দৈনিক প্রথম সংবাদ
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত,

ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরি ছাই পৌঁছেছে দিল্লিতে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন

ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরি ছাই পৌঁছেছে দিল্লিতে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন
আগ্নেয়গিরি।

ইথিওপিয়া থেকে উঠে আসা আগ্নেয়গিরির ছাই লাল সাগর পেরিয়ে ওমান ও ইয়েমেন হয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)।
ইথিওপিয়ার হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরি, যা কয়েক হাজার বছর নিষ্ক্রিয় ছিল, রবিবার সকালে অগ্নুৎপাত শুরু করে। এতে কয়েক হাজার ফুট উচ্চতায় উঠে যায় ধোঁয়া ও ছাইয়ের স্তম্ভ।
এই ছাইয়ের প্রভাবে ভারতের বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। ভারতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এয়ারলাইনগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, প্রভাবিত আকাশসীমা “কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতে” হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছাইয়ের দূষণের মাত্রা এখনও পরিষ্কার নয়, তবে এটি দিল্লির বায়ুমানকে প্রভাবিত করবে না। মঙ্গলবারের সরকারি সূচকে দিল্লির বায়ুমান “খুবই খারাপ” ছিল।

আগ্নেয়গিরির ছাই কীভাবে বিপজ্জনক?

অগ্নুৎপাতের সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র ও ধারালো কণাকে আগ্নেয় ছাই বলা হয়। এটি বিমানের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, রানওয়ে দূষিত করতে পারে এবং দৃশ্যমানতা কমিয়ে উড়োজাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলেন-
“প্রভাবিত উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮.৫ কিলোমিটার থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। এটি সাময়িকভাবে স্যাটেলাইট কার্যক্রম ও ফ্লাইট অপারেশনকে প্রভাবিত করবে। তবে আবহাওয়া বা বায়ুর মানে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।”
তিনি আরও জানান, ছাইটি সোমবার রাতে ভারতের উত্তরাঞ্চলে পৌঁছায় এবং এখন চীনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা স্কাইমেট জানায়, ছাই কতদিনে দূর হবে তা বলা কঠিন। তবে আইএমডি আশা করছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে দিল্লির আকাশ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

ফ্লাইট বাতিল ও সতর্কতা

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে ভারতের উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া ১১টি ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং  ইন্ডিগো, আকাসা এয়ার, কেএলএমসহ আরও কয়েকটি এয়ারলাইন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 
ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে জানানো হয়- তারা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মুম্বাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই করতে বলেছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (ডিজিসিএ) পাইলটদের নির্দেশ দিয়েছে-

  • আগ্নেয় ছাইয়ের কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করতে হবে
  • ইঞ্জিন সমস্যার লক্ষণ, কেবিনে ধোঁয়া বা গন্ধ পাওয়া গেলে সতর্ক করতে হবে
  • প্রভাবিত অঞ্চলে পরিচালিত বিমানের পরিদর্শন করতে হবে
  • প্রয়োজনে ফ্লাইট স্থগিত বা বিলম্ব করতে হবে
আগ্নেয়গিরির ছাই দূষণের তিনটি মাত্রা রয়েছে,(কম, মধ্যম ও বেশি)  যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় একজন পাইলট কতক্ষণ উড়তে পারবেন। তবে ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির এই অগ্নুৎপাতের ছাইয়ের নির্দিষ্ট মাত্রা এখনো পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি।
স্কাইমেট ওয়েদারের আবহাওয়া বিজ্ঞানী জিপি শর্মা বলেন-
“আগ্নেয়গিরির ছাই পরিমাপ করতে আগে থেকেই সেন্সর বসানোর প্রয়োজন হয়। এই অগ্নুৎপাত হঠাৎ হওয়ায় প্রস্তুতির সুযোগ ছিল না।”

ইউরোপে ২০১০ সালের মতো পরিস্থিতি?

বিশ্বে আগ্নেয়গিরির ছাই সাধারণত বিরল ঘটনা। তবে আইসল্যান্ডের আইয়াফিয়াতলায়োকুল আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে ২০১০ সালে ইউরোপ–যুক্তরাজ্যের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যায়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক বিমান চলাচল বিপর্যয় ছিল।

ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির
হঠাৎ অগ্নুৎপাত শুধু আফ্রিকার নয়, হাজার কিলোমিটার দূরের দেশগুলোর বিমান চলাচলেও বড় প্রভাব ফেলেছে। দিল্লির আকাশে ছাই পৌঁছানো আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের আন্তঃসংযোগ কতটা স্পর্শকাতর- তা আবারও মনে করিয়ে দিল।

বিষয় : আগ্নেয়গিরি volcano ইথিওপিয়া Aviation safety ভারত ethiopia volcano eruption

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক প্রথম সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬


ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরি ছাই পৌঁছেছে দিল্লিতে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন

প্রকাশের তারিখ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

ইথিওপিয়া থেকে উঠে আসা আগ্নেয়গিরির ছাই লাল সাগর পেরিয়ে ওমান ও ইয়েমেন হয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)।
ইথিওপিয়ার হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরি, যা কয়েক হাজার বছর নিষ্ক্রিয় ছিল, রবিবার সকালে অগ্নুৎপাত শুরু করে। এতে কয়েক হাজার ফুট উচ্চতায় উঠে যায় ধোঁয়া ও ছাইয়ের স্তম্ভ।
এই ছাইয়ের প্রভাবে ভারতের বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। ভারতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এয়ারলাইনগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, প্রভাবিত আকাশসীমা “কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতে” হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছাইয়ের দূষণের মাত্রা এখনও পরিষ্কার নয়, তবে এটি দিল্লির বায়ুমানকে প্রভাবিত করবে না। মঙ্গলবারের সরকারি সূচকে দিল্লির বায়ুমান “খুবই খারাপ” ছিল।

আগ্নেয়গিরির ছাই কীভাবে বিপজ্জনক?

অগ্নুৎপাতের সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র ও ধারালো কণাকে আগ্নেয় ছাই বলা হয়। এটি বিমানের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, রানওয়ে দূষিত করতে পারে এবং দৃশ্যমানতা কমিয়ে উড়োজাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলেন-
“প্রভাবিত উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮.৫ কিলোমিটার থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। এটি সাময়িকভাবে স্যাটেলাইট কার্যক্রম ও ফ্লাইট অপারেশনকে প্রভাবিত করবে। তবে আবহাওয়া বা বায়ুর মানে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।”
তিনি আরও জানান, ছাইটি সোমবার রাতে ভারতের উত্তরাঞ্চলে পৌঁছায় এবং এখন চীনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা স্কাইমেট জানায়, ছাই কতদিনে দূর হবে তা বলা কঠিন। তবে আইএমডি আশা করছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে দিল্লির আকাশ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

ফ্লাইট বাতিল ও সতর্কতা

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে ভারতের উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া ১১টি ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং  ইন্ডিগো, আকাসা এয়ার, কেএলএমসহ আরও কয়েকটি এয়ারলাইন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 
ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে জানানো হয়- তারা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মুম্বাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই করতে বলেছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (ডিজিসিএ) পাইলটদের নির্দেশ দিয়েছে-

  • আগ্নেয় ছাইয়ের কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করতে হবে
  • ইঞ্জিন সমস্যার লক্ষণ, কেবিনে ধোঁয়া বা গন্ধ পাওয়া গেলে সতর্ক করতে হবে
  • প্রভাবিত অঞ্চলে পরিচালিত বিমানের পরিদর্শন করতে হবে
  • প্রয়োজনে ফ্লাইট স্থগিত বা বিলম্ব করতে হবে
আগ্নেয়গিরির ছাই দূষণের তিনটি মাত্রা রয়েছে,(কম, মধ্যম ও বেশি)  যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় একজন পাইলট কতক্ষণ উড়তে পারবেন। তবে ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির এই অগ্নুৎপাতের ছাইয়ের নির্দিষ্ট মাত্রা এখনো পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি।
স্কাইমেট ওয়েদারের আবহাওয়া বিজ্ঞানী জিপি শর্মা বলেন-
“আগ্নেয়গিরির ছাই পরিমাপ করতে আগে থেকেই সেন্সর বসানোর প্রয়োজন হয়। এই অগ্নুৎপাত হঠাৎ হওয়ায় প্রস্তুতির সুযোগ ছিল না।”

ইউরোপে ২০১০ সালের মতো পরিস্থিতি?

বিশ্বে আগ্নেয়গিরির ছাই সাধারণত বিরল ঘটনা। তবে আইসল্যান্ডের আইয়াফিয়াতলায়োকুল আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে ২০১০ সালে ইউরোপ–যুক্তরাজ্যের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যায়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক বিমান চলাচল বিপর্যয় ছিল।
[970]
ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির
হঠাৎ অগ্নুৎপাত শুধু আফ্রিকার নয়, হাজার কিলোমিটার দূরের দেশগুলোর বিমান চলাচলেও বড় প্রভাব ফেলেছে। দিল্লির আকাশে ছাই পৌঁছানো আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের আন্তঃসংযোগ কতটা স্পর্শকাতর- তা আবারও মনে করিয়ে দিল।

দৈনিক প্রথম সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈম মাহমুদ
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সংবাদ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

শিরোনাম

দৈনিক প্রথম সংবাদ স্বাধীনবাংলা সাহিত্য পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় কমিটি ২০২৬ গঠিত দৈনিক প্রথম সংবাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ দৈনিক প্রথম সংবাদ স্বপ্নের স্কলারশিপে অস্ট্রেলিয়া, সব খরচ দেবে মোনাশ দৈনিক প্রথম সংবাদ বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ Bangladesh Bank Job Circular 2026 দৈনিক প্রথম সংবাদ রাণীশংকৈলে ষড়জ শিল্পী গোষ্ঠীর উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ দৈনিক প্রথম সংবাদ গাইবান্ধায় পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল দৈনিক প্রথম সংবাদ নীলফামারী সিভিল সার্জনের কার্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ CS Nilphamari Job Circular 2026 দৈনিক প্রথম সংবাদ নতুন বছর ২০২৬: সুখী ও সুস্থ থাকতে ৮টি কার্যকর জীবনশৈলী পরিবর্তন দৈনিক প্রথম সংবাদ ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ FRC Job Circular 2026 দৈনিক প্রথম সংবাদ ভারতে চীনা সন্দেহে ছাত্র হত্যা: উত্তরাখণ্ডে তীব্র ক্ষোভ