এস আলম গ্রুপ ও তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ ১৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারিতে আদালতের নির্দেশ
বাংলাদেশের বহুল আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। আদালত এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান এস আলম ও তার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই একই মামলায় আদালত এস আলম সুপার এডিবল অয়েলের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে তাদের ১৩ হাজার ৩১৭ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি প্রমাণিত হওয়ার প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ও শেয়ার হস্তান্তর বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল।ঋণ কেলেঙ্কারি ও প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসএস আলম সুপার এডিবল অয়েল, এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানির পর তা পরিশোধন করে বাজারজাত করত। ২০০৬ সাল থেকে কোম্পানিটি ইসলামী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে নিয়মিত ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে আসছিল।তবে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ঋণের পরিমাণ ফুলে–ফেঁপে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৩০ হাজার ৮১৩ টাকা। এই বিপুল ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে ব্যাংকের কাছে রয়েছে গ্রুপটির ৭২৬ শতক সম্পত্তি, কারখানা ও মেশিনারি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য মাত্র ২০০ কোটি টাকা।আদালতের ভূমিকা ও দুদকের আবেদনদুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) ইতোমধ্যে এস আলম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। বিশাল অঙ্কের ঋণ খেলাপির কারণে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুদক আদালতে আবেদন করে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির নির্দেশ চায়। আদালত এ আবেদনের ভিত্তিতেই এস আলম ও তার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন।রেড নোটিশ মানে কী?রেড নোটিশ মূলত ইন্টারপোলের একটি আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা, যা কোনো অভিযুক্তকে বিশ্বের যেকোনো দেশে শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য জারি করা হয়। আদালতের এই নির্দেশ কার্যকর হলে এস আলম ও তার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সক্রিয় হবে।কেন আলোচনায় এস আলম গ্রুপ?বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এস আলম গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত। তবে ব্যাংকিং খাতে প্রভাব খাটিয়ে অতিরিক্ত ঋণ সুবিধা গ্রহণ, অনিয়মিত ঋণ পরিশোধ এবং সম্পদের মূল্যায়নে জালিয়াতি—এসব অভিযোগে তারা আলোচনায় আসে।দুদক ও আদালতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ প্রমাণ করছে, অতিদ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।সারসংক্ষেপ
এস আলম ও তার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মামলাটি ১৩ হাজার ৩১৭ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত।
এস আলম সুপার এডিবল অয়েল ইসলামী ব্যাংক থেকে এই ঋণ নেয়।
জামানত হিসেবে মাত্র ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ব্যাংকের কাছে রয়েছে।
রেড নোটিশ জারি হলে অভিযুক্তদের আন্তর্জাতিকভাবে গ্রেপ্তার করার প্রক্রিয়া সহজ হবে।