যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে যারা ইবি-৫ বিনিয়োগভিত্তিক ভিসার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এসেছে কিছুটা স্বস্তির খবর। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ইবি-৫ ইমিগ্রান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রামের ফি কমাতে এবং প্রক্রিয়া আরও আধুনিক করতে একটি নতুন নিয়মের খসড়া প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবিত এই রুল কার্যকর হলে বিনিয়োগকারী ও রিজিওনাল সেন্টার দু’পক্ষেরই খরচ কমবে, আর আবেদন প্রক্রিয়াও আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইবি-৫ হচ্ছে কর্মসংস্থানভিত্তিক পঞ্চম অগ্রাধিকারের (ইমপ্লয়মেন্ট–বেসড ফিফথ প্রেফারেন্স) একটি ভিসা ক্যাটাগরি, যেখানে বিদেশি নাগরিকরা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ মার্কিন কোনো নতুন ব্যবসা বা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগ করে স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ড) হওয়ার সুযোগ পান। বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা ইবি-৫ ভিসার অন্যতম প্রধান শর্ত; তাই এ প্রোগ্রামকে একইসঙ্গে ইমিগ্রেশন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়।
ডিএইচএসের সর্বশেষ প্রস্তাবে ইবি-৫ সংক্রান্ত কয়েকটি মূল ফর্মের ফি কমানোর কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক পিটিশন হিসেবে ব্যবহৃত ফর্ম আই-৫২৬ ও আই-৫২৬ই–এর বর্তমান ফি ১১,১৬০ ডলার, যার মধ্যে ৯৫ ডলার প্রযুক্তি ফি অন্তর্ভুক্ত। খসড়া অনুযায়ী, এই ফি কমিয়ে ৯,৬২৫ ডলার করার প্রস্তাব করা হয়েছে; অর্থাৎ বিনিয়োগকারী প্রতি প্রায় ১,৫৩৫ ডলার বা গড়ে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ফি কমবে। একইভাবে, স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন - ফর্ম আই-৮২৯-এর ফি কমিয়ে ৭,৮৬০ ডলার রাখার কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমান কাঠামোর তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ কম।
এ ছাড়া ইবি-৫ ফাইলিং আরও ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করতে ইউএসসিআইএসের জন্য ৯৫ ডলারের একটি আলাদা প্রযুক্তি ফি প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনলাইন প্রসেসিং, ডেটা ম্যানেজমেন্ট ও সিকিউরিটি সিস্টেম উন্নয়নে ব্যবহার করার পরিকল্পনা আছে বলে খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। এই টেক ফি মূলত ইবি-৫–সংক্রান্ত সব ধরণের ফর্মের ক্ষেত্রে একধরনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার চার্জ হিসেবে কাজ করবে, যদিও সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের মোট ব্যয় আগের তুলনায় কমই থাকছে।
প্রস্তাবিত রুলে শুধু ফি কমানো নয়, একটি নতুন ফর্মও যোগ হচ্ছে আই-৫২৭। এই ফর্ম মূলত সেইসব লিগেসি ইনভেস্টরদের জন্য, যারা ১৫ মার্চ ২০২২ এর আগে পুরোনো আই-৫২৬ পিটিশন জমা দিয়েছিলেন এবং যাদের বিনিয়োগ করা রিজিওনাল সেন্টার পরবর্তীতে বাতিল, স্থগিত বা ডিবার হয়েছে। নতুন আই-৫২৭ ফর্মের মাধ্যমে এসব বিনিয়োগকারী তাদের আগের পিটিশন সংশোধন করে যোগ্যতা ধরে রাখতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে নতুন অনুমোদিত রিজিওনাল সেন্টারের সঙ্গে প্রজেক্ট রি–অ্যালাইন করতে পারবেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অনেক কেসের জন্য এটি একটি বাস্তবসম্মত ‘রেসকিউ পথ’ তৈরি করবে বলে আইনজীবী ও কনসালটেন্টরা মনে করছেন।
ডিএইচএসের খসড়া নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ইবি-৫ প্রোগ্রামের বিভিন্ন ফি কাঠামো এভাবে সামঞ্জস্য করা হলে বছরে গড়ে ১১ হাজারের বেশি ফাইলিংয়ের ওপর এর প্রভাব পড়বে। অনেক বিনিয়োগকারী ও রিজিওনাল সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ করে আসছিলেন ইবি-৫ ফি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে, ফলে বাজারে অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে এই প্রস্তাব আংশিকভাবে হলেও সেই চাপ কমাতে পারে। সাম্প্রতিক একটি মামলার রায় অনুযায়ী পূর্বের অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধি সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় এখন আগের তুলনায় তুলনামূলক কম খরচে ফাইল করারও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আইনজীবী ও ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য, প্রস্তাবিত এই ফি কমানোর সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়; প্রকাশিত নোটিশের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জনমত (পাবলিক কমেন্ট) নেওয়া হবে, এরপর মতামত পর্যালোচনা করে ডিএইচএস চূড়ান্ত রুল প্রকাশ করবে। তবে খসড়া থেকে অন্তত এটা পরিষ্কার হয়েছে যে, অন্য অনেক ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে যেখানে ফি বাড়ানোর আলোচনা চলছে, সেখানে ইবি-৫ প্রোগ্রামকে কিছুটা টার্গেটেড ইনসেন্টিভ দেওয়ার দিকেই ঝুঁকছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-৫ ভিসায় আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের জন্য এই প্রস্তাবিত পরিবর্তন কয়েকটি দিক থেকে ইতিবাচক সংকেত বহন করছে। একদিকে ফি কমে প্রাথমিক ব্যয় কমছে, অন্যদিকে বন্ধ বা বাতিল হওয়া রিজিওনাল সেন্টার–সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কাটাতে আই-৫২৭ ফর্মের মাধ্যমে বিকল্প পথ তৈরি হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই রুল কি আকারে কার্যকর হবে, ফাইনাল ফি কত থাকে এবং কখন থেকে প্রযোজ্য হবে সেটা জানতে সবারই এখন ডিএইচএসের চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে যারা ইবি-৫ বিনিয়োগভিত্তিক ভিসার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এসেছে কিছুটা স্বস্তির খবর। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ইবি-৫ ইমিগ্রান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রামের ফি কমাতে এবং প্রক্রিয়া আরও আধুনিক করতে একটি নতুন নিয়মের খসড়া প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবিত এই রুল কার্যকর হলে বিনিয়োগকারী ও রিজিওনাল সেন্টার দু’পক্ষেরই খরচ কমবে, আর আবেদন প্রক্রিয়াও আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইবি-৫ হচ্ছে কর্মসংস্থানভিত্তিক পঞ্চম অগ্রাধিকারের (ইমপ্লয়মেন্ট–বেসড ফিফথ প্রেফারেন্স) একটি ভিসা ক্যাটাগরি, যেখানে বিদেশি নাগরিকরা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ মার্কিন কোনো নতুন ব্যবসা বা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগ করে স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ড) হওয়ার সুযোগ পান। বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা ইবি-৫ ভিসার অন্যতম প্রধান শর্ত; তাই এ প্রোগ্রামকে একইসঙ্গে ইমিগ্রেশন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়।
ডিএইচএসের সর্বশেষ প্রস্তাবে ইবি-৫ সংক্রান্ত কয়েকটি মূল ফর্মের ফি কমানোর কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক পিটিশন হিসেবে ব্যবহৃত ফর্ম আই-৫২৬ ও আই-৫২৬ই–এর বর্তমান ফি ১১,১৬০ ডলার, যার মধ্যে ৯৫ ডলার প্রযুক্তি ফি অন্তর্ভুক্ত। খসড়া অনুযায়ী, এই ফি কমিয়ে ৯,৬২৫ ডলার করার প্রস্তাব করা হয়েছে; অর্থাৎ বিনিয়োগকারী প্রতি প্রায় ১,৫৩৫ ডলার বা গড়ে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ফি কমবে। একইভাবে, স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন - ফর্ম আই-৮২৯-এর ফি কমিয়ে ৭,৮৬০ ডলার রাখার কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমান কাঠামোর তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ কম।
এ ছাড়া ইবি-৫ ফাইলিং আরও ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করতে ইউএসসিআইএসের জন্য ৯৫ ডলারের একটি আলাদা প্রযুক্তি ফি প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনলাইন প্রসেসিং, ডেটা ম্যানেজমেন্ট ও সিকিউরিটি সিস্টেম উন্নয়নে ব্যবহার করার পরিকল্পনা আছে বলে খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। এই টেক ফি মূলত ইবি-৫–সংক্রান্ত সব ধরণের ফর্মের ক্ষেত্রে একধরনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার চার্জ হিসেবে কাজ করবে, যদিও সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের মোট ব্যয় আগের তুলনায় কমই থাকছে।
প্রস্তাবিত রুলে শুধু ফি কমানো নয়, একটি নতুন ফর্মও যোগ হচ্ছে আই-৫২৭। এই ফর্ম মূলত সেইসব লিগেসি ইনভেস্টরদের জন্য, যারা ১৫ মার্চ ২০২২ এর আগে পুরোনো আই-৫২৬ পিটিশন জমা দিয়েছিলেন এবং যাদের বিনিয়োগ করা রিজিওনাল সেন্টার পরবর্তীতে বাতিল, স্থগিত বা ডিবার হয়েছে। নতুন আই-৫২৭ ফর্মের মাধ্যমে এসব বিনিয়োগকারী তাদের আগের পিটিশন সংশোধন করে যোগ্যতা ধরে রাখতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে নতুন অনুমোদিত রিজিওনাল সেন্টারের সঙ্গে প্রজেক্ট রি–অ্যালাইন করতে পারবেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অনেক কেসের জন্য এটি একটি বাস্তবসম্মত ‘রেসকিউ পথ’ তৈরি করবে বলে আইনজীবী ও কনসালটেন্টরা মনে করছেন।
ডিএইচএসের খসড়া নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ইবি-৫ প্রোগ্রামের বিভিন্ন ফি কাঠামো এভাবে সামঞ্জস্য করা হলে বছরে গড়ে ১১ হাজারের বেশি ফাইলিংয়ের ওপর এর প্রভাব পড়বে। অনেক বিনিয়োগকারী ও রিজিওনাল সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ করে আসছিলেন ইবি-৫ ফি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে, ফলে বাজারে অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে এই প্রস্তাব আংশিকভাবে হলেও সেই চাপ কমাতে পারে। সাম্প্রতিক একটি মামলার রায় অনুযায়ী পূর্বের অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধি সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় এখন আগের তুলনায় তুলনামূলক কম খরচে ফাইল করারও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আইনজীবী ও ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য, প্রস্তাবিত এই ফি কমানোর সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়; প্রকাশিত নোটিশের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জনমত (পাবলিক কমেন্ট) নেওয়া হবে, এরপর মতামত পর্যালোচনা করে ডিএইচএস চূড়ান্ত রুল প্রকাশ করবে। তবে খসড়া থেকে অন্তত এটা পরিষ্কার হয়েছে যে, অন্য অনেক ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে যেখানে ফি বাড়ানোর আলোচনা চলছে, সেখানে ইবি-৫ প্রোগ্রামকে কিছুটা টার্গেটেড ইনসেন্টিভ দেওয়ার দিকেই ঝুঁকছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-৫ ভিসায় আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের জন্য এই প্রস্তাবিত পরিবর্তন কয়েকটি দিক থেকে ইতিবাচক সংকেত বহন করছে। একদিকে ফি কমে প্রাথমিক ব্যয় কমছে, অন্যদিকে বন্ধ বা বাতিল হওয়া রিজিওনাল সেন্টার–সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কাটাতে আই-৫২৭ ফর্মের মাধ্যমে বিকল্প পথ তৈরি হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই রুল কি আকারে কার্যকর হবে, ফাইনাল ফি কত থাকে এবং কখন থেকে প্রযোজ্য হবে সেটা জানতে সবারই এখন ডিএইচএসের চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।[970]

আপনার মতামত লিখুন