দৈনিক প্রথম সংবাদ
আপডেট : বুধবার, ০১ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশে অ্যাপল পে ব্যবহারের উপায় | সহজ কৌশল ও গাইড

বাংলাদেশে অ্যাপল পে ব্যবহারের উপায় | সহজ কৌশল ও গাইড
বাংলাদেশে অ্যাপল পে – আন্তর্জাতিক ও ভার্চুয়াল কার্ড দিয়ে সহজ পেমেন্ট

বাংলাদেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এখন শুধু ফোনকল বা সোশ্যাল মিডিয়া নয়, মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। অনলাইন শপিং, বিল পরিশোধ কিংবা খাবার অর্ডার. সবকিছুতেই মোবাইল পেমেন্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের বিশেষ ফিচার হলো অ্যাপল পে। এটি দিয়ে খুব দ্রুত, সহজ এবং নিরাপদভাবে কেনাকাটার মূল্য পরিশোধ করা যায়। তবে প্রশ্ন হলো: বাংলাদেশে কি অ্যাপল পে ব্যবহার করা সম্ভব? যদি হয়, তাহলে কিভাবে?

অ্যাপল পে কীভাবে কাজ করে

অ্যাপল পে মূলত একটি ডিজিটাল ওয়ালেট ও মোবাইল পেমেন্ট সেবা। এটি এনএফসি প্রযুক্তি ও টোকেনাইজেশন সিস্টেম ব্যবহার করে। ফলে কার্ডের আসল তথ্য ব্যবসায়ীর কাছে যায় না, বরং একটি ইউনিক টোকেন তৈরি হয়। পেমেন্ট করার সময় ব্যবহারকারীকে ফেস আইডি বা টাচ আইডি দিয়ে ভেরিফিকেশন করতে হয়। এ কারণে লেনদেন অনেক বেশি নিরাপদ এবং ঝুঁকিমুক্ত হয়।

বাংলাদেশে অ্যাপল পে না থাকার কারণ

বাংলাদেশে এখনো অ্যাপল পে অফিসিয়ালি চালু হয়নি। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে।

প্রথমত, বাংলাদেশি ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট) অ্যাপল পে-এর সঙ্গে এখনো চুক্তি করেনি।

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ও আইনগত কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশকে অ্যাপল তাদের অফিসিয়াল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি।

বিকল্প উপায়ে অ্যাপল পে ব্যবহার

অফিসিয়ালি চালু না হলেও বাংলাদেশে কিছু কৌশল ব্যবহার করে অ্যাপল পে ব্যবহার করা সম্ভব।

বিদেশি কার্ড ব্যবহার

যদি আপনার কাছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপের কোনো ব্যাংক কার্ড থাকে, সেটি অ্যাপল ওয়ালেট -এ যোগ করে অ্যাপল পে ব্যবহার করা যায়। এরপর বাংলাদেশে থেকেও অনলাইনে সাবস্ক্রিপশন বা কন্টাক্টলেস পিওএস মেশিনে পেমেন্ট করা সম্ভব।

ভার্চুয়াল কার্ড ব্যবহার

ওয়াইজ, পেওনিয়ার, রেভোলিউট ইত্যাদি ফিনটেক সার্ভিস থেকে ভার্চুয়াল কার্ড তৈরি করে অ্যাপল ওয়ালেট -এ যোগ করা যায়। তবে এগুলো সব সময় বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য সহজলভ্য নয়।

বাংলাদেশে কোথায় ব্যবহার করা যাবে

বাংলাদেশে অ্যাপল পে মূলত তিনভাবে কাজে লাগতে পারে।

  • আন্তর্জাতিক সাবস্ক্রিপশন (যেমন নেটফ্লিক্স, আইক্লাউড, স্পোটিফাই) কেনার সময়।
  • অনলাইন শপিংয়ে আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে।
  • স্থানীয় দোকানে যেখানে এনএফসি-সাপোর্টেড পিওএস মেশিন আছে।

যেভাবে অ্যাপল পে সেটআপ করবেন

প্রথমে আপনার একটি আন্তর্জাতিক বা ভার্চুয়াল কার্ড থাকতে হবে। এরপর আইফোনে ওয়ালেট অ্যাপ খুলে “অ্যাড কার্ড” অপশনে কার্ডের তথ্য যোগ করতে হবে।

যদি কার্ড যুক্ত করার অপশন না আসে, তবে আইফোন -এর রিজিয়ন সেটিংস পরিবর্তন করে পুনরায় চেষ্টা করতে হবে। ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে অ্যাপল পে ব্যবহার করা যাবে।

পিওএস মেশিনে পেমেন্ট করার ধাপ

  1. আইফোন বা অ্যাপল ওয়াচ-এ ওয়ালেট অ্যাপে কার্ড সিলেক্ট করুন।
  2. ফেস আইডি বা টাচ আইডি দিয়ে ভেরিফাই করুন।
  3. ডিভাইসটি পিওএস মেশিনের কাছে ধরুন।
  4. সফল হলে স্ক্রিনে “সম্পন্ন হয়ে গেছে” দেখা যাবে এবং একটি সিগন্যাল শোনা যাবে।

নিরাপত্তা ও সুবিধা

অ্যাপল পে ব্যবহার করলে কার্ডের আসল তথ্য কখনো বিক্রেতার হাতে যায় না।ফোন হারিয়ে গেলে “ফাইন্ড মাই আইফোন” ব্যবহার করে কার্ড নিষ্ক্রিয় করা যায়।প্রতিটি লেনদেনের জন্য ভেরিফিকেশন থাকায় অনলাইন ফ্রডের ঝুঁকি কম থাকে।

বাংলাদেশে অ্যাপল পে এখনো অফিসিয়ালি চালু হয়নি। তবে বিদেশি ব্যাংক কার্ড বা ভার্চুয়াল কার্ডের মাধ্যমে এর সুবিধা নেওয়া সম্ভব। অনলাইনে সাবস্ক্রিপশন বা আন্তর্জাতিক শপিংয়ে এটি ব্যবহার করা যায়। ভবিষ্যতে স্থানীয় ব্যাংকগুলো চুক্তিবদ্ধ হলে বাংলাদেশেও অ্যাপল পে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

যেকোনো সংবাদ সবার আগে পেতে ভিজিট করুন দৈনিক প্রথম সংবাদ এর নিউজ পোর্টালে।

বিষয় : অ্যাপল পে বাংলাদেশে অ্যাপল পে ডিজিটাল ওয়ালেট ভার্চুয়াল কার্ড

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক প্রথম সংবাদ

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬


বাংলাদেশে অ্যাপল পে ব্যবহারের উপায় | সহজ কৌশল ও গাইড

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image

বাংলাদেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এখন শুধু ফোনকল বা সোশ্যাল মিডিয়া নয়, মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। অনলাইন শপিং, বিল পরিশোধ কিংবা খাবার অর্ডার. সবকিছুতেই মোবাইল পেমেন্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপলের বিশেষ ফিচার হলো অ্যাপল পে। এটি দিয়ে খুব দ্রুত, সহজ এবং নিরাপদভাবে কেনাকাটার মূল্য পরিশোধ করা যায়। তবে প্রশ্ন হলো: বাংলাদেশে কি অ্যাপল পে ব্যবহার করা সম্ভব? যদি হয়, তাহলে কিভাবে?

অ্যাপল পে কীভাবে কাজ করে

অ্যাপল পে মূলত একটি ডিজিটাল ওয়ালেট ও মোবাইল পেমেন্ট সেবা। এটি এনএফসি প্রযুক্তি ও টোকেনাইজেশন সিস্টেম ব্যবহার করে। ফলে কার্ডের আসল তথ্য ব্যবসায়ীর কাছে যায় না, বরং একটি ইউনিক টোকেন তৈরি হয়। পেমেন্ট করার সময় ব্যবহারকারীকে ফেস আইডি বা টাচ আইডি দিয়ে ভেরিফিকেশন করতে হয়। এ কারণে লেনদেন অনেক বেশি নিরাপদ এবং ঝুঁকিমুক্ত হয়।

বাংলাদেশে অ্যাপল পে না থাকার কারণ

বাংলাদেশে এখনো অ্যাপল পে অফিসিয়ালি চালু হয়নি। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে।

প্রথমত, বাংলাদেশি ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট) অ্যাপল পে-এর সঙ্গে এখনো চুক্তি করেনি।

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ও আইনগত কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশকে অ্যাপল তাদের অফিসিয়াল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি।

[39]

বিকল্প উপায়ে অ্যাপল পে ব্যবহার

অফিসিয়ালি চালু না হলেও বাংলাদেশে কিছু কৌশল ব্যবহার করে অ্যাপল পে ব্যবহার করা সম্ভব।

বিদেশি কার্ড ব্যবহার

যদি আপনার কাছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপের কোনো ব্যাংক কার্ড থাকে, সেটি অ্যাপল ওয়ালেট -এ যোগ করে অ্যাপল পে ব্যবহার করা যায়। এরপর বাংলাদেশে থেকেও অনলাইনে সাবস্ক্রিপশন বা কন্টাক্টলেস পিওএস মেশিনে পেমেন্ট করা সম্ভব।

ভার্চুয়াল কার্ড ব্যবহার

ওয়াইজ, পেওনিয়ার, রেভোলিউট ইত্যাদি ফিনটেক সার্ভিস থেকে ভার্চুয়াল কার্ড তৈরি করে অ্যাপল ওয়ালেট -এ যোগ করা যায়। তবে এগুলো সব সময় বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য সহজলভ্য নয়।

বাংলাদেশে কোথায় ব্যবহার করা যাবে

বাংলাদেশে অ্যাপল পে মূলত তিনভাবে কাজে লাগতে পারে।

  • আন্তর্জাতিক সাবস্ক্রিপশন (যেমন নেটফ্লিক্স, আইক্লাউড, স্পোটিফাই) কেনার সময়।
  • অনলাইন শপিংয়ে আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে।
  • স্থানীয় দোকানে যেখানে এনএফসি-সাপোর্টেড পিওএস মেশিন আছে।

যেভাবে অ্যাপল পে সেটআপ করবেন

প্রথমে আপনার একটি আন্তর্জাতিক বা ভার্চুয়াল কার্ড থাকতে হবে। এরপর আইফোনে ওয়ালেট অ্যাপ খুলে “অ্যাড কার্ড” অপশনে কার্ডের তথ্য যোগ করতে হবে।

যদি কার্ড যুক্ত করার অপশন না আসে, তবে আইফোন -এর রিজিয়ন সেটিংস পরিবর্তন করে পুনরায় চেষ্টা করতে হবে। ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে অ্যাপল পে ব্যবহার করা যাবে।

পিওএস মেশিনে পেমেন্ট করার ধাপ

  1. আইফোন বা অ্যাপল ওয়াচ-এ ওয়ালেট অ্যাপে কার্ড সিলেক্ট করুন।
  2. ফেস আইডি বা টাচ আইডি দিয়ে ভেরিফাই করুন।
  3. ডিভাইসটি পিওএস মেশিনের কাছে ধরুন।
  4. সফল হলে স্ক্রিনে “সম্পন্ন হয়ে গেছে” দেখা যাবে এবং একটি সিগন্যাল শোনা যাবে।

নিরাপত্তা ও সুবিধা

অ্যাপল পে ব্যবহার করলে কার্ডের আসল তথ্য কখনো বিক্রেতার হাতে যায় না।ফোন হারিয়ে গেলে “ফাইন্ড মাই আইফোন” ব্যবহার করে কার্ড নিষ্ক্রিয় করা যায়।প্রতিটি লেনদেনের জন্য ভেরিফিকেশন থাকায় অনলাইন ফ্রডের ঝুঁকি কম থাকে।

বাংলাদেশে অ্যাপল পে এখনো অফিসিয়ালি চালু হয়নি। তবে বিদেশি ব্যাংক কার্ড বা ভার্চুয়াল কার্ডের মাধ্যমে এর সুবিধা নেওয়া সম্ভব। অনলাইনে সাবস্ক্রিপশন বা আন্তর্জাতিক শপিংয়ে এটি ব্যবহার করা যায়। ভবিষ্যতে স্থানীয় ব্যাংকগুলো চুক্তিবদ্ধ হলে বাংলাদেশেও অ্যাপল পে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

যেকোনো সংবাদ সবার আগে পেতে ভিজিট করুন দৈনিক প্রথম সংবাদ এর নিউজ পোর্টালে।


দৈনিক প্রথম সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈম মাহমুদ
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক প্রথম সংবাদ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

শিরোনাম

দৈনিক প্রথম সংবাদ স্বাধীনবাংলা সাহিত্য পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় কমিটি ২০২৬ গঠিত দৈনিক প্রথম সংবাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ দৈনিক প্রথম সংবাদ স্বপ্নের স্কলারশিপে অস্ট্রেলিয়া, সব খরচ দেবে মোনাশ দৈনিক প্রথম সংবাদ বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ Bangladesh Bank Job Circular 2026 দৈনিক প্রথম সংবাদ রাণীশংকৈলে ষড়জ শিল্পী গোষ্ঠীর উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ দৈনিক প্রথম সংবাদ গাইবান্ধায় পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল দৈনিক প্রথম সংবাদ নীলফামারী সিভিল সার্জনের কার্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ CS Nilphamari Job Circular 2026 দৈনিক প্রথম সংবাদ নতুন বছর ২০২৬: সুখী ও সুস্থ থাকতে ৮টি কার্যকর জীবনশৈলী পরিবর্তন দৈনিক প্রথম সংবাদ ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ FRC Job Circular 2026 দৈনিক প্রথম সংবাদ ভারতে চীনা সন্দেহে ছাত্র হত্যা: উত্তরাখণ্ডে তীব্র ক্ষোভ