়াতে
ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও জয়ী হতে পারেননি। অসুস্থতার কারণে তিনি
দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনে কিছুটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি, জেলা জামায়াতের নায়েবে
আমির কামরুল হাসান মিলনকে এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হলে স্থানীয়
পর্যায়ে একটি দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। অধ্যাপক জসীম উদ্দীনের অনুগামীরা এই মনোনয়ন
পরিবর্তনের প্রতিবাদে সোচ্চার হন, যা শেষ পর্যন্ত তার পদ স্থগিতের কারণ হয়ে
দাঁড়ায়।
বিশ্লেষণ:
এই ঘটনা জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য দিক
উন্মোচন করেছে। একদিকে, দল তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামোর ওপর জোর দিচ্ছে এবং যেকোনো
ধরনের বিচ্যুতি বরদাস্ত করা হবে না বলে বার্তা দিচ্ছে। অন্যদিকে, অধ্যাপক জসীম
উদ্দীনের মতো দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতার সদস্যপদ স্থগিত হওয়া দলের ভেতরে বিভেদ এবং
অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া সব রাজনৈতিক দলের জন্যই সংবেদনশীল একটি বিষয়। এই
ক্ষেত্রে, অধ্যাপক জসীম উদ্দীনের অনুগামীদের বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে তার পদ স্থগিত
হওয়া এটি প্রমাণ করে যে, মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দলে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে। এই
ধরনের ঘটনা দলের ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে এবং আগামী নির্বাচনে দলের উপর নেতিবাচক
প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, জামায়াতে ইসলামী এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ
কিভাবে নিষ্পত্তি করে এবং দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সকল স্তরের কর্মীদের
আস্থা কিভাবে অর্জন করতে সক্ষম হয়। অধ্যাপক জসীম উদ্দীনের এই স্থগিত হওয়া পদ দলের
ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের উপর কি প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

আপনার মতামত লিখুন