সনি হত্যা মামলার আসামি টগর গ্রেফতার: র্যাবের বিস্ময়কর তথ্য
বাংলাদেশের
আলোচিত বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুশফিক
উদ্দীন টগর ফের আলোচনায়। দীর্ঘ কারাভোগ শেষে মুক্তি পেলেও তিনি স্বাভাবিক জীবনে
ফিরতে ব্যর্থ হন। বরং আবারো অস্ত্র ব্যবসার মতো ভয়াবহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে
পড়েছেন বলে জানিয়েছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকালে ঢাকার
আজিমপুর এলাকায় র্যাব-৩ এর একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।গ্রেফতারের সময়
কী পাওয়া গেল?র্যাব জানিয়েছে, টগর
নিয়মিত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করতেন এবং রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধী
গোষ্ঠীর কাছে তা সরবরাহ করতেন। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়—
একটি ৩২ এমএম রিভলভারএকটি ম্যাগাজিনকাঠের পিস্তলের একটি গ্রিপ১৫৫ রাউন্ড .২২ ক্যালিবার
রাইফেলের গুলিএকটি ৭.৬২ মিমি মিসফায়ার
গুলিশর্টগানের একটি খালি কার্তুজদুটি মুখোশদুটি মোবাইল ফোন
এমন বিপুল
পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার আবারও প্রশ্ন তুলেছে—মুক্তির পর টগর কিভাবে এত বড় অস্ত্র
চক্রে যুক্ত হতে পারলেন?র্যাবের
বক্তব্যর্যাব-৩ এর
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন—
“আমরা প্রথমে শুধু অস্ত্র উদ্ধারের সূত্রে অভিযান পরিচালনা করি। কিন্তু গ্রেফতারের
পর জানতে পারি তিনি বুয়েট শিক্ষার্থী সনি হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সেই সূত্র ধরে
আরও অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।”তিনি আরও জানান,
টগরের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় একটি অস্ত্র মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি
মুগদা থানায় তার নামে একটি মাদক মামলাও রয়েছে। আদালতে তাকে শিগগিরই হাজির করা হবে।সনি হত্যা মামলার পটভূমি২০০২ সালের ৮
জুন বুয়েটে দরপত্র নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে কেমিক্যাল
ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বুয়েট ছাত্রদল সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি, ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের টগর গ্রুপের প্রধান টগর এবং নুরুল ইসলাম সাগরকে বিচারিক
আদালত মৃত্যুদণ্ড দেন।পরে ২০০৬ সালে
হাইকোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ মামলায় আরও
দুই আসামি এসএম মাসুম
বিল্লাহ ও মাসুম খালাস পান। মুকি পালিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ায়, সাগর এখনো পলাতক। টগর
দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২০২০ সালের ২০ আগস্ট কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান।মুক্তির পর
আবারো অপরাধে ফেরাকারাগার থেকে
মুক্তি পাওয়ার পর টগর কিছুদিন স্বাভাবিক জীবনে কাটালেও পরবর্তীতে আবারো অপরাধ জগতে
জড়িয়ে পড়েন। র্যাবের দাবি, তিনি নিয়মিতভাবে অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং
এর সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী যুক্ত আছেন। ইতোমধ্যে তার মোবাইল থেকে পাওয়া কিছু
গুরুত্বপূর্ণ নম্বর নিয়ে তদন্ত চলছে।র্যাবের
কর্মকর্তারা মনে করছেন, টগরের কাছে এখনো বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের তথ্য রয়েছে। তিনি
যাদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর চ্যালেঞ্জবাংলাদেশে
অপরাধী চক্রগুলো প্রায়ই মুক্তির পর পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর
পেছনে অন্যতম কারণ হলো অপরাধীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকা এবং অপরাধী চক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। টগরের ঘটনা আবারও প্রমাণ
করল—সাজার পর মুক্তি পেলেই কেউ অপরাধমুক্ত হয়ে যায় না। সঠিক পর্যবেক্ষণ ও
পুনর্বাসন না থাকলে তারা আবার অপরাধ জগতে ফিরে যায়।
টগরের গ্রেফতার
আবারও আলোচনায় এনেছে ২০০২ সালের আলোচিত সনি হত্যা মামলা। মুক্তির পর তিনি সমাজে
ফেরার সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাননি। বরং আবারও অস্ত্র বাণিজ্যে জড়িয়ে সমাজ ও
রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছেন। এখন দেখার বিষয়, র্যাবের হাতে পাওয়া তথ্য থেকে
আরও কতটা বড় অস্ত্র চক্র উন্মোচিত হয়।