ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য আন্ধ্র প্রদেশে একাদশী উপলক্ষে ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে ভয়াবহ পদদলনের ঘটনা ঘটেছে। এতে নয়জন ভক্ত নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে আটজন নারী ও একজন শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে রাজ্যের শ্রীকাকুলাম জেলার কাশিবুগ্গা এলাকায় অবস্থিত নবনির্মিত শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দিরে। স্থানীয় সময় সকাল থেকেই মন্দিরে হাজারো ভক্ত ভিড় জমাতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মন্দিরের সিঁড়ি ঘেঁষে থাকা রেলিং হঠাৎ ভেঙে পড়ে গেলে কয়েকজন নারী পড়ে যান। সেই সময় উপরে থাকা ভক্তদের ভিড়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়, এবং মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে,ভক্তরা বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন, কেউ মেঝেতে পড়ে কাঁদছেন, কেউ বা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্দিরটি এখনো পুরোপুরি নির্মাণাধীন এবং এখানে মাত্র একটি প্রবেশ ও প্রস্থান পথ ছিল। ফলে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে বাতাস চলাচল ও চলাচলের পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, যা এই দুর্ঘটনাকে মারাত্মক করে তোলে।
আন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ঘটনাটিকে “অত্যন্ত মর্মান্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এক্স (টুইটার)-এ লিখেছেন,
“ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে পদদলনের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি সহায়তা দেওয়া হবে।”
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কাশিবুগ্গার এই মন্দিরটি রাজ্যের এনডাওমেন্টস ডিপার্টমেন্টের আওতায় নয়, অর্থাৎ সরকারিভাবে পরিচালিত নয়। স্থানীয় প্রশাসনকে আগে থেকে সম্ভাব্য ভিড়ের বিষয়ে জানানো হয়নি।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, নির্মাণাধীন এলাকায় পূজার আয়োজন ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন বিধবা নারী এডুরি চিন্নামা, যিনি মাথা মুণ্ডন করতে এসেছিলেন। ভক্তরা বলছেন, “তিনি উপোস ছিলেন, ভিড়ে দুর্বল হয়ে পড়ে যান, তারপর রেলিং ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই পড়ে গিয়ে পদদলিত হন।”
ঘটনার পর পুরো রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৫
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য আন্ধ্র প্রদেশে একাদশী উপলক্ষে ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে ভয়াবহ পদদলনের ঘটনা ঘটেছে। এতে নয়জন ভক্ত নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে আটজন নারী ও একজন শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে রাজ্যের শ্রীকাকুলাম জেলার কাশিবুগ্গা এলাকায় অবস্থিত নবনির্মিত শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দিরে। স্থানীয় সময় সকাল থেকেই মন্দিরে হাজারো ভক্ত ভিড় জমাতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মন্দিরের সিঁড়ি ঘেঁষে থাকা রেলিং হঠাৎ ভেঙে পড়ে গেলে কয়েকজন নারী পড়ে যান। সেই সময় উপরে থাকা ভক্তদের ভিড়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়, এবং মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে,ভক্তরা বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন, কেউ মেঝেতে পড়ে কাঁদছেন, কেউ বা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্দিরটি এখনো পুরোপুরি নির্মাণাধীন এবং এখানে মাত্র একটি প্রবেশ ও প্রস্থান পথ ছিল। ফলে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে বাতাস চলাচল ও চলাচলের পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, যা এই দুর্ঘটনাকে মারাত্মক করে তোলে।
আন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ঘটনাটিকে “অত্যন্ত মর্মান্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এক্স (টুইটার)-এ লিখেছেন,
“ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে পদদলনের ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি সহায়তা দেওয়া হবে।”
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কাশিবুগ্গার এই মন্দিরটি রাজ্যের এনডাওমেন্টস ডিপার্টমেন্টের আওতায় নয়, অর্থাৎ সরকারিভাবে পরিচালিত নয়। স্থানীয় প্রশাসনকে আগে থেকে সম্ভাব্য ভিড়ের বিষয়ে জানানো হয়নি।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, নির্মাণাধীন এলাকায় পূজার আয়োজন ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন বিধবা নারী এডুরি চিন্নামা, যিনি মাথা মুণ্ডন করতে এসেছিলেন। ভক্তরা বলছেন, “তিনি উপোস ছিলেন, ভিড়ে দুর্বল হয়ে পড়ে যান, তারপর রেলিং ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই পড়ে গিয়ে পদদলিত হন।”
ঘটনার পর পুরো রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
[853]

আপনার মতামত লিখুন