I Love Muhammad Protest: Uttar Pradesh ও অন্যান্য রাজ্যে
ভারতের উত্তর প্রদেশের
কানপুরে বারাওয়াফত (ঈদে মিলাদুন্নবী) উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলে “আই লাভ মুহাম্মদ”
লেখা একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া স্থানীয় বিরোধ এখন সারা দেশে
উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র ও তেলেঙ্গানা সহ
একাধিক রাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মিছিল, বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং
এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতি, মত প্রকাশের
স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার সূচনা হয়েছে।
কিভাবে শুরু হলো বিতর্ক?৪ সেপ্টেম্বর কানপুরের
রাওয়াতপুর এলাকায় বারাওয়াফত মিছিলে একদল যুবক “আই লাভ মুহাম্মদ” লেখা একটি
ব্যানার টাঙায়। স্থানীয় হিন্দু গোষ্ঠীগুলি দাবি করে, এটি একটি নতুন প্রথা চালু
করার প্রচেষ্টা, যা আগে কখনো বারাওয়াফত মিছিলে দেখা যায়নি। পুলিশ দ্রুত
হস্তক্ষেপ করে ঐতিহ্যবাহী সজ্জা পুনঃস্থাপন করলেও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি
হয়।৯ সেপ্টেম্বর কানপুর পুলিশ
২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, যাদের মধ্যে ৯ জনের নাম উল্লেখ ছিল এবং ১৫ জন
ছিল অজ্ঞাত। অভিযোগে বলা হয়, ঐতিহ্যবাহী তাঁবু সরিয়ে নতুন ব্যানার বসানো হয়েছে
এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও ডিসিপি দীনেশ
ত্রিপাঠী জানান, ব্যানার টাঙানো নিয়ে সরাসরি কোনো মামলা হয়নি।
AIMIM প্রধান ওয়াইসির মন্তব্যে বিতর্ক আরও উত্তপ্ত১৫ সেপ্টেম্বর অল ইন্ডিয়া
মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) সভাপতি আসাদুদ্দিন ওয়াইসি সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “আমি মুহাম্মদকে ভালোবাসি বলা কোনো অপরাধ নয়।” তিনি কানপুর
পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর
বিতর্ক আরও বিস্তৃত হয় এবং অন্যান্য রাজ্যেও প্রতিবাদ শুরু হয়।
উত্তর প্রদেশে বিক্ষোভ ও পুলিশের ব্যবস্থা
উন্নাও: যুবকদের মিছিল
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীরা পাথর ছোঁড়ে। এ
ঘটনায় ৮টি এফআইআর দায়ের হয় এবং ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহারাজগঞ্জ: পরিকল্পিত মিছিল
পুলিশ আটকে দেয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারায় ৬৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
হয়, যার মধ্যে ৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
কৌশাম্বী: ভাইরাল ভিডিওতে কিছু
যুবককে আপত্তিকর স্লোগান দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে হিন্দু
গোষ্ঠীগুলির মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পুলিশ নাবালকসহ ডজনখানেককে আটক করে।
লখনউ: বিধান ভবনের সামনে
মুসলিম নারীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেন। সমাজকর্মী সুমাইয়া রানা বলেন,
“এটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, কাউকে ভয় দেখানোর জন্য এফআইআর ব্যবহার করা
উচিত নয়।”
অন্যান্য রাজ্যে বিক্ষোভের বিস্তার
কাশীপুর
(উত্তরাখণ্ড):
আলি খান এলাকায় অনুমতি ছাড়া মিছিল হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। জনতা
পাথর নিক্ষেপ করে এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করে। দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নাগপুর
(মহারাষ্ট্র):
কংগ্রেসের সংখ্যালঘু বিভাগের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয়। অংশগ্রহণকারীরা নবী
মুহাম্মদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং ধর্মীয় মত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবি
জানান।
২৩ সেপ্টেম্বরের আপডেট
ভিডিও
ও হুমকি বিতর্ক:
কানপুরে “আই লাভ মুহাম্মদ” পোস্টার অপসারণকে কেন্দ্র করে ইত্তেহাদ-ই-মিল্লাত
কাউন্সিলের নেতা নাফিস একটি ভিডিওতে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে হুমকির মতো
বক্তব্য দেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট দায়ের
করেছে।
ক্যাম্পেইনের
বিস্তার:
শুধু কানপুর নয়, এখন উত্তর প্রদেশের অন্যান্য শহরসহ মহারাষ্ট্র ও
উত্তরাখণ্ডেও “আই লাভ মুহাম্মদ” পোস্টার লাগানো শুরু হয়েছে। বারেলির জামা
মসজিদের ইমাম মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বাড়ির দরজায় এই পোস্টার
লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাব: #ILoveMuhammad হ্যাশট্যাগ টুইটার (এক্স) ও ফেসবুকে
ট্রেন্ড করছে। সমর্থকরা বলছে, এটি ভালোবাসা ও ধর্মীয় শ্রদ্ধার প্রকাশ, আর
বিরোধীরা এটিকে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চেষ্টা হিসেবে দেখছে।রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া
সমাজবাদী
পার্টি (এসপি):
মুখপাত্ররা বলেন, বাকস্বাধীনতা সবার জন্য সমান। “আই লাভ রাম” বলা যেমন বৈধ,
“আই লাভ মুহাম্মদ” বলাও তেমনই সাংবিধানিক অধিকার।
বিজেপি: দলটির মুখপাত্ররা
সতর্ক করে বলেন, আইন ভঙ্গ বা পুলিশকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে কঠোর ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।
ধর্মীয়
নেতারা:
জামাত রাজা-ই-মুস্তফা ও ওয়ার্ল্ড সুফি ফোরামের নেতারা সহিংসতার নিন্দা করেছেন
এবং শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশের অবস্থান
কানপুর পুলিশ বারবার স্পষ্ট
করেছে যে ব্যানার টাঙানো নিয়ে কোনো এফআইআর হয়নি। বরং মামলা করা হয়েছে নতুন
প্রথা চালু করা, ঐতিহ্যবাহী সজ্জা সরানো এবং পোস্টার ক্ষতির অভিযোগে। কর্তৃপক্ষ
জনগণকে ভুল তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
তলদেশকানপুরে একটি ব্যানার নিয়ে
শুরু হওয়া স্থানীয় বিরোধ এখন ভারতজুড়ে উত্তপ্ত বিতর্কে পরিণত হয়েছে। একদিকে
মানুষ নবী মুহাম্মদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে তুলে
ধরছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিরোধী গোষ্ঠীগুলি নতুন প্রথা চালুর বিরোধিতা
করছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি জেলায় গ্রেপ্তার ও মামলা হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর
পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে—ভিডিও, হুমকি ও সোশ্যাল মিডিয়া
ট্রেন্ড যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সরকার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করেছে যাতে উত্তেজনা আরও না
বাড়ে।