ঘূর্ণিঝড় মেলিসা ক্যারিবিয়ানে বন্যার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে
ক্যারিবিয়ান সাগরে গঠিত ট্রপিক্যাল স্টর্ম মেলিসা ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে একটি মেজর হারিকেনে রূপ নিতে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (NHC)। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এটি ক্যাটাগরি ৩ থেকে ৪ মাত্রার হারিকেন এ পরিণত হতে পারে।তবে সবচেয়ে বড় বিপদ হচ্ছে এর ধীর গতি—যার কারণে হাইতি, জ্যামাইকা, কিউবা ও ডোমিনিকান রিপাবলিকে টানা কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রাণঘাতী বন্যা দেখা দিতে পারে। কোথায় আছে মেলিসা এখনবর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ক্যারিবিয়ান সাগরের মধ্যাঞ্চলে, হাইতির দক্ষিণে কয়েকশ মাইল দূরে অবস্থান করছে।মেলিসা ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।এর বাহ্যিক বৃষ্টির ব্যান্ডগুলো ইতোমধ্যেই হাইতি, কিউবা, জ্যামাইকা ও পুয়ের্তো রিকোতে প্রবল বৃষ্টি ও দমকা বাতাস সৃষ্টি করছে। সতর্কতা ও ওয়াচ জারিহাইতি ও জ্যামাইকার উপকূলে ইতোমধ্যেই হারিকেন ও ট্রপিক্যাল স্টর্ম ওয়াচ জারি করা হয়েছে।হারিকেন ওয়াচ: আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘণ্টায় ১২০ কিমি বেগের বাতাস বইতে পারে।ট্রপিক্যাল স্টর্ম ওয়াচ: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা। সম্ভাব্য গতিপথ ও পূর্বাভাসবিশেষজ্ঞরা মেলিসার গতিপথ নিয়ে দুটি সম্ভাব্য চিত্র দিয়েছেন—১ ধীরগতি ও পশ্চিমমুখী প্রবাহমেলিসা যদি ধীর গতিতে পশ্চিমে অগ্রসর হয়, তবে এটি জ্যামাইকা বা কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি পৌঁছে পরে উত্তর-পূর্বে ঘুরে কিউবা ও বাহামার দিকে যেতে পারে।এই সম্ভাবনাই বর্তমানে বেশি বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।২ দ্রুত উত্তরমুখী বাঁকঅন্য সম্ভাবনায়, এটি দ্রুত শক্তি অর্জন করে হাইতি বা পূর্ব কিউবার ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্বে সরে যেতে পারে।তবে এই সম্ভাবনা এখন কিছুটা কম। ভয়াবহ বৃষ্টিপাতের ঝুঁকিঘূর্ণিঝড়টির ধীর গতি মানে, একই এলাকায় টানা কয়েকদিন বৃষ্টি, যা মারাত্মক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি করছে।হাইতি, জ্যামাইকা, ডোমিনিকান রিপাবলিক ও কিউবায় পরবর্তী এক সপ্তাহে ১০ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।পুয়ের্তো রিকো ও বাহামা অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।এই অতিবৃষ্টি বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় প্রাণঘাতী ভূমিধস ও হঠাৎ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। জ্যামাইকায় ভয়ের মধ্যে বাসিন্দারাজ্যামাইকার মাউন্টেন ভিউয়ের বার্গার গলি এলাকার বাসিন্দা বেভারলি আন্ডারহিল বলছেন—“প্রতি বছরই যখন বৃষ্টি হয়, আমাদের ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে যায়। এবার ভয়টা আরও বেশি।”স্থানীয় প্রশাসন গলির ধারে বালুর বস্তা (sandbags) বসিয়ে রেখেছে, তবে বাসিন্দারা বলছেন এটি পর্যাপ্ত নয়।“এই বালুর বস্তা সাময়িক সুরক্ষা দেবে, কিন্তু ঝড়ের তীব্রতা যদি বাড়ে, তাহলে বিপর্যয় ঠেকানো যাবে না,” — যোগ করেন বেভারলি।এদিকে স্থানীয় এমপি ও কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সমুদ্রের উষ্ণতা বাড়াচ্ছে শক্তিক্যারিবিয়ানের পশ্চিমাঞ্চল এখন অ্যাটলান্টিকের সবচেয়ে উষ্ণ অঞ্চল, যা মেলিসার জন্য শক্তির জোগান দিচ্ছে। যদি ঝড়টি ভূমির সংস্পর্শে না আসে, তবে এটি দ্রুতই শক্তিশালী হারিকেনে পরিণত হতে পারে। [682]বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য ঝুঁকি কম হলেও, দক্ষিণ ফ্লোরিডা কিছুটা প্রভাব অনুভব করতে পারে।তবে ক্যারিবিয়ান দ্বীপগুলোর জন্য আগামী সপ্তাহটি হতে যাচ্ছে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ।আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সবাইকে অনুরোধ করছেন;সতর্ক থাকুন, সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন, এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন।