উমামা ফাতেমা: ডাকসু নির্বাচন ২০২৫ বিতর্কের খবর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র
সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। বিশেষ করে স্বতন্ত্র সহ-সভাপতি প্রার্থী
উমামা ফাতেমা বারবার অভিযোগ করছেন যে, নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে এবং প্রশাসন এসব অভিযোগ
আমলে নিচ্ছে না। নীলক্ষেত বাজারে ব্যালট পেপার পাওয়া এবং ভোটার তালিকা গোপন রাখার
মতো ঘটনাগুলো নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।নীলক্ষেতে ব্যালট পেপার
নিয়ে প্রশ্ননির্বাচনের আগে ৭ সেপ্টেম্বর নীলক্ষেতের
গাউসুল আজম মার্কেটে বিপুল পরিমাণ ডাকসু ও হল সংসদের ব্যালট পেপার অরক্ষিত অবস্থায়
পাওয়া যায়। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা ক্ষোভ
প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, এত বড় একটি অনিয়মের ব্যাখ্যা আজও দেওয়া হয়নি।উমামা ফাতেমা বলেন—“গাউসুল আজম মার্কেটে পাওয়া ব্যালট পেপারের
ব্যাখ্যা আজও দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের দিন দেখানো ভোটারের সংখ্যা আমাদের মাঠের বিশ্লেষণের
সঙ্গে মেলেনি। আমরা উপস্থিতি তালিকা চেয়েছিলাম, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গোপনীয়তার
অজুহাতে তা দেয়নি।”তিনি আরও যোগ করেন, “১৫ দিনের বেশি সময়
পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে। এটা
আমাদের কাছে অত্যন্ত হতাশাজনক।”উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকসম্প্রতি উমামা ফাতেমা সহ জেসিডি-সমর্থিত
প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আবদুল কাদের, নাঈম হাসান হৃদয়
এবং আরাফাত চৌধুরী উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তাঁরা
অনিয়মের বিষয়গুলো তুলে ধরলেও উপাচার্য ও প্রক্টর জানান, ভোটার তালিকা প্রকাশের কোনো
সুযোগ নেই।এ প্রসঙ্গে উমামা সাংবাদিকদের বলেন—“উপাচার্য বারবার বলছিলেন যে, ভোটার তালিকা
প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা মনে করি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এটা জরুরি। প্রশাসনের
এই গোপনীয়তা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।”আবিদুল ইসলামের মন্তব্যপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম বলেন—“এটা প্রমাণিত হয়েছে যে নীলক্ষেতে ব্যালট
পেপার ছাপানো হয়েছিল। প্রশাসনের দায়িত্ব হলো এখন তদন্ত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের
কাছে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ করা। সিসিটিভি ফুটেজ সহজেই পাওয়া যায়, তাহলে কেন লুকানো
হচ্ছে?”তিনি মনে করেন, এই ধরনের ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে
যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।ভোটার তালিকা প্রকাশে
বিলম্বপ্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকা
প্রকাশে বিলম্ব ইচ্ছাকৃত। উমামা ফাতেমা বলেন—“ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে আমাদের সন্দেহ
আরও গভীর হচ্ছে। প্রশাসনের অজুহাত আমাদের প্রশ্নের জবাব দেয় না। বরং মনে হচ্ছে তাঁরা
কিছু আড়াল করার চেষ্টা করছেন।”বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের
ব্যাখ্যাতবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক প্রেস
বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে
এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গ্রহণ ও গণনার সময়
কোনো অসামঞ্জস্য ঘটেনি। ভোটার তালিকা গোপন রাখার বিষয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা, এটি অত্যন্ত
সংবেদনশীল নথি, যা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “সিসিটিভি
ফুটেজ পাবলিক ডকুমেন্ট নয়। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে
দেখানো হতে পারে। তবে অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এটি দেখানো যাবে না।”নির্বাচনের ফলাফলগত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে
শিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ জোট ২৮টির মধ্যে ২৩টি পদে বিজয়ী হয়। আবু সাদিক কায়েম সহ-সভাপতি,
এসএম ফরহাদ সাধারণ সম্পাদক এবং মহিউদ্দিন খান সহকারী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।উমামা ফাতেমার দৃঢ়
অবস্থানবিতর্কিত ফলাফল এবং প্রশাসনের নীরবতায়
উমামা ফাতেমা বারবার সরব হচ্ছেন। তিনি মনে করেন, এই নির্বাচন ছাত্রসমাজের গণতান্ত্রিক
চর্চাকে দুর্বল করেছে।তিনি বলেন—“আমরা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে
যাব। শুধু প্রার্থী হিসেবে নয়, একজন শিক্ষার্থী হিসেবেও আমি চাই সত্য প্রকাশ হোক।
স্বচ্ছতা ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”বিশ্লেষণরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উমামা ফাতেমা
ডাকসু নির্বাচনের পর সবচেয়ে আলোচিত ছাত্রনেত্রী হিসেবে উঠে এসেছেন। তিনি সরাসরি প্রশাসনকে
চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং অনিয়মের প্রমাণ সামনে এনেছেন। এতে তিনি তরুণ ভোটারদের আস্থার
জায়গা তৈরি করেছেন।তবে প্রশাসনের দাবি, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে
সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় হলো,
বিশ্ববিদ্যালয় কতটা স্বচ্ছভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়।
ডাকসু নির্বাচন-২০২৫ কে ঘিরে যত বিতর্কই
হোক, একটি নাম বারবার সামনে আসছে—উমামা ফাতেমা। তিনি শুধু প্রার্থী নন, বরং স্বচ্ছতা
ও জবাবদিহিতার দাবিতে সোচ্চার কণ্ঠ। প্রশাসন যদি যথাসময়ে সঠিক ব্যাখ্যা না দেয়, তাহলে
ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির বড় একটি পরিবর্তনের প্রতীকী চরিত্র হিসেবে তাঁকেই
দেখা হতে পারে।