চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জাল টাকাসহ যুবক আটক, সহযোগী পলাতক
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় জাল টাকাসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরের দিকে হাটবোয়ালিয়া-ভালাইপুর সড়কের নগর বোয়ালিয়া কবরস্থানের কাছে একটি দোকানে ৫০০ টাকার জাল নোট চালানোর সময় স্থানীয় গ্রামবাসী তাকে ধরে ফেলে। তবে এ সময় তার সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।আটক যুবকের নাম হৃদয় (২১), তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার নতিডাঙ্গা গ্রামের কামাল উদ্দীনের ছেলে। আর পলাতক যুবক রাব্বি (২০), একই গ্রামের বিপুল হোসেনের ছেলে।ঘটনার বিবরণস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে হৃদয় ও রাব্বি মোটরসাইকেলে করে নগর বোয়ালিয়া কবরস্থানের পাশে একটি দোকানে সিগারেট কিনতে যায়। হৃদয় দোকানদারকে একটি ৫০০ টাকার নোট দিলে দোকানদারের চোখে নোটটি সন্দেহজনক মনে হয়।নোটটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে তিনি বুঝতে পারেন যে এটি জাল টাকা। বিষয়টি টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাব্বি দ্রুত পালিয়ে যায়।দোকানদারের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং হৃদয়কে ধরে ফেলে। পরে খবর দেওয়া হয় হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পে।পুলিশের অভিযান ও উদ্ধারখবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হৃদয়কে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে আরও একটি ৫০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান পিপিএম জানান,“আটক হৃদয় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে তারা দুই বন্ধু আলমডাঙ্গা পশুহাট থেকে দুটি ৫০০ টাকার জাল নোট সংগ্রহ করেছিল। পরে পরিকল্পিতভাবে গ্রামের দোকানগুলোতে ওই জাল নোট চালানোর চেষ্টা করে।”তিনি আরও বলেন,“অভিযুক্ত হৃদয়কে থানায় আনা হয়েছে। তার সহযোগী রাব্বিকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে জাল টাকা চক্রের মূল উৎস ও সরবরাহকারীদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।”স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়াঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জানান, সম্প্রতি এলাকায় বিভিন্ন হাট-বাজারে জাল নোট লেনদেনের অভিযোগ বাড়ছে। এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষ এখন আরও সতর্ক।এক দোকানদার বলেন,“নোটটা প্রথমে দেখে মনে হলো কিছু একটা গড়বড়। আলোতে ধরেই বুঝতে পারলাম এটা আসল নয়। তখনই আমরা সবাই মিলে ছেলেটাকে ধরে ফেলি।”আইনগত পদক্ষেপ ও তদন্তপুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জাল মুদ্রা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ওসি মাসুদুর রহমান বলেন,“এটা কোনো একক ঘটনা নয়। আমরা মনে করছি, এর পেছনে একটি বড় চক্র কাজ করছে। মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যে আলমডাঙ্গা ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”