কেওক্রাডং পাহাড় পর্যটন খুলে পর্যটকের মুখে হাসি
মেঘে ঢাকা কেওক্রাডং পাহাড় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,১৭২ ফুট উঁচু। এখানে সারাবছরই মেঘের খেলা চলে, যা পাহাড়ের সৌন্দর্যকে আরও চমকপ্রদ করে তোলে। পাহাড়ের ওপরে দিয়ে গেছে রুমা-বগা লেক-ধুপানিছড়া সড়ক, যা দেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ি সড়ক হিসেবে পরিচিত। পথের উঁচু ঢাল, খাদের দিকে নেমে যাওয়া এবং ঘন সবুজ বন পর্যটকদের দৃষ্টিকে মুগ্ধ করছে।পর্যটন নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় কেওক্রাডং পাহাড় এবং বগা লেকে পর্যটকরা আবার আগমন শুরু করেছেন। রুমা থানার পুলিশ তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র বুধবার ও বৃহস্পতিবারই আড়াই হাজারের বেশি পর্যটক পাহাড়ে পাড়ি দিয়েছেন। মৌসুম শুরু হলে প্রতিদিন হাজারের বেশি পর্যটক কেওক্রাডং পাহাড়ে ভ্রমণে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মুখে হাসিপর্যটক আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বগা লেক ও কেওক্রাডংয়ের পর্যটনশিল্পও পুনরায় গতি পেয়েছে। কটেজ, রিসোর্ট, খাবারের দোকান এবং স্থানীয় হস্তশিল্পের বাজারে জমজমাট অবস্থা দেখা যাচ্ছে।লালা বম ও লালকিম বমের অবকাশযাপন কেন্দ্রগুলো ইতিমধ্যেই ১–১১ অক্টোবর পর্যন্ত আগাম বুক হয়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আমং বম বলেন, “পর্যটনের ওপর নির্ভর করেই বগা লেক পাড়া গড়ে উঠেছে। তিন বছরের ক্ষতি পূরণ করতে সময় লাগবে, কিন্তু পর্যটক আসার সঙ্গে সঙ্গে আশা জেগেছে।”রিসোর্টের পুরনো জিনিসপত্রের পরিবর্তন করতে অনেক ধারের ওপর ধারা নিতে হয়েছে। তবে পর্যটকরা আসতে থাকলে কয়েক মাসের মধ্যে পুরো পর্যটন খাত পুনরায় স্বাভাবিক হবে।বান্দরবানের রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পাহাড়।পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন পর্যটকরাবৃষ্টি ও মেঘের ছোঁয়ায় পাহাড়ের সৌন্দর্য আরও মনোরম হয়ে উঠেছে। খুলনা, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে তরুণ-তরুণীরা পাহাড়ের সবুজ বন, বৈচিত্র্যময় প্রাণ-প্রকৃতি দেখার জন্য আসছেন। একজন পর্যটক বলেন, “পাহাড়ের সৌন্দর্য অতুলনীয়, তাই এত দূর পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি।”পর্যটকরা মূলত পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং বগা লেকের সঙ্গে মিলিত প্রকৃতি উপভোগ করতে আসছেন। এমনকি হালকা বৃষ্টি বা মেঘ আসা-যাওয়া তাদের ভ্রমণে কোনো বাধা সৃষ্টি করছে না। নিরাপত্তা ও নিয়মনীতিরুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহরাওয়ার্দী জানান, কেওক্রাডং পাহাড়ে পর্যটন নিরাপত্তা সম্পূর্ণরূপে রয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী সব সময় তৎপর।পর্যটকদের জন্য প্রধান নিয়মাবলী:প্রশাসন পরিচালিত পর্যটন সেবা কেন্দ্রে নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর দিয়ে তালিকাভুক্ত হওয়াপ্রশাসনের অনুমোদিত গাইড সঙ্গে নেওয়ানির্দিষ্ট এলাকায় থাকা এবং অনুমোদিত এলাকা থেকে বাইরে না যাওয়াঅবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখাএই নিয়মগুলো মানলে পর্যটন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হবে। কেওক্রাডং ও বগা লেক পর্যটনের ভবিষ্যৎপর্যটক আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বগা লেক এবং কেওক্রাডং পাহাড়ে পর্যটন পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ফলে তিন বছরের ক্ষতি পূরণ হবে এবং পর্যটন খাত নতুনভাবে গতি পাবে।এছাড়া, পর্যটকের আগমনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হোমস্টে চালু হতে শুরু করেছে। কটেজ, রিসোর্ট, খাবারের দোকান এবং হস্তশিল্প বিক্রির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।[379]ভ্রমণপ্রিয়দের জন্য এটি নতুন অভিজ্ঞতার সূচনা। পাহাড়ের সবুজ বন, খাদের ঢাল, নদী-নালা, বৃষ্টির ছোঁয়া এবং মেঘের খেলা—সব মিলিয়ে কেওক্রাডং পর্যটনের এক অনন্য গন্তব্য হয়ে উঠেছে।