চিকুনগুনিয়ার ব্যথা কমাতে করণীয়
চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এর প্রধান সমস্যা হলো দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্ট ব্যথা, শরীর ক্লান্তি ও জ্বর। যদিও চিকুনগুনিয়ার কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই, তবে সঠিক যত্ন, সচেতনতা এবং কিছু কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে এই রোগের ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।চিকুনগুনিয়া ও এর প্রধান লক্ষণডেঙ্গুর পাশাপাশি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। এর সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
হঠাৎ জ্বর
অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা
হাঁটু, গোড়ালি, কবজি ও অন্যান্য গিঁটে ব্যথা
শরীর ক্লান্তি ও অবসাদ
অনেক সময় ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। যাঁদের আগে থেকেই বাত বা আর্থ্রাইটিসের সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে।রোগ নিশ্চিত করতে অ্যান্টিজেন, IgM ও IgG অ্যান্টিবডির রক্ত পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।চিকুনগুনিয়ার ব্যথা কমানোর উপায়১.ওষুধের ব্যবহার
জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়।
প্রদাহবিরোধী ওষুধ যেমন ন্যাপ্রোক্সেন বা ডাইক্লোফেনাক জয়েন্ট ব্যথা কমাতে কার্যকর।
মাংসপেশির টান কমাতে মেথোকার্বামল ব্যবহার করা যেতে পারে।
ওষুধ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে।২.পর্যাপ্ত তরল গ্রহণচিকুনগুনিয়ার সময়ে শরীর পানিশূন্য হয়ে যায়। তাই প্রচুর পানি, খাওয়ার স্যালাইন, ডাবের পানি ও ফলের জুস পান করলে শরীর স্বস্তি পায় এবং মাংসপেশির সংকোচন কমে।৩.ফিজিওথেরাপি ও ইলেকট্রোথেরাপিসাধারণ ফিজিওথেরাপি ধীরে ধীরে ব্যথা কমায়, তবে অনেক সময় ইলেকট্রোথেরাপি দ্রুত আরাম দিতে পারে। তবে রোগ সক্রিয় অবস্থায় হাই ইন্টেনসিটি এক্সারসাইজ বা ম্যানিপুলেশন এড়িয়ে চলা উচিত।৪.ঠান্ডা ও গরম সেঁক
প্রদাহ বেশি থাকলে বরফের সেঁক কার্যকর হতে পারে।
হালকা গরম সেঁক অনেক রোগীর ক্ষেত্রে আরাম দেয়।
এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও সংবেদনশীলতার ওপর।পুনর্বাসন ও সুস্থতায় ফেরাচিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ কমে গেলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসা জরুরি। এজন্য একটি সঠিক রিহ্যাবিলিটেশন পরিকল্পনা অনুসরণ করলে রোগী দ্রুত স্বাভাবিক সক্ষমতা ফিরে পান।প্রতিরোধই সর্বোত্তম সমাধানচিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু উভয়ই এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। তাই প্রতিরোধ ছাড়া স্থায়ী সমাধান নেই।ঘরের চারপাশে পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে হবে।মশারি ব্যবহার ও মশা প্রতিরোধক প্রয়োগ করতে হবে।ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে সচেতন থাকতে হবে।মূল বার্তাচিকুনগুনিয়ার ব্যথা অসহনীয় হলেও সঠিক যত্ন, ওষুধ ও ঘরোয়া পদক্ষেপে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে সবচেয়ে জরুরি হলো—এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করা। প্রতিরোধই এই রোগ মোকাবিলার প্রধান উপায়।সকল ধরণের খবর সবার আগে জানতে প্রথম সংবাদের সাথে থাকুন[368][360][359][357][356]