জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, এই তিন দলের সমন্বয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক জোট আজ আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। দুই সপ্তাহের টানা আলোচনা–বৈঠকের পর অবশেষে জোটটি আলোর মুখ দেখতে চলেছে। তবে আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত এই জোটে থাকছে না গণ অধিকার পরিষদ।আজ রোববার বিকেল চারটায় রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই রাজনৈতিক জোটের ঘোষণা দেওয়া হবে। দলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই মাসের আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক অঙ্গীকার রক্ষা এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ঐক্য গড়ে উঠছে।দুপুরে এনসিপি–র মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন নিশ্চিত করেন, বিকাল চারটায় ডিআরইউতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। একই তথ্য দিয়েছে এবি পার্টির একটি সূত্রও। তাদের ভাষ্য-ঘোষণা অনুষ্ঠানে কয়েকটি সহযোগী সংগঠন থেকেও প্রতিনিধি থাকতে পারে।এর আগে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি বিকল্প নির্বাচনী জোট তৈরির লক্ষ্যে এনসিপি, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও গণ অধিকার পরিষদ, এই চার দল আলোচনা চালিয়েছিল প্রায় দুই সপ্তাহ। এমনকি ২৭ নভেম্বর শাহবাগের এক কনভেনশন সেন্টারে জোট ঘোষণার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আপ বাংলাদেশকে যুক্ত করা এবং জোটের লক্ষ্য–উদ্দেশ্য নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই বৈঠক ফলশূন্যভাবে শেষ হয়।বিশেষ করে এনসিপির নেতারা আপ বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রশ্নে তীব্র আপত্তি তোলেন। অন্যদিকে গণ অধিকার পরিষদের ভেতরেও এই জোটে যোগ নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়। আজ দুপুরে সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানান, জোটের উদ্দেশ্য, সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায় তারা এই জোটে থাকছে না। তার ভাষায়, “অন্ধকারে ঝাঁপ দেওয়া সম্ভব নয়।”বর্তমানে যে জোটটি ঘোষিত হতে যাচ্ছে, সেখানে গণ অধিকার পরিষদ ও আপ বাংলাদেশ থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুও গণমাধ্যমকে বলেছেন-“জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার রক্ষা ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বিনির্মাণে আগ্রহীদের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ঐক্য আজ দেশের সামনে ঘোষণা করা হবে।”তিনি আরও জানান, ইভেন্টে এনসিপি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও এবি পার্টিসহ কয়েকটি দলের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। অন্য কোন দল যুক্ত হচ্ছে কি না-এ বিষয়ে তিনি এখনই বিস্তারিত জানাতে চাননি।সবশেষে, তিন দলের সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন রাজনৈতিক জোটের ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এনসিপি–র সক্রিয় ভূমিকা এবং এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের উপস্থিতি- আগামী নির্বাচনকে ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।[1195]