সূরা আদ দুহা বাংলা উচ্চারণ অর্থ ও ফজিলত
কোরআনুল কারিমের ৯৩তম সূরা হলো সূরা আদ-দুহা। মক্কায় অবতীর্ণ এই সূরায় রয়েছে ১১টি আয়াত। এটি মূলত এমন একটি সময়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সান্ত্বনা দিতে নাজিল হয়েছিল, যখন তিনি মানসিক কষ্টে ভুগছিলেন। এই সূরাটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রতি ভরসা, আশা এবং ভবিষ্যতের উন্নতির এক সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে।১. সূরা আদ-দুহার পরিচিতি ও অবতরণের কারণসূরা আদ-দুহা শুধুমাত্র একটি উপদেশ নয়, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক আশ্বাস ও অনুপ্রেরণার উৎস।অবতরণের প্রেক্ষাপটসহিহ বুখারি শরীফের হাদিস থেকে জানা যায়, একসময় রাসূলুল্লাহ (সা.) কিছুদিন অসুস্থতার কারণে তাহাজ্জুদ বা অন্য সালাত আদায় করতে বের হতে পারেননি। তখন এক বিদ্বেষী মহিলা ব্যঙ্গ করে বলেছিল: "মুহাম্মাদ, আমি তো দেখছি তোমার শয়তান তোমাকে ত্যাগ করেছে।"নবীজির এই মানসিক কষ্ট লাঘব করতে এবং তাঁর মনোবল বৃদ্ধি করার জন্যই আল্লাহ এই সূরাটি নাজিল করেন। (সহিহ বুখারি হাদিস নং ৪৯৫০, ৪৯৫১, ৪৯৮৩)২. সূরা আদ-দুহার আরবি আয়াত ও বাংলা উচ্চারণসহজে তেলাওয়াত করার সুবিধার জন্য আরবি আয়াত ও তার বাংলা উচ্চারণ পাশাপাশি দেওয়া হলো:আরবি আয়াত (আরবি)বাংলা উচ্চারণ (প্রতিটি আয়াত)وَالضُّحٰی ۙ (١)১। ওয়াদ-দু হাوَالَّیۡلِ اِذَا سَجٰی ۙ (٢)২। ওয়াল-লাইলি ইযা সাজাمَا وَدَّعَکَ رَبُّکَ وَمَا قَلٰیؕ (٣)৩। মা ওয়াদ্দা‘আকা রাব্বুকা ওয়া মা কালাوَلَلۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ لَّکَ مِنَ الۡاُوۡلٰیؕ (٤)৪। ওয়ালাল আখিরাতু খাইরুল্লাকা মিনাল ঊলাوَلَسَوۡفَ یُعۡطِیۡکَ رَبُّکَ فَتَرۡضٰیؕ (٥)৫। ওয়ালাসাওফা ইউ‘তীকা রাব্বুকা ফাতারদাاَلَمۡ یَجِدۡکَ یَتِیۡمًا فَاٰوٰی۪ (٦)৬। আলাম ইয়াজিদকা ইয়াতীমান ফা-আওয়াوَوَجَدَکَ ضَآلًّا فَہَدٰی۪ (٧)৭। ওয়া ওয়াজাদাকা দাল্লান ফাহাদাوَوَجَدَکَ عَآئِلًا فَاَغۡنٰیؕ (٨)৮। ওয়া ওয়াজাদাকা আইলান ফা-আগনাفَاَمَّا الۡیَتِیۡمَ فَلَا تَقۡہَرۡؕ (٩)৯। ফা-আম্মাল ইয়াতীমা ফালা তাকহারوَاَمَّا السَّآئِلَ فَلَا تَنۡہَرۡؕ (١٠)১০। ওয়া আম্মাস-সা ইলা ফালা-তানহারوَاَمَّا بِنِعۡمَتِ رَبِّکَ فَحَدِّثۡ (١١)১১। ওয়া আম্মা বিনি‘মাতি রাব্বিকা ফাহাদ্দিছ৩. সূরা আদ-দুহার বাংলা অর্থ: আশার বার্তাএই সূরাটি মহান আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে নবীজিকে এবং পরোক্ষভাবে সকল মুমিনকে দেওয়া এক গভীর ভালোবাসার অঙ্গীকার:আয়াত নংবাংলা অর্থ১-২সকালের উজ্জ্বল আলোর শপথ, এবং রাতের শপথ, যখন অন্ধকার ঘন হয়।৩আপনার রব আপনাকে ত্যাগ করেননি, আপনাকে অপছন্দও করেননি।৪নিশ্চয়ই পরবর্তী সময় আপনার জন্য পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে উত্তম।৫আর আপনার রব আপনাকে এত দেবেন যে, আপনি খুশি হয়ে যাবেন।৬-৮তিনি কি আপনাকে ইয়াতীম পাননি? অতঃপর আশ্রয় দিয়েছেন। তিনি কি আপনাকে পথহারা পাননি? অতঃপর পথ দেখিয়েছেন। তিনি কি আপনাকে অভাবী পাননি? অতঃপর আপনাকে অভাবমুক্ত করেছেন।৯-১০অতএব, ইয়াতীমকে কষ্ট দিও না। ভিক্ষুককে ধমক দিও না।১১এবং আপনার রবের নিয়ামতের কথা প্রচার করো।[326][334][331]৪. সূরা আদ-দুহার ফজিলত ও শিক্ষাসূরা আদ-দুহা মানসিক শান্তি, হতাশা মুক্তি এবং জীবনে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক অনন্য শিক্ষা দেয়।মানসিক কষ্ট ও হতাশা দূর: এই সূরাটি আল্লাহর রহমত ও আশার বার্তা মনে করিয়ে দেয়। যখন কোনো মুমিন ব্যক্তি হতাশায় ভোগেন, তখন এই আয়াতগুলো তাঁকে ভরসা যোগায় যে, আল্লাহ তাকে কখনও ত্যাগ করেননি।উন্নতির প্রতিশ্রুতি: সূরাটি কষ্টের পর স্বস্তি ও উন্নতির প্রতিশ্রুতি দেয় (আয়াত ৪ ও ৫), যা চরম প্রতিকূলতাতেও আশাবাদী থাকতে শেখায়।মানবতার শিক্ষা: সূরার শেষ অংশ মানবসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে। এটি বিশেষভাবে ইয়াতীম ও অভাবীদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের এবং রবের নিয়ামতের কথা প্রচারের শিক্ষা দেয়।অন্যান্য সকল সূরার বাংলা উচ্চারণ অর্থ ও ফজিলত জানতে আমাদের ধর্ম ডেস্কের সাথেই থাকুন।