জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জকসু নির্বাচন ২০২৫: রোডম্যাপ ও তারিখ
দীর্ঘ
প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে বেজে উঠেছে
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ঢাকের বাদ্য। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের
রোডম্যাপ ঘোষণার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা খুঁজে পেয়েছে তাদের বহুল কাঙ্ক্ষিত
গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার পথ। আগামী ২৭ নভেম্বর, একটি ঐতিহাসিক দিনে, অনুষ্ঠিত
হতে যাচ্ছে এই নির্বাচন, যা নিঃসন্দেহে জবির ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা
করবে।নির্বাচনী
রোডম্যাপ ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখ: বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াসউদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে
জকসু নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে
ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। আগামী ৮ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এই
নির্বাচনী প্রক্রিয়া।নির্বাচনের মূল ধাপগুলো:
৮ অক্টোবর: নির্বাচন
কমিশন গঠন ও তাদের কার্যক্রমের শুভ সূচনা। এই কমিশনই মূলত পুরো নির্বাচন
প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে।
১১তম
দিনে: নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ
তফসিল প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হবে। এতে মনোনয়ন জমা, বাছাই, প্রচারণার সময়সীমা
এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নীতিমালা
ও আচরণবিধি প্রণয়ন: নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন
ছাত্র সংগঠন, জবি সাংবাদিক সমিতি এবং অন্যান্য অংশীজনদের (stakeholders)
সঙ্গে নিবিড় আলোচনা করে একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর নির্বাচন নীতিমালা এবং
আচরণবিধি প্রণয়ন করবে। এর লক্ষ্য হলো একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।[133]
নির্বাচন
প্রক্রিয়ার প্রধান পর্যায়গুলি:
ভোটার
তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধন: প্রতিটি শিক্ষার্থীর
ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোটার তালিকা তৈরি ও প্রয়োজনে সংশোধন
করা হবে।
মনোনয়ন
জমা, বাছাই ও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ: আগ্রহী প্রার্থীরা
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের মনোনয়ন জমা দেবেন। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য
প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচনী
প্রচারণা ও আপত্তি নিষ্পত্তি: প্রার্থীরা তাদের
নির্বাচিত হওয়ার কারণ তুলে ধরে প্রচারণার সুযোগ পাবেন। একই সাথে, নির্বাচনকে
ঘিরে যেকোনো আপত্তি বা অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি করা হবে।
চূড়ান্ত
ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা: আগামী ২৭ নভেম্বর
অনুষ্ঠিত হবে বহু প্রতীক্ষিত ভোটগ্রহণ পর্ব। একই দিনে সকলের সামনে প্রকাশ করা
হবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও বিধি মোতাবেক
সম্পন্ন হবে।
ছাত্রছাত্রীদের
প্রত্যাশা: স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাদীর্ঘদিন ধরে
জকসু নির্বাচন স্থগিত থাকায় জবি ক্যাম্পাসে এক ধরনের শূন্যতা বিরাজ করছিল। এবারের
আয়োজন তাই শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন আশা জাগিয়েছে। তাদের প্রধান দাবি হলো— এই
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীরা
বিশ্বাস করে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি
নির্বাচিত হবেন, যারা তাদের অধিকার, দাবি-দাওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাঙ্গীণ
উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবেন।জকসু শুধু
একটি ছাত্র সংসদ নয়, এটি শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর। একটি শক্তিশালী ও
সক্রিয় জকসু ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়ায়, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশে
সহায়তা করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে তাদের একটি কার্যকরী সেতুবন্ধন তৈরি
করে।
আগামী ৮ অক্টোবর থেকে যখন জকসু নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে,
তখন জবি ক্যাম্পাসে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে। আশা করা যায়, এই নির্বাচন কেবল
নতুন নেতৃত্বের জন্ম দেবে না, বরং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আরও প্রাণবন্ত,
ছাত্র-কেন্দ্রিক এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী ও
শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রত্যাশা, এই ঐতিহাসিক নির্বাচন সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন
হোক, যা জবির অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।[133]