জাতিসংঘের নীতিমালা আজ ‘অবরুদ্ধ’: মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কড়া সতর্কবার্তা
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্ব নেতাদের প্রতি এক কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে “জাতিসংঘের নীতিমালা আজ কার্যত অবরুদ্ধ” হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের উদ্বোধনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।শান্তি ও ন্যায়বিচারের স্তম্ভ দুর্বল হয়ে পড়ছেগুতেরেস বলেন, শাস্তিহীনতার সংস্কৃতি আজ বৈষম্য ও উদাসীনতার জন্ম দিচ্ছে। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন যে মূল্যবোধগুলো বিশ্ব শান্তি, মানবাধিকার ও উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত হয়েছিল, সেগুলো বর্তমানে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ও সংকটের মুখে পড়েছে।তার ভাষায় -
“শাস্তির অভাবে শান্তি ও অগ্রগতির স্তম্ভগুলো বৈষম্য এবং উদাসীনতার ভারে চাপা পড়ছে। জাতিসংঘের নীতিমালা আজ আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংকটে।”
গাজার ভয়াবহ চিত্রজাতিসংঘ মহাসচিব বিশেষভাবে গাজার মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গাজার ভয়াবহতা এখন তৃতীয় বছরের দিকে এগোচ্ছে। এটি এমন সব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল, যা মানবতার মৌলিক নীতিকে অস্বীকার করে।গুতেরেস স্বীকার করেন, মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি তিনি আর কোনো সংঘাতে প্রত্যক্ষ করেননি।আইসিজের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবিআন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গাজায় গণহত্যা মামলায় যে অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদকে আরো কার্যকর, স্বচ্ছ ও প্রতিনিধিত্বশীল করার ওপর জোর দেন।তার মতে, নিরাপত্তা পরিষদকে এখনই তাদের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্ব পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে, পরিষদের ব্যর্থতা আরও গভীর সংকট ডেকে আনতে পারে।মানবিক সাহায্য কমিয়ে দেয়ার নিন্দামানবিক সহায়তা হ্রাসের প্রবণতাকে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। গুতেরেস বলেন, সাহায্য কমানো মানে আসলে হাজারো মানুষের জন্য “মৃত্যুদণ্ড” দেওয়া এবং আরও বহু মানুষের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া।সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ব্যর্থতা
সবশেষে গুতেরেস স্পষ্ট করে বলেন, সমস্যার জন্য জাতিসংঘ সনদ দায়ী নয়। বরং এর জন্য দায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিশ্রুতির অভাব ও দায়িত্বশীলতার ঘাটতি। তার মতে, সংকট নিরসনে রাষ্ট্রগুলো যদি নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে জাতিসংঘের অস্তিত্বও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে।