ইসরায়েলি সংসদ কেনেসেট মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম তীর সংযুক্তিকরণের দুটি বিল পাস করেছে— যা শুধু মার্কিন প্রশাসন নয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেটানিয়াহুর নিজের দল লিকুদ পার্টির বিরুদ্ধেও এক চ্যালেঞ্জ।
এর একদিন পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, “ইসরায়েল পশ্চিম তীর নিয়ে কিছুই করতে পারবে না।”
কেনেসেট মঙ্গলবার দুটি পৃথক বিলের ওপর ভোট দেয়—
প্রথম বিলটি বিরোধী নেতা আভিগদর লিবারম্যান প্রস্তাব করেন, আর দ্বিতীয়টি উগ্র-ডানপন্থী এমকে আভি মাওজ উত্থাপন করেন।
আভি মাওজ কেনেসেটে বলেন,
“ঈশ্বর আমাদের ইসরায়েলের ভূমি দিয়েছেন। এই ভূমিতে বসতি গড়া আমাদের জাতীয় পুনর্জাগরণের অংশ।”
দুটি বিলই প্রাথমিক পর্যায়ে পাস হয়েছে—
তবে নেটানিয়াহুর লিকুদ পার্টির অধিকাংশ এমকে ভোট বর্জন করেন। শুধু একজন সদস্য সমর্থন দেন, যার ফলে তাকে পরবর্তীতে সংসদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ভোটের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,
“ইসরায়েল পশ্চিম তীর সংযুক্ত করতে পারবে না। প্রয়োজনে আমি সমর্থন বন্ধ করে দেব।”
তার উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স, যিনি গাজায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে ছিলেন, ভোটকে “একটি হাস্যকর রাজনৈতিক কৌশল” বলে উল্লেখ করেন।
এছাড়া মার্কো রুবিও, জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফসহ বেশ কয়েকজন মার্কিন প্রতিনিধি বর্তমানে ইসরায়েলে অবস্থান করছেন যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে।
নেতানিয়াহু সরকার প্রকাশ্যে এই বিলের বিরোধিতা করেছে। লিকুদ পার্টির বিবৃতিতে বলা হয়—
“সত্যিকারের সার্বভৌমত্ব কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব কাজে অর্জিত হয়।”
তবে বিশ্লেষকদের মতে,নেতানিয়াহু একদিকে মার্কিন সহায়তা বজায় রাখতে চান, অন্যদিকে দেশের উগ্র ডানপন্থিদেরও খুশি রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই বিলগুলোর পক্ষে ছিলেন—
যারা দাবি করেন,
“জুডিয়া ও সামারিয়া ভূমিতে পূর্ণ সার্বভৌমত্বের সময় এসেছে।”
অবাক করা বিষয়, বিরোধী নেতা বেনি গ্যান্টজ ও ইয়াইর লাপিদও মা’আলে আদুমিম বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন— যাদের সাধারণত পশ্চিমা গণমাধ্যমে “মধ্যপন্থী” হিসেবে দেখা হয়।
এখন বিলগুলো কেনেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে পাঠানো হবে।
আইনে পরিণত হতে হলে আরও তিন দফা ভোট প্রয়োজন।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান এবং নেটানিয়াহুর অনাগ্রহের কারণে এগুলোর পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
যদিও এই বিলগুলো আইনে পরিণত না-ও হতে পারে, তবুও এগুলো ইসরায়েলের ধীরে ধীরে পশ্চিম তীর দখলের প্রক্রিয়ার আরেক ধাপ।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে—
আর ২০১৮ সালের নেশন-স্টেট আইন ইসরায়েলকে একচেটিয়া “ইহুদি রাষ্ট্র” হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হলেও, বাস্তবে ইসরায়েল ক্রমে পশ্চিম তীরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসছে।

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫
ইসরায়েলি সংসদ কেনেসেট মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম তীর সংযুক্তিকরণের দুটি বিল পাস করেছে— যা শুধু মার্কিন প্রশাসন নয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেটানিয়াহুর নিজের দল লিকুদ পার্টির বিরুদ্ধেও এক চ্যালেঞ্জ।
এর একদিন পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, “ইসরায়েল পশ্চিম তীর নিয়ে কিছুই করতে পারবে না।”
কেনেসেট মঙ্গলবার দুটি পৃথক বিলের ওপর ভোট দেয়—
প্রথম বিলটি বিরোধী নেতা আভিগদর লিবারম্যান প্রস্তাব করেন, আর দ্বিতীয়টি উগ্র-ডানপন্থী এমকে আভি মাওজ উত্থাপন করেন।
আভি মাওজ কেনেসেটে বলেন,
“ঈশ্বর আমাদের ইসরায়েলের ভূমি দিয়েছেন। এই ভূমিতে বসতি গড়া আমাদের জাতীয় পুনর্জাগরণের অংশ।”
দুটি বিলই প্রাথমিক পর্যায়ে পাস হয়েছে—
তবে নেটানিয়াহুর লিকুদ পার্টির অধিকাংশ এমকে ভোট বর্জন করেন। শুধু একজন সদস্য সমর্থন দেন, যার ফলে তাকে পরবর্তীতে সংসদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ভোটের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,
“ইসরায়েল পশ্চিম তীর সংযুক্ত করতে পারবে না। প্রয়োজনে আমি সমর্থন বন্ধ করে দেব।”
তার উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স, যিনি গাজায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে ছিলেন, ভোটকে “একটি হাস্যকর রাজনৈতিক কৌশল” বলে উল্লেখ করেন।
এছাড়া মার্কো রুবিও, জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফসহ বেশ কয়েকজন মার্কিন প্রতিনিধি বর্তমানে ইসরায়েলে অবস্থান করছেন যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে।
নেতানিয়াহু সরকার প্রকাশ্যে এই বিলের বিরোধিতা করেছে। লিকুদ পার্টির বিবৃতিতে বলা হয়—
“সত্যিকারের সার্বভৌমত্ব কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব কাজে অর্জিত হয়।”
তবে বিশ্লেষকদের মতে,নেতানিয়াহু একদিকে মার্কিন সহায়তা বজায় রাখতে চান, অন্যদিকে দেশের উগ্র ডানপন্থিদেরও খুশি রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই বিলগুলোর পক্ষে ছিলেন—
যারা দাবি করেন,
“জুডিয়া ও সামারিয়া ভূমিতে পূর্ণ সার্বভৌমত্বের সময় এসেছে।”
অবাক করা বিষয়, বিরোধী নেতা বেনি গ্যান্টজ ও ইয়াইর লাপিদও মা’আলে আদুমিম বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন— যাদের সাধারণত পশ্চিমা গণমাধ্যমে “মধ্যপন্থী” হিসেবে দেখা হয়।
এখন বিলগুলো কেনেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে পাঠানো হবে।
আইনে পরিণত হতে হলে আরও তিন দফা ভোট প্রয়োজন।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান এবং নেটানিয়াহুর অনাগ্রহের কারণে এগুলোর পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
[762]
যদিও এই বিলগুলো আইনে পরিণত না-ও হতে পারে, তবুও এগুলো ইসরায়েলের ধীরে ধীরে পশ্চিম তীর দখলের প্রক্রিয়ার আরেক ধাপ।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে—
আর ২০১৮ সালের নেশন-স্টেট আইন ইসরায়েলকে একচেটিয়া “ইহুদি রাষ্ট্র” হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হলেও, বাস্তবে ইসরায়েল ক্রমে পশ্চিম তীরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসছে।

আপনার মতামত লিখুন