নোবেলজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন, যিনি ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিকের সঙ্গে মিলে ডিএনএর গঠন আবিষ্কার করেছিলেন, তিনি ৯৭ বছর বয়সে মারা গেছেন।
১৯৫৩ সালে তাঁদের যুগান্তকারী আবিষ্কার — ডিএনএর ডাবল হেলিক্স গঠন — জীববিজ্ঞানে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এই আবিষ্কার আধুনিক মলিকিউলার বায়োলজির ভিত্তি স্থাপন করে দেয় এবং জিনতত্ত্ব গবেষণাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
ওয়াটসন, ক্রিক ও মরিস উইলকিন্স যৌথভাবে ১৯৬২ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। পুরস্কার ঘোষণার সময় তাঁরা বলেছিলেন,
“আমরা জীবনের রহস্য উন্মোচন করেছি।”
তাঁর এই অবদান জীববিজ্ঞান ও জেনেটিক গবেষণায় বিপ্লব এনেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য বিজ্ঞানজগতের সেই সম্মান ক্ষুণ্ণ করে দেয়।
জীবনের শেষভাগে ওয়াটসনের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর জাতি ও লিঙ্গ বিষয়ক বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে।
২০০৭ সালে দ্য টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আফ্রিকা সম্পর্কে তিনি “নিরাশাবাদী”, কারণ “আমাদের সামাজিক নীতিগুলো ধরে নেয় যে সবাই সমান বুদ্ধিমান — অথচ পরীক্ষাগুলো তা প্রমাণ করে না।”
এই মন্তব্যের পর তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করলেও, নিউইয়র্কের কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাব থেকে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়।
২০১৯ সালে একই ধরনের মন্তব্য করলে ল্যাব তাঁর সমস্ত সম্মানসূচক উপাধি বাতিল করে দেয় এবং জানায়,
“ড. ওয়াটসনের বক্তব্য নিন্দনীয়, এবং কোনোভাবেই বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত নয়।”
যদিও ডিএনএ প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৮৬৯ সালে, এর গঠন রহস্য থেকে যায় ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত।
ওয়াটসন ও ক্রিক, রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিনের তোলা এক্স-রে ছবির সাহায্যে (তাঁর অজান্তে) ডিএনএর ডাবল হেলিক্স মডেল তৈরি করেন।
তবে ফ্র্যাঙ্কলিনের অবদান সে সময় যথাযথভাবে স্বীকৃতি পায়নি। আজ তাঁকে ডিএনএ গবেষণার অপরিহার্য অংশ হিসেবে সম্মান জানানো হয়।
জেমস ওয়াটসন ১৯২৮ সালের এপ্রিলে শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ক্রিকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়, এবং তাঁদের যৌথ গবেষণাতেই ইতিহাস সৃষ্টি হয়।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শেষে তিনি কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরির পরিচালক হন, যেখানে তিনি প্রায় ৪০ বছর গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।
তাঁর দুই ছেলে ছিল, যার মধ্যে একজন স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হন — এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই তাঁকে মানব জিনোম গবেষণায় আরও আগ্রহী করে তোলে।
২০১৪ সালে তিনি প্রথম জীবিত নোবেলজয়ী হিসেবে নিজের স্বর্ণপদক বিক্রি করেন — যা ৪.৮ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। পরে রুশ এক বিলিয়নিয়ার পদকটি কিনে তাঁকেই ফিরিয়ে দেন।
ওয়াটসন একবার বলেছিলেন —
“আমি বিজ্ঞানের জন্য বেঁচেছি, কিন্তু মানুষ হিসেবে আমি ভুল করেছি।”
জেমস ওয়াটসন বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অসাধারণ অথচ বিতর্কিত নাম —
একদিকে তিনি “জীবনের রহস্য উন্মোচনকারী”, অন্যদিকে তাঁর মন্তব্য তাঁকে বিজ্ঞান সমাজে বিতাড়িত করেছে।
তবুও তাঁর ডিএনএ আবিষ্কার মানবসভ্যতার অন্যতম বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫
নোবেলজয়ী মার্কিন বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন, যিনি ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিকের সঙ্গে মিলে ডিএনএর গঠন আবিষ্কার করেছিলেন, তিনি ৯৭ বছর বয়সে মারা গেছেন।
১৯৫৩ সালে তাঁদের যুগান্তকারী আবিষ্কার — ডিএনএর ডাবল হেলিক্স গঠন — জীববিজ্ঞানে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এই আবিষ্কার আধুনিক মলিকিউলার বায়োলজির ভিত্তি স্থাপন করে দেয় এবং জিনতত্ত্ব গবেষণাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
ওয়াটসন, ক্রিক ও মরিস উইলকিন্স যৌথভাবে ১৯৬২ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। পুরস্কার ঘোষণার সময় তাঁরা বলেছিলেন,
“আমরা জীবনের রহস্য উন্মোচন করেছি।”
তাঁর এই অবদান জীববিজ্ঞান ও জেনেটিক গবেষণায় বিপ্লব এনেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য বিজ্ঞানজগতের সেই সম্মান ক্ষুণ্ণ করে দেয়।
জীবনের শেষভাগে ওয়াটসনের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর জাতি ও লিঙ্গ বিষয়ক বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে।
২০০৭ সালে দ্য টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আফ্রিকা সম্পর্কে তিনি “নিরাশাবাদী”, কারণ “আমাদের সামাজিক নীতিগুলো ধরে নেয় যে সবাই সমান বুদ্ধিমান — অথচ পরীক্ষাগুলো তা প্রমাণ করে না।”
এই মন্তব্যের পর তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করলেও, নিউইয়র্কের কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাব থেকে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়।
২০১৯ সালে একই ধরনের মন্তব্য করলে ল্যাব তাঁর সমস্ত সম্মানসূচক উপাধি বাতিল করে দেয় এবং জানায়,
“ড. ওয়াটসনের বক্তব্য নিন্দনীয়, এবং কোনোভাবেই বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত নয়।”
যদিও ডিএনএ প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৮৬৯ সালে, এর গঠন রহস্য থেকে যায় ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত।
ওয়াটসন ও ক্রিক, রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিনের তোলা এক্স-রে ছবির সাহায্যে (তাঁর অজান্তে) ডিএনএর ডাবল হেলিক্স মডেল তৈরি করেন।
তবে ফ্র্যাঙ্কলিনের অবদান সে সময় যথাযথভাবে স্বীকৃতি পায়নি। আজ তাঁকে ডিএনএ গবেষণার অপরিহার্য অংশ হিসেবে সম্মান জানানো হয়।
জেমস ওয়াটসন ১৯২৮ সালের এপ্রিলে শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ক্রিকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়, এবং তাঁদের যৌথ গবেষণাতেই ইতিহাস সৃষ্টি হয়।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শেষে তিনি কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরির পরিচালক হন, যেখানে তিনি প্রায় ৪০ বছর গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।
তাঁর দুই ছেলে ছিল, যার মধ্যে একজন স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হন — এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই তাঁকে মানব জিনোম গবেষণায় আরও আগ্রহী করে তোলে।
২০১৪ সালে তিনি প্রথম জীবিত নোবেলজয়ী হিসেবে নিজের স্বর্ণপদক বিক্রি করেন — যা ৪.৮ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়। পরে রুশ এক বিলিয়নিয়ার পদকটি কিনে তাঁকেই ফিরিয়ে দেন।
ওয়াটসন একবার বলেছিলেন —
“আমি বিজ্ঞানের জন্য বেঁচেছি, কিন্তু মানুষ হিসেবে আমি ভুল করেছি।”
জেমস ওয়াটসন বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অসাধারণ অথচ বিতর্কিত নাম —
একদিকে তিনি “জীবনের রহস্য উন্মোচনকারী”, অন্যদিকে তাঁর মন্তব্য তাঁকে বিজ্ঞান সমাজে বিতাড়িত করেছে।
তবুও তাঁর ডিএনএ আবিষ্কার মানবসভ্যতার অন্যতম বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন