চলাফেরায় ভদ্রতা বজায় রাখার সহজ উপায়
শহুরে জীবনে ভদ্রতা এখন কেবল সৌজন্য নয়, বরং ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। প্রতিদিনের চলাফেরায় ছোট ছোট ভদ্র আচরণ আপনাকে আলাদা করে তুলতে পারে। আবার এই ভদ্রতাহীনতাই সহজেই মানুষকে ‘অভদ্র’ ট্যাগ দিয়ে দেয়। তাই কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে জীবন যেমন সুন্দর হবে, তেমনি চারপাশের মানুষও আপনাকে সম্মান করবে।ফোন করে খবর দেওয়াকাউকে হঠাৎ করে বাড়িতে গিয়ে চমকে দেওয়া সব সময় আনন্দের হয় না। বরং এটি অনেক সময় বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই কারও বাড়িতে যাওয়ার আগে ফোন করে জানিয়ে রাখা ভদ্রতার নিদর্শন। এতে আতিথেয়তার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পান তিনি।দরজায় নক করার অভ্যাসযে বাড়িই হোক না কেন, কোনো ঘরে প্রবেশের আগে দরজায় নক করা ভদ্র আচরণ। এতে ভেতরে থাকা ব্যক্তি অস্বস্তিতে পড়েন না। পরিবারের ছোট সদস্যদেরও এ অভ্যাস শেখানো উচিত।লিফটে ওঠা-নামার নিয়মলিফটে উঠতে গেলে লাইন মেনে দাঁড়ানো এবং আগে ভেতরের মানুষদের নামতে দেওয়া উচিত। একইভাবে সিনেমা হল বা কনসার্টে নিজের আসনে যাওয়ার সময়ও সামনের দিকে মুখ করে অগ্রসর হওয়াই ভদ্রতা।কথোপকথনে শালীনতাঅন্যের পোশাক বা জিনিস দেখে প্রশংসা করা ভালো, কিন্তু দাম কত বা কোথা থেকে কেনা—এসব প্রশ্ন করা অভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে। এতে অনেকে অস্বস্তি বোধ করেন। তাই অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন এড়িয়ে চলাই উত্তম।ব্যক্তিগত দূরত্ব বজায় রাখাযতই কাছের সম্পর্ক হোক না কেন, কিছুটা ব্যক্তিগত দূরত্ব বজায় রাখা সব সময় ভালো। কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিষয় টেনে না আনা এবং অপরকে সম্মান দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।নিচু স্বরে কথা বলারেস্তোরাঁ, অফিস কিংবা জনসমাগমস্থলে উচ্চ স্বরে কথা বলা বিরক্তিকর। তাই চেষ্টা করুন নিচু স্বরে কথা বলতে, যাতে অন্য কেউ অস্বস্তিতে না পড়েন।পরিচয় করিয়ে দেওয়ারাস্তায় হঠাৎ পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হলে সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ভদ্রতার অংশ। এতে বোঝা যায় আপনি দুজনকেই সম্মান দিচ্ছেন।পরচর্চা এড়িয়ে চলাকারও আচরণে কষ্ট পেলে সরাসরি তাঁকেই জানান। অন্যদের সঙ্গে বসে পরচর্চা করা কখনোই ভদ্রতার মধ্যে পড়ে না।পরিশেষভদ্রতা বড় কোনো বিষয় নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট সৌজন্যের প্রকাশ। এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে কেবল আপনার ব্যক্তিত্বই উজ্জ্বল হবে না, বরং চারপাশের মানুষও আপনাকে সম্মানের চোখে দেখবে।[223]