বিশ্ববাজারে সাশ্রয়ী ও ছোট আকারের বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব যানবাহনের প্রতি আগ্রহ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ইউরোপের কঠোর পরিবেশনীতি বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারকে দ্রুত সম্প্রসারিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে জাপানি অটোমোবাইল নির্মাতা টয়োটা তাদের বৈদ্যুতিক গাড়ির বহর আরও বড় করার উদ্যোগ নিয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে টয়োটা উন্মোচন করেছে নতুন একটি বৈদ্যুতিক সাব-কমপ্যাক্ট এসইউভি, যার নাম ‘আরবান ক্রুজার’। মূলত ইউরোপের বাজারের জন্যই এই ক্রসওভারটি তৈরি করা হয়েছে। আপাতত উত্তর আমেরিকা বা এশিয়ার বাজারে গাড়িটি আনার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে টয়োটা।
ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে আরবান ক্রুজারকে টয়োটার সম্পূর্ণ নতুন ব্যাটারি ইলেকট্রিক ভেহিকল (BEV) প্ল্যাটফর্মে তৈরি করা হয়েছে। উৎপাদন খরচ কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এতে লিথিয়াম-আয়রন ফসফেট (LFP) ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপত্তা ও আয়ুর দিক থেকে বেশ কার্যকর বলে পরিচিত।
এই বৈদ্যুতিক এসইউভিটি দুটি ভিন্ন ব্যাটারি প্যাক অপশনে পাওয়া যাবে। ৪৯ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি যুক্ত সংস্করণটি এক চার্জে প্রায় ৩৪৫ কিলোমিটার পথ চলতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে, ৬১ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি প্যাকযুক্ত মডেলটি সর্বোচ্চ প্রায় ৪২৬ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দেবে। অল-হুইল-ড্রাইভ সংস্করণে এক চার্জে আনুমানিক ৩৯৫ কিলোমিটার চলার সুবিধা থাকবে।
গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখতে টয়োটা এই গাড়ির জন্য বিশেষ ‘ব্যাটারি কেয়ার প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী নিয়মিত বার্ষিক চেকআপ করালে ১০ বছর বা ১ লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমপক্ষে ৭০ শতাংশ বজায় থাকবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও আরবান ক্রুজার আধুনিক সুবিধা দিচ্ছে। ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়িটির ব্যাটারি ১০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হতে সময় নেবে আনুমানিক ৪৫ মিনিট, যা দৈনন্দিন ব্যবহার ও দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য যথেষ্ট কার্যকর।
আকারে টয়োটার bZ4X মডেলের তুলনায় ছোট হলেও আরবান ক্রুজারের অভ্যন্তরীণ কেবিন বেশ প্রশস্ত। গাড়িটির ১০৬.৩ ইঞ্চি হুইলবেস এবং পেছনের সিট স্লাইড ও ভাঁজ করার সুবিধার কারণে যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের পাশাপাশি মালামাল পরিবহনেও পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায়।
গাড়ির ভেতরে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে রয়েছে ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে এবং ১০.১ ইঞ্চির মাল্টিমিডিয়া টাচস্ক্রিন। পাশাপাশি তারহীন অ্যাপল কার-প্লে ও অ্যান্ড্রয়েড অটো সুবিধা রাখা হয়েছে। ‘মাই টয়োটা’ অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকে কেবিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং চার্জিং স্ট্যাটাস পর্যবেক্ষণের সুবিধাও থাকছে।
ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে আরবান ক্রুজারে ইকো, নরমাল ও স্পোর্ট- এই তিনটি ড্রাইভ মোড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ও ওয়ান-প্যাডেল ড্রাইভিং সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। অল-হুইল-ড্রাইভ সংস্করণে বরফাচ্ছন্ন বা দুর্গম রাস্তায় চালনার জন্য অতিরিক্তভাবে ‘স্নো’ ও ‘ট্রেইল’ মোডও পাওয়া যাবে।
সব মিলিয়ে টয়োটার আরবান ক্রুজার ইউরোপের সাব-কমপ্যাক্ট বৈদ্যুতিক এসইউভি বাজারে একটি শক্ত প্রতিযোগী হিসেবে জায়গা করে নিতে প্রস্তুত। তবে ইউরোপের বাইরে থাকা গ্রাহকদের জন্য এই গাড়িটি আপাতত শুধুই অপেক্ষার বিষয় হয়ে থাকছে।
প্রযুক্তি বিশ্বের সর্বশেষ খবর জানতে নিয়মিত চোখ রাখুন দৈনিক প্রথম সংবাদ এর নিউজ পোর্টালে

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
বিশ্ববাজারে সাশ্রয়ী ও ছোট আকারের বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব যানবাহনের প্রতি আগ্রহ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ইউরোপের কঠোর পরিবেশনীতি বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারকে দ্রুত সম্প্রসারিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে জাপানি অটোমোবাইল নির্মাতা টয়োটা তাদের বৈদ্যুতিক গাড়ির বহর আরও বড় করার উদ্যোগ নিয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে টয়োটা উন্মোচন করেছে নতুন একটি বৈদ্যুতিক সাব-কমপ্যাক্ট এসইউভি, যার নাম ‘আরবান ক্রুজার’। মূলত ইউরোপের বাজারের জন্যই এই ক্রসওভারটি তৈরি করা হয়েছে। আপাতত উত্তর আমেরিকা বা এশিয়ার বাজারে গাড়িটি আনার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে টয়োটা।
ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে আরবান ক্রুজারকে টয়োটার সম্পূর্ণ নতুন ব্যাটারি ইলেকট্রিক ভেহিকল (BEV) প্ল্যাটফর্মে তৈরি করা হয়েছে। উৎপাদন খরচ কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এতে লিথিয়াম-আয়রন ফসফেট (LFP) ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপত্তা ও আয়ুর দিক থেকে বেশ কার্যকর বলে পরিচিত।
এই বৈদ্যুতিক এসইউভিটি দুটি ভিন্ন ব্যাটারি প্যাক অপশনে পাওয়া যাবে। ৪৯ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি যুক্ত সংস্করণটি এক চার্জে প্রায় ৩৪৫ কিলোমিটার পথ চলতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে, ৬১ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি প্যাকযুক্ত মডেলটি সর্বোচ্চ প্রায় ৪২৬ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দেবে। অল-হুইল-ড্রাইভ সংস্করণে এক চার্জে আনুমানিক ৩৯৫ কিলোমিটার চলার সুবিধা থাকবে।
গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখতে টয়োটা এই গাড়ির জন্য বিশেষ ‘ব্যাটারি কেয়ার প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী নিয়মিত বার্ষিক চেকআপ করালে ১০ বছর বা ১ লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমপক্ষে ৭০ শতাংশ বজায় থাকবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও আরবান ক্রুজার আধুনিক সুবিধা দিচ্ছে। ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়িটির ব্যাটারি ১০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হতে সময় নেবে আনুমানিক ৪৫ মিনিট, যা দৈনন্দিন ব্যবহার ও দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য যথেষ্ট কার্যকর।
আকারে টয়োটার bZ4X মডেলের তুলনায় ছোট হলেও আরবান ক্রুজারের অভ্যন্তরীণ কেবিন বেশ প্রশস্ত। গাড়িটির ১০৬.৩ ইঞ্চি হুইলবেস এবং পেছনের সিট স্লাইড ও ভাঁজ করার সুবিধার কারণে যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের পাশাপাশি মালামাল পরিবহনেও পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায়।
গাড়ির ভেতরে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে রয়েছে ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে এবং ১০.১ ইঞ্চির মাল্টিমিডিয়া টাচস্ক্রিন। পাশাপাশি তারহীন অ্যাপল কার-প্লে ও অ্যান্ড্রয়েড অটো সুবিধা রাখা হয়েছে। ‘মাই টয়োটা’ অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকে কেবিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং চার্জিং স্ট্যাটাস পর্যবেক্ষণের সুবিধাও থাকছে।
ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে আরবান ক্রুজারে ইকো, নরমাল ও স্পোর্ট- এই তিনটি ড্রাইভ মোড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রিজেনারেটিভ ব্রেকিং ও ওয়ান-প্যাডেল ড্রাইভিং সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। অল-হুইল-ড্রাইভ সংস্করণে বরফাচ্ছন্ন বা দুর্গম রাস্তায় চালনার জন্য অতিরিক্তভাবে ‘স্নো’ ও ‘ট্রেইল’ মোডও পাওয়া যাবে।
সব মিলিয়ে টয়োটার আরবান ক্রুজার ইউরোপের সাব-কমপ্যাক্ট বৈদ্যুতিক এসইউভি বাজারে একটি শক্ত প্রতিযোগী হিসেবে জায়গা করে নিতে প্রস্তুত। তবে ইউরোপের বাইরে থাকা গ্রাহকদের জন্য এই গাড়িটি আপাতত শুধুই অপেক্ষার বিষয় হয়ে থাকছে।
প্রযুক্তি বিশ্বের সর্বশেষ খবর জানতে নিয়মিত চোখ রাখুন দৈনিক প্রথম সংবাদ এর নিউজ পোর্টালে

আপনার মতামত লিখুন