বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হলো দুর্দান্তভাবে। বৃহস্পতিবার কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে টাইগ্রেসদের জয় এনে দেন পেসার মারুফা আক্তার। তাঁর আগুনঝরা বোলিংয়ে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় মাত্র ১২৯ রানে, আর বাংলাদেশ জয় পায় ৭ উইকেটে।
আগুনঝরা সূচনা মারুফার
পাকিস্তানের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে নেন মারুফা আক্তার। প্রথমে ফুল লেংথ ডেলিভারিতে আউট করেন ওপেনার ওমাইমা সোহাইলকে। পরের বলেই সাজঘরে ফেরান ফর্মে থাকা ব্যাটার সিদরা আমিনকে, যিনি গত ছয় ম্যাচে করেছেন দুই সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটি। তখন পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে মাত্র ২ রানেই পড়ে দুই উইকেট বাংলাদেশ পায় স্বপ্নের সূচনা।
মারুফা তাঁর ৭ ওভারের স্পেলে দেন মাত্র ৩১ রান, নেন ২ উইকেট। শুরু ও মাঝের ওভারে তাঁর বলের গতি ও সুইং পাকিস্তানি ব্যাটারদের বিপাকে ফেলে দেয়।
পুরো দলীয় প্রচেষ্টায় জয়
মারুফার পর স্পিনাররাও দারুণ ভূমিকা রাখেন। শর্না আক্তার ৩ উইকেট, নাহিদা আক্তার ২ উইকেট, আর ফাহিমা খাতুন, রাবেয়া খান ও নিশিতা নিশি প্রত্যেকে নেন একটি করে উইকেট। সব মিলিয়ে পাকিস্তান অলআউট হয় ১২৯ রানে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিগার সুলতানা জ্যোতি ও ফারজানা হক পিংকির জুটিতে বাংলাদেশ সহজেই জয় তুলে নেয় ৩২ ওভারে, হাতে থাকে সাতটি উইকেট।
মারুফার সাফল্যের গল্প
মাত্র ২০ বছর বয়সেই মারুফা এখন বাংলাদেশের গর্ব। একসময় ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় মাঠে ক্রিকেট খেলতেন তিনি। করোনাকালে পরিবারের কষ্টের সময়ে মাঠে হাল চাষ করা তাঁর একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল, যা আজ তাঁর সংগ্রামের প্রতীক।
২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি নিয়েছেন ২২টি উইকেট; যার মধ্যে সেরা বোলিং ফিগার ভারতের বিপক্ষে ৪/২৯।
ইনজুরি থেকে ফিরে এই বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে, কেন তাঁকে বলা হয় “বাংলাদেশের আগুনঝরা পেসার”। তাঁর ইনসুইং সামলানোই এখন প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের বড় চ্যালেঞ্জ।
আজকের ইংল্যান্ড চ্যালেঞ্জ
আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড। তবে প্রথম ম্যাচের জয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর টাইগ্রেসরা এখন প্রস্তুত আরেকটি চমক দেখাতে। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেছেন,
“মারুফা এখন আমাদের বড় শক্তি। আমরা চাই ও যেন মাটিতে পা রেখে খেলে, কারণ সামনে আরও বড় লড়াই অপেক্ষা করছে।”

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হলো দুর্দান্তভাবে। বৃহস্পতিবার কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে টাইগ্রেসদের জয় এনে দেন পেসার মারুফা আক্তার। তাঁর আগুনঝরা বোলিংয়ে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় মাত্র ১২৯ রানে, আর বাংলাদেশ জয় পায় ৭ উইকেটে।
আগুনঝরা সূচনা মারুফার
পাকিস্তানের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে নেন মারুফা আক্তার। প্রথমে ফুল লেংথ ডেলিভারিতে আউট করেন ওপেনার ওমাইমা সোহাইলকে। পরের বলেই সাজঘরে ফেরান ফর্মে থাকা ব্যাটার সিদরা আমিনকে, যিনি গত ছয় ম্যাচে করেছেন দুই সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটি। তখন পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে মাত্র ২ রানেই পড়ে দুই উইকেট বাংলাদেশ পায় স্বপ্নের সূচনা।
মারুফা তাঁর ৭ ওভারের স্পেলে দেন মাত্র ৩১ রান, নেন ২ উইকেট। শুরু ও মাঝের ওভারে তাঁর বলের গতি ও সুইং পাকিস্তানি ব্যাটারদের বিপাকে ফেলে দেয়।
পুরো দলীয় প্রচেষ্টায় জয়
মারুফার পর স্পিনাররাও দারুণ ভূমিকা রাখেন। শর্না আক্তার ৩ উইকেট, নাহিদা আক্তার ২ উইকেট, আর ফাহিমা খাতুন, রাবেয়া খান ও নিশিতা নিশি প্রত্যেকে নেন একটি করে উইকেট। সব মিলিয়ে পাকিস্তান অলআউট হয় ১২৯ রানে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিগার সুলতানা জ্যোতি ও ফারজানা হক পিংকির জুটিতে বাংলাদেশ সহজেই জয় তুলে নেয় ৩২ ওভারে, হাতে থাকে সাতটি উইকেট।
মারুফার সাফল্যের গল্প
মাত্র ২০ বছর বয়সেই মারুফা এখন বাংলাদেশের গর্ব। একসময় ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় মাঠে ক্রিকেট খেলতেন তিনি। করোনাকালে পরিবারের কষ্টের সময়ে মাঠে হাল চাষ করা তাঁর একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল, যা আজ তাঁর সংগ্রামের প্রতীক।
২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি নিয়েছেন ২২টি উইকেট; যার মধ্যে সেরা বোলিং ফিগার ভারতের বিপক্ষে ৪/২৯।
ইনজুরি থেকে ফিরে এই বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে, কেন তাঁকে বলা হয় “বাংলাদেশের আগুনঝরা পেসার”। তাঁর ইনসুইং সামলানোই এখন প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের বড় চ্যালেঞ্জ।
আজকের ইংল্যান্ড চ্যালেঞ্জ
আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড। তবে প্রথম ম্যাচের জয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর টাইগ্রেসরা এখন প্রস্তুত আরেকটি চমক দেখাতে। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেছেন,
“মারুফা এখন আমাদের বড় শক্তি। আমরা চাই ও যেন মাটিতে পা রেখে খেলে, কারণ সামনে আরও বড় লড়াই অপেক্ষা করছে।”

আপনার মতামত লিখুন