সর্বমিত্র চাকমা ও উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিতর্কে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় দুই সপ্তাহ ধরে চলছে উচ্ছেদ অভিযান। নেতৃত্বে রয়েছেন ডাকসুর সদস্য ও ছাত্রশিবিরপন্থী নেতা সর্বমিত্র চাকমা। অবৈধ দোকান, ভবঘুরে ও নেশাগ্রস্তদের সরানোর এই উদ্যোগ শুরুতে প্রশংসা পেলেও এখন সেটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।অভিযানে মারধর, হেনস্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই সর্বমিত্র আলোচনার কেন্দ্রে। ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি লাঠি হাতে এক বৃদ্ধকে শাসাচ্ছেন। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মানবিকতার প্রশ্ন তুলেছেন, কেউবা তাঁর এখতিয়ার নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
নেতৃত্বের পালাবদল ও বিতর্কের সূত্রপাতশুরুতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুয়ায়েরকে অভিযানের নেতৃত্বে দেখা গেলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সক্রিয় হন সর্বমিত্র চাকমা। জুয়ায়ের পিছু হটতেই দায়িত্ব নেন সর্বমিত্র, এবং তিনিই হয়ে ওঠেন পুরো অভিযানের মুখ্য ব্যক্তিত্ব।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরপন্থী প্যানেল বিপুল বিজয় অর্জন করে। সর্বমিত্র চাকমা তখন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর নির্বাচনী এলাকা জগন্নাথ হল। দলীয় সহকর্মীদের ভাষায়, সর্বমিত্র “কঠোর শৃঙ্খলার পক্ষে” তবে সমালোচকদের মতে, তাঁর পদক্ষেপগুলো “অতিরিক্ত আগ্রাসী”।
উচ্ছেদ কমিটি ও এখতিয়ারের প্রশ্নউচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য ২৩ অক্টোবর নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ডিএসসিসি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ছিলেন। কিন্তু সর্বমিত্র চাকমার নাম কমিটিতে ছিল না। ৩০ অক্টোবর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি নিজ উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে যান, যা এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলে।প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, “ডাকসু সদস্যরা মূল টিম হিসেবে নয়, সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। আমরা সেটিই বলেছি।” তবে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ তুলছেন, সর্বমিত্র প্রশাসনের ভূমিকা ছাড়িয়ে গিয়ে “ছাত্র প্রশাসক” হয়ে উঠেছেন।
সর্বমিত্রের বক্তব্যসমালোচনার জবাবে সর্বমিত্র চাকমা বলেছেন, “ভয়ভীতি না দেখালে এই লোকগুলোকে সরানো যায় না। সম্প্রতি নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে।”তিনি দাবি করেন, ভাইরাল ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে ধারণ করা হয়েছে এবং ওই বৃদ্ধের বস্তায় মাদক ছিল। “আমি লাঠি দিয়ে মানুষকে মারিনি, শুধু বস্তায় কয়েকটি বাড়ি দিয়েছি,” বলেন তিনি।তবে মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক মনে করেন, উচ্ছেদ অভিযানেও মানবিক আচরণ বজায় রাখা উচিত। ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিরাপদ রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেটি আইনসঙ্গত ও সহানুভূতিশীল উপায়ে করতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিবুধবার বিকেলে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রিকশা প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে হেঁটে যেতে হচ্ছে। এমনকি আপ বাংলাদেশের সদস্য সচিব হিযবুল্লাহও ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন।এদিকে সর্বমিত্র মাঠে না থাকার ঘোষণা দিলেও, তাঁর সহকর্মী ডাকসু সদস্য মিফতাহুল মারুফ জানিয়েছেন, তিনি এখন প্রক্টরিয়াল টিমের সঙ্গে মাঠে থাকবেন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে সর্বমিত্রঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছেদ অভিযান এখন আর প্রশাসনিক ইস্যু নয়, এটি ছাত্ররাজনীতির ক্ষমতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। সর্বমিত্র চাকমার কঠোর নেতৃত্ব এবং সেটি ঘিরে বিতর্ক আগামী দিনেও আলোচনার কেন্দ্রেই থাকবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।[916]